সংগীতশিল্পী অরিজিৎ সিং শনিবার (২৫ এপ্রিল) ৩৯ বছরে পদার্পণ করলেন। দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে তার কোটি কোটি ভক্ত, যারা তার জাদুকরী কণ্ঠের গানে বুঁদ হয়ে থাকেন।
কণ্ঠস্বর বদলানোর গল্প
যার মায়াবী কণ্ঠে মুগ্ধ আট থেকে আশি, একটা সময় কিনা সেই কণ্ঠস্বরই অরিজিতের জন্য সবথেকে বড় দুশ্চিন্তার কারণ ছিল। এক পডকাস্টে এসব কথা সংগীতশিল্পী নিজেই জানিয়েছিলেন। অরিজিৎ জানান, ক্যারিয়ারের শুরুতে মানুষ তার কণ্ঠ পছন্দ করত না। তাই নিজের গানের গলা বদলে ফেলতে হয়েছিল তাকে।
গায়কের কথায়, ‘মানুষ আমার কণ্ঠস্বর পছন্দ করত না। আমি যখন ওই কণ্ঠে গান গাইতাম কেউ পছন্দ করত না। আমায় তাই আমার কণ্ঠস্বর বদলাতে হয়েছিল। বলা যায় এক প্রকার গলা ভেঙে ভেঙে আজকের এই টেক্সচার বানিয়েছি। নিজের গলাকে নিজেই তৈরি করেছি। নিজের উপর অনেক অত্যাচার করেছি যাতে ভয়েসের প্রজেকশন বদলাতে পারি। রাত জেগে জেগে রেওয়াজ করেছি। সারা রাত এমনভাবে প্র্যাকটিস করতাম যে, ক্লান্তিতে গলা ভেঙে বসে যেত।’
ক্যারিয়ারের শুরু ও সাফল্য
মুম্বাইয়ে একটি ছোট ভাড়াবাড়িতে থেকে শঙ্কর-এহসান-লয় বা প্রীতমের মতো মিউজিক ডিরেক্টরদের অধীনে মিউজিক প্রোগ্রামার হিসেবে কাজ করেছেন দীর্ঘ সময়। বলিউডে প্লেব্যাক গায়ক হিসেবে ‘মার্ডার ২’ ছবির ‘ফির মহব্বত’ দিয়ে যাত্রা শুরু করেন অরিজিৎ। তবে তার ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরে যায় ২০১৩ সালে ‘আশিকি ২’ ছবির ‘তুম হি হো’ গানের মাধ্যমে। গানটি তাকে রাতারাতি সুপারস্টার বানিয়ে দেয়। এরপর থেকে আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। একের পর এক সব শ্রোতাপ্রিয় গান উপহার দিয়ে গেছেন এই সংগীতশিল্পী। শাহরুখ খানের ‘চেন্নাই এক্সপ্রেস’ থেকে শুরু করে অনুরাগ বসুর ‘বারফি’ সহ উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সিনেমায় গান গেয়েছেন।
প্লেব্যাক ছাড়ার সিদ্ধান্ত
কিন্তু ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে হঠাৎ করেই সবাইকে চমকে দিয়ে এক ঘোষণায় অরিজিৎ জানান, তিনি আর নতুন কোনো ছবিতে প্লেব্যাক করবেন না। সই করা প্রজেক্টগুলো শেষ করেই তিনি সিনেমার গায়ক হিসেবে ইতি টানবেন। তবে গান থেকে দূরে সরছেন না, এখন থেকে স্বাধীনভাবে গান এবং চলচ্চিত্র নির্মাণের দিকেই সব মনোযোগ দিতে চান এই জীবন্ত কিংবদন্তি।
জনপ্রিয়তা অটুট
সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া এ সংগীতশিল্পীর ‘রানা’ গানটি প্রমাণ করে দিয়েছে যে, প্লেব্যাক ছাড়লেও তার জনপ্রিয়তায় বিন্দুমাত্র ভাটা পড়েনি। অরিজিৎ সিংয়ের এই যাত্রাপথ শেখায় যে, প্রতিভা থাকলেও কঠোর পরিশ্রম এবং নিজেকে প্রতিনিয়ত নতুন করে গড়ার মানসিকতাই একজন মানুষকে কিংবদন্তি করে তোলে।



