মমতার বিরুদ্ধে তাপসপত্নীর অভিযোগ: ব্যবহার করে ফেলে দেওয়া হয়েছে
মমতার বিরুদ্ধে তাপসপত্নীর অভিযোগ: ব্যবহার করে ফেলে দেওয়া হয়েছে

পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতার পালাবদলের পর প্রকাশ্যে আসছে অনেকের মনের ক্ষোভ ও বিক্ষোভের কথা। সেই একই ক্ষোভ শোনা গেল প্রয়াত অভিনেতা তাপস পালের স্ত্রী নন্দিনী পালের কথায়। ১৯৯৭ সাল থেকে পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে টালিউড অভিনেতা তাপস পাল ছিলেন। কিন্তু বিপদে নিজের দলকে পাশে পাননি প্রয়াত অভিনেতা। পরে দলনেত্রীর সঙ্গে অভিনেতার দূরত্ব তৈরি হয়। কেন এমন কথা বললেন অভিনেতার স্ত্রী নন্দিনী পাল?

তাপসের রাজনৈতিক যাত্রা ও বঞ্চনার কথা

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তাপসপত্নী বলেন, তখনো তৃণমূল কংগ্রেস গঠন হয়নি। তাপস ধান্ধাবাজ মানুষ ছিল না। ওর একটাই সমস্যা ছিল— কোনো কিছু মাথা দিয়ে চালনা করত না, সবটাই অন্তর দিয়ে ভাবত। তাই মাশুল গুনতে হয়েছে। সেই সময়ে রাজ্যে লাল পতাকার দাপট ছিল। নব্বইয়ের শেষের দিকে টালিউডের কোনো তারকাই দিদির সঙ্গে যুক্ত ছিল না। তখন বহুবার তাপসের সঙ্গে দেখা করতে তাদের বাড়ি এসেছিলেন তৃণমূল নেত্রী।

নন্দিনী বলেন, ছোট থেকেই মানুষের জন্য ভাবত তাপস। তারপর দিদির অনেক অনুরোধে তৃণমূলে যোগ দিয়েছিল তাপস। তখন বামফ্রন্ট সরকার। সেই সময়ে ওর যত সিনেমা হলে প্রদর্শন হতো, তা চলতে দেওয়া হতো না। অনেক সমস্যায় পড়তে হয়েছিল তাকে। তিনি বলেন, খুব কঠিন সময়ে ওকে মানুষ ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেন। প্রাণ দিয়ে কাজ করেছিল তাপস। কিন্তু শেষে দলের কাউকে নিজের পাশে পায়নি।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

গরু পাচার ও চিটফান্ড ইস্যুতে তাপসের অবস্থান

তাপসপত্নী বলেন, তাপস গরু পাচার ও চিটফান্ড নিয়ে স্বর তুলেছিলেন। ক্ষমতায় আসার পর দিদি (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে যান। তখন তাপসের প্রয়োজন ফুরিয়ে যায় ওর কাছে। চিটফান্ডের কোনো টাকা আত্মসাৎ করেনি তাপস। পরিস্থিতির শিকার হয় ও। চৌমুহায় যে কথা বলেছিলেন তাপস, তা অবশ্য কোনো দিনই মেনে নেননি নন্দিনী ও তাদের মেয়ে সোহিনী পাল। পরবর্তীকালে অভিনেতা নিজেও অনুভব করেছিলেন, তিনি ভুল করেছেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

নন্দিনী বলেন, চৌমুহাকাণ্ডে তাপসের মন্তব্য— ওই একটাই ভুল ছিল তার। মা-বাবাকে দেখেননি, আমাদের সম্পর্ক ঠিক নয়— এসব ভুল তথ্য রটানো হয়েছিল। ওর ভাগ্য খারাপ ছিল।

রাজ্য শাসন ও বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগ

তাপসপত্নী বলেন, এই পালাবদল জরুরি ছিল। এতদিন রাজ্য চালানো হচ্ছিল না, একটা ক্লাব চালানো হচ্ছিল। দিদি আর দল তাপসের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছিলেন। দিদি যেভাবে রাজ্য শাসন করলেন, তার থেকে বামফ্রন্ট শাসন ভালো ছিল— এমনকি ইংরেজ শাসনও ভালো ছিল। ব্যবহার করে তাপসকে ছুড়ে ফেলে দিয়েছিলেন দিদি।

নন্দিনী বলেন, একবার ফোনে কথা বলতে চেয়েছিল ও। দিদি ফোন তোলেননি। আমি চাই দিদি অনেক বছর বেঁচে থাকুন, যাতে উপলব্ধি করতে পারেন কী কী ভুল করেছেন। তিনি বলেন, কোনো দিন সাবেক মুখ্যমন্ত্রীকে ক্ষমা করতে পারবেন না তিনি। তাই তার মনে হয়, এই পরিবর্তনের দরকার ছিল।