প্রবীণ তদন্ত সাংবাদিক সালেম সামাদ ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন
প্রবীণ সাংবাদিক সালেম সামাদের মৃত্যু, ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিলেন

প্রবীণ তদন্ত সাংবাদিক সালেম সামাদের জীবনাবসান

দেশের খ্যাতনামা তদন্ত সাংবাদিক সালেম সামাদ দীর্ঘদিন ধরে ক্যান্সারের সাথে লড়াইয়ের পর রবিবার সকালে মৃত্যুবরণ করেছেন। তার বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর। ধানমন্ডির একটি হাসপাতালে স্থানীয় সময় সকাল ১১টা ৩০ মিনিটের দিকে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

শেষকৃত্য ও শোক প্রকাশ

সালেম সামাদের জানাজা ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়েছে। মৃত্যুর পর লেখক মোহিউদ্দিন আহমেদ ফেসবুকে শোক প্রকাশ করে বলেন, "আমাদের বন্ধু সালেম সামাদ আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। আমি তার চেয়ে সাহসী সাংবাদিক খুব কমই দেখেছি। তার আত্মার শান্তি কামনা করছি।"

জীবন ও কর্মের সংক্ষিপ্ত বিবরণ

সালেম সামাদ ১৯৫২ সালে ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি শাহীন স্কুলে পড়াশোনা করেন এবং ১৯৭৬ সালে তৎকালীন জগন্নাথ কলেজ থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। প্রায় দুই দশক পর ১৯৯৪ সালে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন।

তার সাংবাদিকতা জীবন শুরু হয় ১৯৯১ সালে, যখন তিনি পরিবেশ ও উন্নয়ন বিষয়ক কাজের জন্য ওয়াশিংটন ভিত্তিক অশোকা ফেলোশিপ পান। ১৯৯৬ সালে তিনি ওয়াশিংটন ডিসির অ্যাডভোকেসি ইনস্টিটিউটে ফোর্ড ফাউন্ডেশন ফেলোশিপ প্রোগ্রামেও অংশ নেন।

পেশাগত সাফল্য ও অবদান

সালেম সামাদের লেখা টাইম ম্যাগাজিন, ইন্ডিয়া টুডে, আউটলুক, আল জাজিরা, হেরাল্ড ম্যাগাজিন, সাউথ এশিয়া ম্যাগাজিন, দ্য ডেইলি স্টার, ঢাকা ট্রিবিউন, ডেইলি এশিয়ান এজ, উইকলি ঢাকা কুরিয়ার এবং ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স রিভিউ সহ অসংখ্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।

দক্ষিণ এশিয়া জুড়ে ৩৫ বছরেরও বেশি অভিজ্ঞতা নিয়ে তদন্ত সাংবাদিকতায় তিনি সংঘাত, নিরাপত্তা, জোরপূর্বক অভিবাসন, ইসলামী মিলিট্যান্সি, শাসন, নির্বাচনী গণতন্ত্র এবং প্রেস স্বাধীনতা নিয়ে ব্যাপকভাবে প্রতিবেদন করেছেন। তার কর্মজীবনে তিনি একাধিক পুরস্কার ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছেন।

আন্তর্জাতিক সংস্থায় পরামর্শক ভূমিকা

সালেম সামাদ ইউএসএআইডি, ইউনিসেফ, গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ইমপ্রুভড নিউট্রিশন (গেইন) এবং দুবাই কেয়ার্স সহ বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংস্থার মিডিয়া পরামর্শক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

ব্যক্তিগত সংগ্রাম ও দেশত্যাগ

২০০২ সালের ২৯ নভেম্বর রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে সালেম সামাদ গ্রেফতার হন। মৃত্যুর আগে তিনি কারাগারে থাকাকালীন শারীরিক নির্যাতনের শিকার হওয়ার কথা উল্লেখ করেছিলেন। প্রায় ৫০ দিন কারাগারে কাটানোর পর তিনি মুক্তি পান।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ফেসবুক পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন যে ২০০৪ সালে তাকে দেশত্যাগে বাধ্য করা হয়েছিল। ছয় বছর পর তিনি দেশে ফিরে আসেন এবং তারপর থেকে বাংলাদেশেই বসবাস করছিলেন।

সালেম সামাদের মৃত্যু বাংলাদেশের সাংবাদিকতা জগতে একটি অপূরণীয় ক্ষতি। তার সাহসী ও নিষ্ঠাবান সাংবাদিকতা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।