ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম বলেছেন, সমাজকে সুস্থ, সুন্দর ও মাদকমুক্ত রাখতে এবং যুবসমাজকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে সংস্কৃতি চর্চার কোনও বিকল্প নেই। বুধবার (২৯ এপ্রিল) বিকালে রাজধানীর বাংলাদেশ শিশু একাডেমি মিলনায়তনে ‘আন্তর্জাতিক নৃত্য দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা, সম্মাননা প্রদান ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সুস্থ সমাজে সংস্কৃতির গুরুত্ব
আবদুস সালাম বলেন, সুস্থ সমাজ ও শরীরের জন্য শিক্ষার পাশাপাশি সংস্কৃতির চর্চা অপরিহার্য। কিন্তু বর্তমান প্রজন্মের একটি বড় অংশ মোবাইল ফোনের অতিরিক্ত ব্যবহারের কারণে শেকড় থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। আমাদের কিশোর ও তরুণ সমাজ এখন একটি ডিভাইসের ভেতরেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ছে; যা তাদের সৃজনশীল বিকাশের পথে অন্তরায়।
নৃত্যকলার বর্তমান অবস্থা
ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, বাঙালির সংস্কৃতির অন্যতম প্রধান অনুষঙ্গ ‘নৃত্য’ আজ অনেকটা ক্ষয়িষ্ণু। তরুণ সমাজ নিজেদের মেধা ও মনন বিকাশের বিস্তৃত জগত থেকে বিচ্যুত হয়ে পড়ছে; যা ভবিষ্যতের জন্য শুভ লক্ষণ নয়। মাদক সমস্যা প্রসঙ্গে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, যদি একজন তরুণ নৃত্য, সংগীত বা খেলাধুলার সঙ্গে যুক্ত থাকে, তবে মাদক তাকে কখনোই গ্রাস করতে পারবে না।
অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান
তিনি অভিভাবকদের উদ্দেশে বলেন, সন্তানদের শুধু পাঠ্যপুস্তকের পড়ায় সীমাবদ্ধ না রেখে তাদের সৃজনশীল ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে উৎসাহিত করুন। প্রতিটি শিক্ষিত পরিবারে এক সময় যে সাংস্কৃতিক আবহ ছিল, তা ফিরিয়ে আনা জরুরি।
ডিএসসিসির সাংস্কৃতিক উদ্যোগ
আবদুস সালাম জানান, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতায় পরিচালিত সাংস্কৃতিক কেন্দ্রগুলোতে নৃত্য ও সংগীতসহ নানা বিষয়ে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি এসব কার্যক্রমকে আধুনিকায়ন এবং প্রশিক্ষকদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছেন। তরুণদের মানসম্মত প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করতে করপোরেশন বদ্ধপরিকর।
নৃত্যকলায় উচ্চশিক্ষার সুযোগ
তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান সময়ে নৃত্যকলায় উচ্চশিক্ষার (অনার্স ও মাস্টার্স) সুযোগ তৈরি হওয়া একটি ইতিবাচক দিক। একটি সংস্কৃতিমনা সমাজ গঠনে সরকারের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানের অন্যান্য অংশ
বাংলাদেশ নৃত্যশিল্পী সংস্থার সদস্য অধ্যাপক ড. নিগার চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন– সংস্থার উপদেষ্টা ও একুশে পদকপ্রাপ্ত নৃত্যশিল্পী আমানুল হক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যতত্ত্ব বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. সোমা মুমতা এবং বিশিষ্ট নৃত্য পরিচালক মুনমুন আহমেদ। আলোচনা সভা শেষে গুণী শিল্পীদের সম্মাননা প্রদান এবং মনোজ্ঞ নৃত্য পরিবেশিত হয়।



