হোবেকি?-র সাবোধ এবার সিকিমে, ভারতের গেটওয়েতে শিল্পীর নতুন গ্রাফিতি
হোবেকি?-র সাবোধ এবার সিকিমে, ভারতের গেটওয়েতে

বাংলাদেশের গেরিলা শিল্পী হোবেকি?-র সাবোধ সিরিজের সর্বশেষ instalmentটি প্রথমবারের মতো সীমান্ত পেরিয়ে ভারতের সিকিম রাজ্যে দেখা গেছে। মঙ্গলবার (৩০ জুন, ২০২৬) সিকিমের বিখ্যাত গ্যাংটক-রংপো সড়কের মাজিতার নালা ব্রিজের দক্ষিণ-পশ্চিম উইং দেওয়ালে স্টেনসিল গ্রাফিতিটি আঁকা হয়েছে। রংপো ‘সিকিমের গেটওয়ে’ নামে পরিচিত বলে ইউএনবি জানিয়েছে।

গ্রাফিতির বর্ণনা ও অবস্থান

গ্রাফিতিটি প্রায় ২০ ফুট লম্বা ও ১২ ফুট চওড়া, এবং ডান পাশে শিল্পীর নাম ‘হোবেকি?’ লেখা রয়েছে। আর্ট এজেন্সি ARTCON-এর তথ্যমতে, কাজটি দৃশ্যমান রয়েছে এবং হোবেকি?-র ইনস্টাগ্রাম পেজ ও ARTCON-এর ডকুমেন্টেশনের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়েছে। অবস্থানটি আকস্মিক নয়: রংপো পশ্চিমবঙ্গ সীমান্তের কাছে তিস্তা-রংপো নদী করিডরে অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার, যেখানে চলাচল, আগমন, নথিপত্র ও অনুমতি দৈনন্দিন জীবনের অংশ। এই ভূগোল গ্রাফিতিটিকে একটি সীমান্ত ঘটনায় পরিণত করেছে।

সাবোধের নতুন রূপ

কাজটিতে হোবেকি?-র আইকনিক দাড়িওয়ালা চরিত্র সাবোধকে একটি ভিন্ন ভঙ্গিতে দেখা যায়। সে নগ্ন দেহে, এলোমেলো চুল ও ছেঁড়া জিন্স পরে একটি হ্যামকেতে শুয়ে আছে, কিন্তু হ্যামকেটি কাঁটাতারের সাথে বাঁধা। ডান হাতে তার তার কাটার, বাম হাত ঝুলছে মাটিতে রাখা বালতির দিকে। প্রথম দৃষ্টিতে দৃশ্যটি শিথিল মনে হলেও প্রতিটি বস্তু শান্তভাবে সেই শান্তিকে জটিল করে তোলে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সাবোধ সিরিজের প্রেক্ষাপট

বছরের পর বছর ধরে সাবোধ বাংলাদেশের সমসাময়িক রাস্তার শিল্পের সবচেয়ে পরিচিত চরিত্র। আগের সিরিজে তাকে ছেঁড়া জিন্সে, প্রায়ই উজ্জ্বল সূর্য ধারণ করা খাঁচা নিয়ে দৌড়াতে দেখা যেত, যার সাথে ‘পালিয়ে যাও’ বার্তা থাকত। সিরিজটি সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে অস্পষ্ট, এবং অভিবাসন, সেন্সরশিপ, হতাশা ও জনসচেতনতা নিয়ে উদ্বেগের সাথে যুক্ত। সর্বশেষ, ৭ মার্চ ২০২৬-এ ঢাকার আগারগাঁও ওল্ড এয়ারপোর্ট এলাকায় ‘স্টপ ওয়ার’ সিরিজের দ্বিতীয় কাজে সাবোধ দেখা গিয়েছিল। পরে ওই ম্যুরালটি জাতীয় প্যারেড স্কোয়ারের গেট নম্বর ১১-এর কাছে দেওয়াল ভাঙার সময় সরিয়ে ফেলা হয়, যা ভক্তদের কাছে পাবলিক আর্টের বেদনাদায়ক মুছে ফেলা হিসেবে বিবেচিত হয়।

শিল্পীর বক্তব্য ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

ARTCON-এর প্রতিষ্ঠাতা এ আর কে রিপন ইউএনবিকে বলেন, “আগের সাবোধ প্রায়ই ভয়, জরুরি অবস্থা বা পতনের দ্বারা চালিত গতিশীল চরিত্র ছিল। এই সাবোধ পালায় না; সে এসে পৌঁছেছে। সে সীমান্ত পেরিয়ে ভয়ের শরণার্থী নয়, বরং প্রতীকী পথিক হিসেবে শুয়ে আছে। সে আতঙ্কে পালাচ্ছে না; অদ্ভুত আত্মবিশ্বাসের সাথে বিশ্রাম নিচ্ছে, যেন সে ইতিমধ্যেই সেই রেখা অতিক্রম করেছে যা অন্যদের এখনও কাগজপত্র, নীতি ও অনুমতির মাধ্যমে মোকাবিলা করতে হয়।” কাজটির সময়রেখা এটিকে রাজনৈতিকভাবে শক্তিশালী করে তোলে। ভারত ২৮ জুন ২০২৬-এ বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য পর্যটন ভিসা আবেদন পুনরায় চালু করে, যা ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর প্রায় দুই বছর বন্ধ ছিল। দুই দিন পর সাবোধ ভারতে আবির্ভূত হয়, যা কবিতার মতো করে তাকে ভারতের প্রথম প্রতীকী পর্যটকে পরিণত করে। রিপন বলেন, এটিকে আক্ষরিক ভ্রমণ দাবি নয়, বরং শৈল্পিক উসকানি হিসেবে দেখা উচিত।