ভারতীয় সংগীতের কিংবদন্তি আশা ভোসলের প্রয়াণ
ভারতীয় সংগীত জগতের উজ্জ্বলতম নক্ষত্র ও 'মেলোডি কুইন' হিসেবে পরিচিত আশা ভোসলে ৯২ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। রোববার, ১২ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে মুম্বাইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর একদিন আগেই হৃদরোগ ও শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যার কারণে শনিবার তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।
তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে পুত্র আনন্দ ভোসলে জানান, 'মা আজ চলে গেছেন। আগামীকাল সকাল ১১টায় তার বাসভবনে শেষ শ্রদ্ধা জানানো যাবে এবং বিকেল ৪টায় শিবাজি পার্কে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে।'
আট দশকের গৌরবময় সংগীত জীবন
আট দশকের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে আশা ভোসলে ১২ হাজারের বেশি গান গেয়েছেন। শাস্ত্রীয় সংগীত থেকে শুরু করে পপ, গজল এবং ভজন—সবক্ষেত্রেই ছিল তার অবাধ বিচরণ। তার গাওয়া কিছু কালজয়ী গানের মধ্যে:
- 'আজা আজা, ও হাসিনা জুলফন ওয়ালি' (তিসরি মঞ্জিল, ১৯৬৬)
- 'পিয়া তু অব তো আজা' (কারাভান, ১৯৭১)
- 'ইয়ে মেরা দিল' (ডন, ১৯৭৮)
এই গানগুলো আজও সংগীতপ্রেমীদের হৃদয়ে বিশেষ স্থান দখল করে আছে।
আশা ভোসলের নিজের পছন্দের সেরা ১০টি গান
হাজার হাজার গানের মধ্যে তার নিজের পছন্দের গান কোনগুলো? ২০১৪ সালে এক সাক্ষাৎকারে এ নিয়ে সংগীতশিল্পী নিজেই মুখ খুলেছিলেন। ওই সাক্ষাৎকারটিতে নিজের গাওয়া সেরা ১০টি গানের তালিকা শেয়ার করেছিলেন আশা ভোসলে, যা তার সংগীত প্রতিভা ও পরিশ্রমের স্বাক্ষর বহন করে চলেছে।
সেরা গানের তালিকায় শীর্ষে রেখেছিলেন 'ইন আঁখো কি মাস্তি কে' গানটি। এটি ১৯৮১ সালে মুক্তি পাওয়া 'উমরাও জান' চলচ্চিত্রের জন্য গেয়েছিলেন তিনি। দুই নম্বরে রাখেন 'লেকিন' (১৯৯১) সিনেমায় গাওয়া গান 'ঝুটে ন্যায়ন বোলে'। এর পরেই আছে 'কালী ঘাটা ছায়ে' গানটি।
বাকি গানগুলো যথাক্রমে:
- 'আইয়ে মেহেরবান'
- 'শোক নজর কি বিজলিয়ান'
- 'রোজ রোজ আঁখো তলে'
- 'চেইন সে হামকো কভি'
- 'সাজনা হ্যায় মুঝে'
- 'মেরা কুছ সামান'
- 'রাজ কি বাত হ্যায়'
সংগীতে বিশেষ অবদান ও নিরীক্ষা
বিশেষ কাজ হিসেবে আশা ভোসলে জানিয়েছিলেন, 'উমরাও জান' চলচ্চিত্রের জন্য তিনি তার স্বাভাবিক পিচের চেয়ে দুই ধাপ নিচু স্বরে গেয়েছিলেন, যা তাকে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার এনে দেয়। আবার 'ইজাজত' ছবিতে আরডি বর্মণের সঙ্গে তার 'ডাবল ভয়েস' ইফেক্টের নিরীক্ষা আজও সংগীত বোদ্ধাদের কাছে বিস্ময় হয়ে আছে।
সুরের জাদুকর আশা ভোসলের প্রয়াণে বিশ্বজুড়ে তার কোটি কোটি ভক্ত এবং সংগীত অঙ্গনে গভীর শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে। তার সংগীত উত্তরপ্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করে যাবে বহু বছর ধরে।



