মৌসুমী ভৌমিকের স্মৃতিচারণে বাউল সুনীল কর্মকার
মৌসুমী ভৌমিকের স্মৃতিচারণে বাউল সুনীল কর্মকার

গানের মানুষ, সংগ্রাহক ও গবেষক মৌসুমী ভৌমিক বলেছেন, "সুনীলদার সেই আশ্চর্য কণ্ঠস্বরই আসলে আমাদের সকলকে মোহিত করেছে। তিনি ছিলেন একজন জন্মান্ধ মানুষ, যিনি এই ভুবনকে দেখেছেন ধ্বনি দিয়ে। তাঁর সেই অন্তদর্শনের পরিচয় আমি প্রথম দিনই পেয়েছিলাম।"

গত ২৪ এপ্রিল ২০২৬, শুক্রবার ময়মনসিংহের টাউনহল প্রাঙ্গণে 'সুনীল আলোয় বাউল সুর' শীর্ষক বাউল সুনীল কর্মকার স্মরণ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। বিকেল ৩টা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত চলা এই আয়োজনে দুই বাংলার জনপ্রিয় এই শিল্পী দীর্ঘ ২০ বছর পর ময়মনসিংহের মাটিতে পা রেখে কিংবদন্তি বাউল সাধক সুনীল কর্মকারকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করেন।

স্মৃতিচারণে মৌসুমী ভৌমিক

স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে মৌসুমী ভৌমিক বলেন, ২০০৬ সালে গবেষণার কাজে তিনি প্রথমবার ময়মনসিংহে আসেন। মূলত বাংলার লোকগানে 'বিরহ' চেতনা নিয়ে কাজ করার সময় তিনি সুনীল মুনশির (সুনীল কর্মকার) সংস্পর্শে আসেন। তিনি বলেন, "আমি শিল্পী হিসেবে নয়, গবেষক হিসেবে এসেছিলাম। রবিন ভাইয়ের মাধ্যমে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ হয়। আজও মনে আছে, প্রথম দিন যখন তাঁর বাড়িতে যাই, তিনি ঘরে ছিলেন না। কিন্তু বাইরে থেকেই তাঁর কণ্ঠস্বর শুনতে পাচ্ছিলাম। সেই মুহূর্তেই আমি তাঁর আধ্যাত্মিক শক্তির স্পর্শ পাই।"

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

রেকর্ডিংয়ের স্মৃতি

অনুষ্ঠানে মৌসুমী ভৌমিক বাউল সুনীল কর্মকারের সঙ্গে কাটানো রেকর্ডিংয়ের মুহূর্তগুলো তুলে ধরেন। তিনি জানান, উদীচী কার্যালয়ে সুনীল কর্মকার যখন হারমোনিয়াম হাতে গান গাইছিলেন, সেই সময়কার প্রতিটি শব্দ, এমনকি কথা বলার ফাঁকে সিগারেট খাওয়ার শব্দগুলোও তাঁর সংগ্রহে রয়েছে।

সুনীল কর্মকারের উদারতা ও সাধকসত্তার কথা উল্লেখ করে মৌসুমী ভৌমিক বলেন, "সুনীলদার মতো মানুষরা না ছিলেন হিন্দু, না ছিলেন মুসলমান— তাঁরা ছিলেন প্রকৃত সাধক। আজকের এই কঠিন সময়ে আমাদের উদার হতে হবে এবং এই গুণটি আমাদের তাঁদের কাছ থেকেই শিখতে হবে।"

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

অনুষ্ঠানে বাউল সুনীল কর্মকারের জীবন ও কর্ম নিয়ে আরও আলোচনা করেন লোকসঙ্গীত গবেষক ড. আব্দুর রহমান খোকন এবং ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোঃ রুকুনোজ্জামান রোকন। বাউল সুনীল কর্মকার স্মরণায়োজন কমিটির সদস্য সচিব শামীম আশরাফ তাঁর বক্তব্যে বলেন, সুনীল কর্মকার কেবল বাউল ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন মানবপ্রেমী সাধক ও শান্তির সপক্ষের প্রতিবাদী মানুষ।

স্মরণসভার আলোচনা শেষে সুর ও বাণীতে শ্রদ্ধা জানান উপমহাদেশের প্রখ্যাত বাউল সাধক সিরাজ উদ্দিন খান পাঠান, ফকির আবুল সরকার, হাফেজ তারা, লতিফ সরকার এবং বারেক বিদেশিসহ দেশব্যাপী ছড়িয়ে থাকা তাঁর শিষ্য ও ভক্তবৃন্দ। অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে আবেগঘন পরিবেশে মৌসুমী ভৌমিক নিজেও সুনীল কর্মকারের কাছে শেখা 'পুবেতে উদয়ের ভানু' গানটির কয়েক কলি গেয়ে শোনান। টাউনহল প্রাঙ্গণে জড়ো হওয়া শত শত বাউলপ্রেমী ও ভক্তদের উপস্থিতিতে এই আয়োজন বাউলদের আত্মার মিলনমেলায় পরিণত হয়।