হ্যালি বেরি অভিনীত 'ক্রাইম ১০১' সিনেমা বাংলাদেশে মুক্তি পাচ্ছে ১৩ ফেব্রুয়ারি
আগামী ১৩ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিকভাবে মুক্তি পাওয়ার দিনেই বাংলাদেশের স্টার সিনেপ্লেক্সে প্রদর্শিত হতে যাচ্ছে হলিউডের রোমাঞ্চকর থ্রিলার সিনেমা 'ক্রাইম ১০১'। মাল্টিপ্লেক্সটির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। ডন উইন্সলোর একই নামের উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত এই সিনেমায় অভিনয় করেছেন হ্যালি বেরি, ক্রিস হেমসওয়ার্থ, মার্ক রাফালো, ব্যারি কেওগান, মনিকা বারবারো, কোরি হকিন্স, জেনিফার জেসন লেই, নিক নল্টে সহ একদল তারকা।
সিনেমার প্রিমিয়ার ও মুক্তির তারিখ
গত ২৮ জানুয়ারি লন্ডনে এই সিনেমার প্রিমিয়ার অনুষ্ঠান সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। ১৩ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিকভাবে মুক্তি পাওয়ার পাশাপাশি একই দিনে বাংলাদেশের স্টার সিনেপ্লেক্সেও সিনেমাটি প্রদর্শিত হবে। এটি একটি বড় ধরনের মুক্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা বাংলাদেশের দর্শকদের জন্য বিশেষ সুযোগ তৈরি করেছে।
কাস্টিং ও নির্মাণ প্রক্রিয়া
২০২৩ সালে উপন্যাসটির স্বত্বের জন্য একটি দরপত্র লড়াইয়ে নেটফ্লিক্সকে হারিয়ে অ্যামাজন জয়লাভ করে। প্রাথমিকভাবে পেড্রো প্যাসকল ক্রিস হেমসওয়ার্থের সাথে অভিনয়ের জন্য আলোচনায় ছিলেন, কিন্তু 'দ্য ফ্যান্টাস্টিক ফোর: ফার্স্ট স্টেপস' সিনেমার সময়সূচির দ্বন্দ্বের কারণে তিনি বাদ পড়েন। ২০২৪ সালের মে মাসে মার্ক রাফালো লু লুবেসনিক চরিত্রে অভিনয়ের জন্য যোগ দেন। অক্টোবরে হ্যালি বেরি, কোরি হকিন্স এবং মনিকা বারবারো অপ্রকাশিত ভূমিকায় অভিনয়ের জন্য চুক্তিবদ্ধ হন। নভেম্বরে জেনিফার জেসন লেই, নিক নল্টে, টেট ডোনোভান, ডেবোরা হেডওয়াল, ডেভন বোস্টিক, পল অ্যাডেলস্টাইন, ড্রু পাওয়েল এবং ম্যাথিউ ডেল নেগ্রো অভিনেতাদের তালিকাভুক্ত করা হয়। অক্টোবরেই লস অ্যাঞ্জেলেসে সিনেমার শুটিং শুরু হয়, যা নির্মাণ প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে।
গল্পের সারসংক্ষেপ
সিনেমার গল্প ক্যালিফোর্নিয়ার উপকূলীয় এলাকায় ঘটে যাওয়া কিছু অত্যন্ত নিখুঁত জুয়েলারি ডাকাতি নিয়ে আবর্তিত হয়েছে। এই ডাকাতিগুলোতে কোনো ভুল নেই, কোনো অপ্রয়োজনীয় সহিংসতা নেই—সবকিছু যেন বইয়ের নিয়ম মেনে করা হয়েছে। একজন অভিজ্ঞ পুলিশ ডিটেকটিভ বিশ্বাস করেন যে বড় ক্রাইমগুলো সব সময় কিছু অলিখিত নিয়ম মেনে চলে, যেগুলোকে তিনি 'ক্রাইম ১০১' নামে অভিহিত করেন। তাঁর ধারণা অনুযায়ী এসব ডাকাতি একজনই করছে, যে এই নিয়মগুলো হুবহু মেনে চলে। কিন্তু সমস্যা শুরু হয় তখনই, যখন একটি ডাকাতিতে অস্বাভাবিক কিছু ঘটে এবং নিয়ম ভাঙার ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
ডিটেকটিভ বুঝতে পারেন যে এটা শুধু সাধারণ ডাকাতি নয়, এর পেছনে আছে আরও বড় খেলা। এদিকে একজন তরুণ, বুদ্ধিমান অপরাধী ধীরে ধীরে এই জগতের গভীরে ঢুকে পড়ে। প্রশ্ন হলো, সে কি নিয়ম মেনে খেলবে, নাকি একটাই ভুল সব কিছু ধ্বংস করে দেবে? এমন অনেক প্রশ্ন সিনেমাটি সম্পর্কে দর্শকদের আগ্রহী করে তুলেছে, যা থ্রিলার ঘরানার একটি অনন্য সংযোজন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
দর্শক প্রত্যাশা ও গুরুত্ব
বার্ট লেটন পরিচালিত এই সিনেমাটি হলিউডের একটি বড় বাজেটের প্রযোজনা, যা বিশ্বব্যাপী দর্শকদের কাছে উচ্চ প্রত্যাশা তৈরি করেছে। বাংলাদেশে একই দিনে মুক্তি পাওয়ায় স্থানীয় দর্শকরা আন্তর্জাতিক মানের সিনেমা উপভোগ করার সুযোগ পাচ্ছেন। স্টার সিনেপ্লেক্সের মাধ্যমে এই মুক্তি বাংলাদেশের বিনোদন শিল্পে একটি মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হতে পারে, যা ভবিষ্যতে আরও আন্তর্জাতিক সিনেমা দ্রুত মুক্তির পথ সুগম করবে।
