‘প্রেশার কুকার’ সিনেমার পোস্টার প্রকাশ, ঈদে মুক্তি পাবে নারীকেন্দ্রিক গল্প
ঈদুল ফিতরে বড় পর্দায় মুক্তি পেতে যাচ্ছে রায়হান রাফী পরিচালিত সিনেমা ‘প্রেশার কুকার’। শনিবার সন্ধ্যায় ছবির প্রথম অফিশিয়াল পোস্টার প্রকাশ করা হয়েছে, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করে নির্মাতা জানিয়েছেন, ‘দেখা হচ্ছে ঈদুল ফিতরে, আপনার কাছের সিনেমা হলে।’
পোস্টারে চার অভিনেত্রীর উপস্থিতি
অফিশিয়াল পোস্টারে একসঙ্গে দেখা গেছে চার অভিনেত্রীকে। চিত্রনায়িকা শবনম বুবলীর সঙ্গে নাজিফা তুষি, স্নিগ্ধা চৌধুরী ও মারিয়া শান্ত উপস্থিত রয়েছেন। নায়কবিহীন এই সিনেমার পোস্টারের ভিজ্যুয়ালেই স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে, নারীকে কেন্দ্র করেই এগোবে এ সিনেমার গল্প।
জানা গেছে, ঢাকার নাগরিক জীবনের চাপ, সামাজিক দ্বন্দ্ব ও ব্যক্তিগত সংগ্রাম—এই বাস্তবতার ভেতর দিয়ে চার নারীর ভিন্ন ভিন্ন যাত্রা তুলে ধরা হবে সিনেমায়। পোস্টার প্রকাশ করে রাফী ফেসবুকে লিখেছেন, ‘এই ঢাকা শহর আসলে মেয়েদের জন্য একটা প্রেশার কুকার। তাদের চিৎকার সহ্য না করতে পারলে এই প্রেশার কুকারে সিটি বেজে ওঠে। না তারা এই শহর থেকে বের হতে পারে, না এই শহর তাদের থেকে…।’
নতুন ধারা তৈরির আশা
নির্মাতা আরও জানিয়েছেন, এই সিনেমার মাধ্যমে বাণিজ্যিক বাংলা সিনেমায় নতুন এক ধারা তৈরি করার আশা করছেন তিনি। ছবিটি নির্মিত হয়েছে ইমপ্রেস টেলিফিল্মের ব্যানারে। প্রযোজনা করছেন ফরিদুর রেজা সাগর ও রায়হান রাফী। এটি শুধু একটি সিনেমার মুক্তিই নয়; বরং ইমপ্রেস টেলিফিল্মের জন্যও বিশেষ উপলক্ষ। কারণ, দীর্ঘ ২১ বছর পর ঈদ উৎসবে সিনেমা নিয়ে ফিরছে প্রতিষ্ঠানটি। ২০০৪ সালে তারা সর্বশেষ ঈদে প্রেক্ষাগৃহে এনেছিল চলচ্চিত্র ‘কখনো মেঘ কখনো বৃষ্টি’।
বুবলী ও রাফীর পুনর্মিলন
এর আগে বুবলী ও রায়হান রাফী একসঙ্গে কাজ করেছিলেন চরকি প্রযোজিত সিনেমা ‘৭ নাম্বার ফ্লোর’-এ। সেই ছবিতে বুবলীর অভিনয় ও চরিত্র নির্বাচন দর্শক ও সমালোচকদের নজর কাড়ে। বিরতির পর আবার এই জুটির একসঙ্গে কাজ করা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। নতুন ছবি প্রসঙ্গে বুবলী নিজেও বেশ আশাবাদী। চরিত্র ও গল্পের প্রতি নিজের আগ্রহের কথা জানিয়ে তিনি আগে দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রথম আলোকে বলেছিলেন, ‘গল্পটা আমার কাছে দারুণ লেগেছে। চরিত্রটাও খুব ইন্টারেস্টিং। মনে হয়েছে, এখানে নতুন কিছু করার সুযোগ আছে, এই জায়গাটা আমাকে সবচেয়ে বেশি টেনেছে।’
নারীকেন্দ্রিক গল্পের গুরুত্ব
পরিচালক ও প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা গেছে, এই সিনেমার সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো, এতে প্রচলিত অর্থে কোনো নায়ক নেই। পুরো গল্প আবর্তিত হবে নারী চরিত্রদের ঘিরে। ঢালিউডে যেখানে এখনো নায়কনির্ভর গল্পই বেশি দেখা যায়, সেখানে এমন নারীকেন্দ্রিক চলচ্চিত্র আলাদা গুরুত্ব পাচ্ছে। এটি বাংলা সিনেমায় একটি সাহসী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে, যা দর্শকদের নতুন অভিজ্ঞতা দিতে পারে।
