প্রথম আলো ভবনে 'আলো' শিল্পকর্ম প্রদর্শনী: ধ্বংসস্তূপে সৃজনশীল প্রতিবাদ
প্রথম আলো ভবনে 'আলো' শিল্পকর্ম প্রদর্শনী চলছে

প্রথম আলো ভবনে 'আলো' শিল্পকর্ম প্রদর্শনী: ধ্বংসস্তূপে সৃজনশীল প্রতিবাদ

রাজধানীর কারওয়ান বাজারে অবস্থিত প্রথম আলো ভবনে উগ্রবাদীদের হামলা ও অগ্নিসংযোগের শিকার স্থানে ব্যতিক্রমী শিল্পকর্ম প্রদর্শনী 'আলো' চলছে। আজ শনিবার প্রদর্শনীর চতুর্থ দিনে দর্শনার্থীদের ভিড় লক্ষণীয়। প্রদর্শনীটি প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা এবং বিকেল ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকছে।

ধ্বংসস্তূপে শিল্পের উদ্ভব

প্রদর্শনীতে পুড়ে যাওয়া কম্পিউটার, যন্ত্রাংশ, ভাঙা টেবিল-চেয়ার, বই ও নথিপত্র স্থাপন করা হয়েছে। শিল্পী মাহবুবুর রহমান এই প্রদর্শনীটি করেছেন, যা ১৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হয়ে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে। দর্শনার্থীরা গণমাধ্যমে হামলা ও অগ্নিসংযোগের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং হামলাকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

দর্শনার্থীদের প্রতিক্রিয়া

গ্যালারি কায়ার কর্ণধার চিত্রকর গৌতম চক্রবর্তী প্রদর্শনী দেখে বলেন, 'প্রথম আলোর এই ভবনে আমি আগেও এসেছিলাম, কিন্তু এমন ধ্বংসযজ্ঞের সাক্ষী হতে হবে, এটা কখনো ভাবিনি।' তিনি যোগ করেন, 'যুক্তরাষ্ট্রের হলোকাস্ট মেমোরিয়াল মিউজিয়াম থেকে পৃথিবী যেমন শিক্ষা নেয়নি, প্রথম আলোর এই পুড়ে যাওয়া ভবন থেকে বাংলাদেশের মানুষ শিক্ষা নেবে কি না, সময়ই তা বলবে।'

ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. ইবনে মিজান প্রদর্শনী দেখে বলেন, 'যারা এই ধ্বংসাত্মক কাজ করেছে, তারা নিকৃষ্ট উদাহরণ সৃষ্টি করেছে। প্রদর্শনীটি ধ্বংসযজ্ঞকে ফুটিয়ে তুলেছে, দর্শকরা উপলব্ধি করতে পারবেন ভবনটিতে কী ঘটেছিল।' তিনি মতপ্রকাশের স্বাধীনতার গুরুত্ব তুলে ধরেন।

সমাজের বিভিন্ন স্তরের প্রতিক্রিয়া

সিরাজগঞ্জ থেকে আসা প্রদীপ সাহা বলেন, '১৮ ডিসেম্বর ভবনে আগুন দেয়ার সময় স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিলাম। প্রদর্শনীটি ইতিবাচক, কারণ এটি দেখায় ধ্বংসস্তূপের মধ্যেও শিল্পকর্ম সম্ভব।' সোনালী ব্যাংকের সাবেক উপমহাব্যবস্থাপক গোলাম সারওয়ার যোগ করেন, 'প্রথম আলো শুধু সংবাদমাধ্যম নয়, এটি কালের সাক্ষী।'

ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশের শিক্ষার্থী নুরে সুবাহ বিভা বলেন, 'মানুষ যখন মনুষ্যত্ব হারায়, তখনই এমন ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। প্রদর্শনীর মাধ্যমে প্রথম আলো বার্তা দিয়েছে যে আলোকে আগুন দিয়ে স্তব্ধ করা যায় না।'

বুদ্ধিজীবী পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য

শহীদ বুদ্ধিজীবী মুনির হায়দার চৌধুরীর ছেলে আসিফ মুনীর বলেন, 'প্রদর্শনীটি ধ্বংসাত্মক আক্রমণের সৃজনশীল প্রত্যুত্তর। গণমাধ্যমকে দমিয়ে দেওয়া যায় না।' শহীদ বুদ্ধিজীবী মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরীর ছেলে তানভীর হায়দার চৌধুরী যোগ করেন, 'এই আক্রমণ সংঘবদ্ধ ছিল এবং দেশের গণতন্ত্রের জন্য অশনিসংকেত। দোষীদের আইনের আওতায় আনতে হবে, নাহলে গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা থেমে যাবে।'

প্রদর্শনীটি প্রতিদিন রাজধানী ও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করছে, যারা গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষায় একত্রিত হচ্ছেন।