চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের নবাবগঞ্জ সরকারি কলেজ মাঠে আয়োজিত চার দিনব্যাপী ভ্রাম্যমাণ বইমেলার অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় ‘গ’ ক্যাটাগরিতে সবগুলো পুরস্কার জিতেছে বাবুডাইং আলোর পাঠশালার শিক্ষার্থীরা। বিজয়ীদের বই উপহার দেওয়া হয়েছে। গত মঙ্গলবার এই চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয় এবং বুধবার সমাপনী অনুষ্ঠানে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
প্রতিযোগিতার বিবরণ
চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় চারটি ক্যাটাগরি ছিল। কেজি, নার্সারি ও প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য বিষয় ছিল 'যেমন খুশি'। দ্বিতীয় থেকে চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য বিষয় ছিল 'গ্রামীণ দৃশ্য'। পঞ্চম থেকে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য 'শরৎকাল' এবং অষ্টম থেকে উন্মুক্ত বয়সের জন্য 'চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার ইতিহাস-ঐতিহ্য' নির্ধারিত ছিল।
‘গ’ ক্যাটাগরিতে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জন করে যথাক্রমে বাবুডাইং আলোর পাঠশালার সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী অর্জুন সাইচুরি, কাঞ্চন সাইচুরি এবং পঞ্চম শ্রেণির অনুরাধা মার্ডি। এই তিনজনসহ মোট পাঁচ শিক্ষার্থী ১৫ কিলোমিটার দূর থেকে এসে প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়।
বইমেলা ও অন্যান্য আয়োজন
গত রোববার বিকেলে নবাবগঞ্জ সরকারি কলেজ মাঠে চার দিনব্যাপী ভ্রাম্যমাণ বইমেলার আয়োজন করে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় এই মেলায় স্থানীয়ভাবে সহযোগিতা করে জেলা প্রশাসন। মেলা চলাকালীন স্টলে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের প্রকাশনাসহ দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রখ্যাত প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের ১০ হাজারেরও বেশি বই ছিল।
মেলার শেষ দিন বিকেল চারটায় শিক্ষার্থীদের নিয়ে আবৃত্তি প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। প্রাক-প্রাথমিক থেকে তৃতীয় শ্রেণি, চতুর্থ থেকে সপ্তম শ্রেণি এবং অষ্টম থেকে উন্মুক্ত বয়স—এই তিনটি ক্যাটাগরিতে আবৃত্তি প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন শাহনেয়ামতুল্লাহ কলেজের প্রভাষক নওসাবাহ নওরীন ও ভ্রাম্যমাণ বইমেলা ইনচার্জ আল মাইন। প্রতি ক্যাটাগরি থেকে একজন করে পুরস্কার প্রদান করা হয়।
আলোচনা সভা
সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন নওসাবাহ নওরীন, বাবুডাইং আলোর পাঠশালার প্রধান শিক্ষক আলী উজ্জামান নূর এবং মেটলাইফ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ব্রাঞ্চ ম্যানেজার মিলন হোসেন প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, আলোকিত মানুষ গড়তে বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের এই উদ্যোগ আশাপ্রদ। বইমেলায় এসে যেমন বই কেনা যায়, তেমনি নানা ধরনের বই সম্পর্কেও ধারণা পাওয়া যায়। তারা এই উদ্যোগ চলমান রাখার আশা প্রকাশ করেন।



