পাবলোর জলহস্তী রক্ষায় কলম্বিয়াকে আম্বানিপুত্রের প্রস্তাব
পাবলোর জলহস্তী রক্ষায় কলম্বিয়াকে আম্বানির প্রস্তাব

কলম্বিয়ার নদীগুলোতে দাপিয়ে বেড়ানো কুখ্যাত মাদকসম্রাট পাবলো এসকোবারের জলহস্তীদের হত্যার পরিবর্তে নিজের চিড়িয়াখানায় আশ্রয় দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন ভারতের শীর্ষ ধনী মুকেশ আম্বানির ছোট ছেলে অনন্ত আম্বানি। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) এক বিবৃতিতে তিনি এ আগ্রহ প্রকাশ করেন।

জলহস্তীদের ইতিহাস ও বর্তমান পরিস্থিতি

আফ্রিকান বংশোদ্ভূত এ জলহস্তীগুলো আশির দশকে ব্যক্তিগত সংগ্রহ হিসেবে কলম্বিয়ায় এনেছিলেন এসকোবার। ১৯৯৩ সালে তার মৃত্যুর পর এগুলো বন্য পরিবেশে ছড়িয়ে পড়ে এবং বংশবিস্তার করতে থাকে। বর্তমানে মাগদালেনা নদীর তীরবর্তী এলাকায় এসব জলহস্তীর আক্রমণে জেলেরা অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন, যা দেশটির বাস্তুসংস্থানের জন্যও হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ কারণে কলম্বিয়া সরকার এই প্রাণীগুলোকে মেরে ফেলার বা ‘কালিং’ (Culling)-এর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।

অনন্ত আম্বানির প্রস্তাব

অনন্ত আম্বানি জানান, তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে কলম্বিয়া সরকারকে এ সিদ্ধান্ত স্থগিত করার অনুরোধ করেছেন। পরিবর্তে, তিনি ৮০টি জলহস্তীকে বৈজ্ঞানিক উপায়ে ভারতের গুজরাটে তার নিজস্ব বন্যপ্রাণী কেন্দ্র ‘ভান্তারা’য় স্থানান্তরের প্রস্তাব দিয়েছেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ভান্তারা বন্যপ্রাণী কেন্দ্র

ভারতের গুজরাট রাজ্যে অবস্থিত ভান্তারাকে বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও সংরক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে দাবি করা হয়। ভারতের কেন্দ্রীয় চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, এ কেন্দ্রে ইতিমধ্যে শত শত হাতি ছাড়াও ৫০টি ভাল্লুক, ১৬০টি বাঘ, ২০০টি সিংহ এবং ৯০০টি কুমিরসহ বিভিন্ন বিরল প্রজাতির প্রাণী রয়েছে।

পরিকল্পনার বিস্তারিত

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অনন্ত আম্বানি জলহস্তীগুলোর জন্য পশুচিকিৎসক দল এবং বিশেষ পরিবহণের ব্যবস্থা নিশ্চিত করে একটি বিস্তারিত পরিকল্পনা জমা দিয়েছেন। এছাড়া ভান্তারায় জলহস্তীগুলোর জন্য উপযুক্ত প্রাকৃতিক পরিবেশ তৈরির প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তিনি।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অনন্ত আম্বানির বক্তব্য

অনন্ত আম্বানি বলেন, ‘এই ৮০টি জলহস্তী নিজেরা পছন্দ করে কলম্বিয়ায় জন্মায়নি কিংবা তারা বর্তমান পরিস্থিতির জন্যও দায়ী নয়। তারা সংবেদনশীল জীব। যদি আমাদের কাছে মানবিক উপায়ে তাদের বাঁচানোর সামর্থ্য থাকে, তবে আমাদের চেষ্টা করা উচিত’।

পরিবেশবাদীদের উদ্বেগ

তবে গুজরাটের জামনগরে অবস্থিত এ কেন্দ্রের পরিবেশ নিয়ে পরিবেশবাদীদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। সেখানকার গ্রীষ্মকালীন তাপমাত্রা অনেক সময় ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যায়, যা জলহস্তীদের জন্য প্রতিকূল হতে পারে বলে অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন।