সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলায় শতবর্ষী বাউলগানের আসরে হামলা, মঞ্চ ও বাদ্যযন্ত্র ভাঙচুর
সিলেটে বাউলগানের আসরে হামলা, মঞ্চ ভাঙচুর

সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলায় শতবর্ষী বাউলগানের আসরে হামলা

সিলেট বিভাগের বিশ্বনাথ উপজেলার শ্রীপুর গ্রামে গত রোববার রাতে একদল ব্যক্তি হামলা চালিয়ে ঐতিহ্যবাহী বাউলগানের আসর পণ্ড করে দিয়েছে। এই ঘটনায় মঞ্চ, বাদ্যযন্ত্র ও সাউন্ড সিস্টেম ভাঙচুর করা হয়েছে, যা স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

ঘটনার বিবরণ

ইব্রাহিম শাহ মাজারের পাশে তিন দিনব্যাপী আয়োজিত বাউলগানের আসরের দ্বিতীয় দিন রোববার রাতে হঠাৎ শতাধিক লোক সংঘবদ্ধ হয়ে হামলা চালায়। হামলাকারীরা মঞ্চে উঠে এলোপাতাড়ি ভাঙচুর শুরু করে, বাদ্যযন্ত্র ও দর্শনার্থীদের চেয়ার ভেঙে ফেলে। একটি ভিডিওতে দেখা যায়, তারা মঞ্চে দাঁড়িয়ে নানা স্লোগান দিয়ে পরে মিছিল করে চলে যায়।

আয়োজকদের মতে, প্রায় ১০০ বছর ধরে এই মাজারকে কেন্দ্র করে নির্দিষ্ট সময়ে বাউলগানের আসর অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে, যেখানে সিলেটের বিভিন্ন অঞ্চলের ভক্ত ও দর্শনার্থীরা অংশ নেন। এবারের আয়োজনেও ঐতিহ্য বজায় রাখা হয়েছিল, কিন্তু হামলার কারণে তা ব্যাহত হয়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পুলিশ ও স্থানীয় প্রতিক্রিয়া

বিশ্বনাথ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গাজী মাহবুবুর রহমান জানান, ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, গানবাজনা মাজারের মূল ভেন্যুর বাইরে একটি মঞ্চে হচ্ছিল, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের ঘুমে ব্যাঘাত ঘটাচ্ছিল।

ওসি আরও বলেন, "উভয় পক্ষই নিজেদের ভুল স্বীকার করেছে। রাতে গান বাজিয়ে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটানো যেমন ঠিক হয়নি, তেমনি অপর পক্ষের গানবাজনা বন্ধ করাও ঠিক হয়নি। স্থানীয়ভাবে তারা বিষয়টি সমাধান করে নেবে এবং তারিখও নির্ধারণ করেছে, তাই কোনো পক্ষ মামলা করেনি।"

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

হামলার পরবর্তী ঘটনা

মাজারের খাদেম দুদু মিয়া অভিযোগ করেন যে, হামলাকারীরা ঘটনার আগে কোনো অভিযোগ করেনি এবং পরে পাশের মসজিদের জানালার গ্লাস ভাঙচুর করে মাজারের ভক্তদের দোষারোপ করার চেষ্টা করে। তবে, পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মাজার বা মূল ভেন্যুতে কোনো ক্ষতি হয়নি এবং অনুষ্ঠানটি সফলভাবে শেষ হয়েছে।

এই ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভিডিও আকারে ছড়িয়ে পড়ে, যা স্থানীয় সম্প্রদায় ও সংস্কৃতি প্রেমীদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। ভবিষ্যতে গানের আসর বসালে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকিও হামলাকারীরা দিয়েছে বলে জানা গেছে।