সুরের পাশাপাশি রান্নার জগতে আশা ভোঁসলের অনন্য পদচারণা
ভারতীয় সংগীতের অমর কণ্ঠশিল্পী আশা ভোঁসলে শুধু সুরের মায়ায় নয়, রান্নার দক্ষতায়ও ছিলেন অনন্য। তার সংগীতজীবনের মতোই খাদ্যরসিকতা ও গৃহস্থালির কাজে ছিল গভীর অনুরাগ। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, তিনি ছিলেন একজন সত্যিকারের গৃহিণী ও খাদ্যপ্রেমী, যার রান্না সবাইকে মুগ্ধ করত।
রান্নায় আশা ভোঁসলের বিশেষত্ব ও প্রিয় পদ
আশা ভোঁসলের হাতের রান্না শুধু সাধারণ মানুষই নয়, তার বোন ও সংগীতশিল্পী লতা মুঙ্গেশকরকেও মুগ্ধ করেছিল। বিশেষ করে তার বানানো শামি কাবাব ছিল লতা মুঙ্গেশকরের অত্যন্ত প্রিয়। এছাড়াও, তার রেস্তোরাঁগুলোর সিগনেচার আইটেম হিসেবে পরিচিত ছিল মা কা ডাল এবং বিরিয়ানি, যা মানুষের হৃদয় জয় করেছিল।
বিশ্বজুড়ে আশা ভোঁসলের রেস্তোরাঁ চেইনের বিস্তার
গানের পাশাপাশি আশা ভোঁসলে একটি রেস্তোরাঁ চেইন প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, যা সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। তার রেস্তোরাঁগুলোর অবস্থান ও সংখ্যা নিম্নরূপ:
- দুবাইতে নিজের নামে একটি ভারতীয় রেস্তোরাঁ খুলেছিলেন, যার খাবার স্থানীয়দের খুবই প্রিয় ছিল।
- লন্ডন ও ম্যানচেস্টারে একটি করে রেস্তোরাঁ পরিচালনা করতেন।
- বার্মিংহামে দুটি রেস্তোরাঁ ছিল তার মালিকানায়।
- কুয়েতে পাঁচটি রেস্তোরাঁয় ভারতীয় খাবার পরিবেশন করা হতো।
- দোহা, কাতার, বাহরাইন, আবুধাবির মতো মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোয় তার নামকরা রেস্তোরাঁ ছিল।
সারা বিশ্বে তার প্রায় ১০টি রেস্তোরাঁ ছিল, যা ভারতীয় খাবারের প্রচার ও প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল।
রান্নার প্রতি গভীর ভালোবাসা ও সামাজিক উদ্যোগ
আশা ভোঁসলের রান্না করা ও খাবার পরিবেশনের প্রতি ছিল অগাধ ভালোবাসা। তিনি নিজেই রান্না করতে পছন্দ করতেন এবং এক সাক্ষাৎকারে সেফ কোটে তাকে দেখতে খুব ভালো লাগে বলে জানিয়েছিলেন। ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির মানুষজনের জন্য তিনি নিয়মিত প্রচুর খাবার রান্না করতেন, যা তার সামাজিক উদারতার পরিচয় দেয়।
আশা ভোঁসলের বিদায় ও শোকের ছায়া
কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী আশা ভোঁসলে রোববার (১২ এপ্রিল) কোটি কোটি ভক্তকে কাঁদিয়ে চলে গেলেন না ফেরার দেশ। ৯২ বছর বয়সে মুম্বাইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই নন্দিত শিল্পী। তার মৃত্যু সংগীত জগতের পাশাপাশি রান্নার প্রেমিকদের মধ্যেও গভীর শোকের ছায়া ফেলেছে।



