গত কয়েক বছর বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদকের চেয়ার ছিল আলোচনার কেন্দ্রে। কয়েক বছর ধরে আলোচনায় থাকা এই পদটি ঘিরে জায়েদ খান, নিপুণ আক্তার ও ডিপজলের প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও শেষ পর্যন্ত পুরো মেয়াদজুড়ে কার্যত নিষ্ক্রিয়ই ছিল সাধারণ সম্পাদক পদ। শেষ পর্যন্ত সেই ‘সাধারণ সম্পাদক’ ছাড়াই অনেকটা নীরবে শেষ হলো বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির ২০২৪–২৬ মেয়াদের কার্যনির্বাহী কমিটির মেয়াদ।
বর্তমান সাধারণ সম্পাদকের অনুপস্থিতি
বর্তমান সাধারণ সম্পাদক মনোয়ার হোসেন ডিপজলকে মেয়াদের প্রায় পুরো সময়ই এফডিসিতে দেখা যায়নি। সমিতির কোনো গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানেও তার উপস্থিতি ছিল না। নির্বাচনের পর দায়িত্ব পালনে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে পরাজিত প্রার্থী নিপুণ আক্তারের করা রিটকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া জটিলতা পরিস্থিতিকে আরও ঘোলাটে করে তোলে। ডিপজল ও নিপুণ একে অপরের বিরুদ্ধে সমালোচনায় মেতে ওঠেন।
রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রভাব
২০২৪ সালের জুলাইয়ের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর ডিপজল ও নিপুণ দুজনই ধীরে ধীরে আড়ালে চলে যান। একই সময়ে সভাপতি মিশা সওদাগরও অধিকাংশ সময় দেশের বাইরে অবস্থান করেন। ফলে কমিটির কার্যক্রমে নেতৃত্বের শূন্যতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তবে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের অনুপস্থিতিতেও সমিতির কার্যক্রম পুরোপুরি থেমে থাকেনি বলে দাবি করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সক্রিয় সদস্যদের ভূমিকা
কার্যনির্বাহী সদস্য রুমানা ইসলাম মুক্তি ও সনি রহমানসহ কয়েকজন সদস্য দায়িত্ব ভাগ করে কার্যক্রম চালিয়ে যান। মুক্তি বলেন, ‘আমাদের সাধারণ সম্পাদক খুব অসুস্থ, তার চোখে গুরুতর সমস্যা হয়েছে। উনি চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে আছেন। অন্যদিকে সভাপতিকে দেশে আসা-যাওয়ার মধ্যে থাকতে হচ্ছে। কারণ, তার পুরো পরিবার দেশের বাইরে থাকে। তবে, সমিতির সব সিদ্ধান্ত সভাপতির সঙ্গে আলোচনা করেই নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সভাপতি বিদেশে যাওয়ার আগে সহসভাপতি ডি এ তায়েব ভাইকে দায়িত্ব দিয়ে গেছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ছাড়াও আমাদের কমিটির অনেকে দেশের বাইরে আছেন। কয়েকজন সদস্য অসুস্থ, আবার বিশেষ কারণে কয়েকজন সদস্য সমিতিতে আসতে পারেননি। কিন্তু তাদের সবার সঙ্গে যোগাযোগ আছে। সমিতির কাজ কিন্তু থেমে ছিল না। আমরা কয়েকজন অ্যাকটিভ ছিলাম। একটি কমিটি থেকে চার-পাঁচজন কাজ করা মানেই কিন্তু পুরো কমিটি কাজ করা।’
নতুন নির্বাচনের প্রস্তুতি
এদিকে নতুন নির্বাচনের প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে। আগামী জুন বা জুলাইয়ে শিল্পী সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে জানা গেছে। ইতোমধ্যে নতুন নেতৃত্বে আসার ঘোষণা দিয়েছেন রুমানা ইসলাম মুক্তি ও সনি রহমান। সাধারণ সম্পাদক পদে মুক্তি এবং সাংগঠনিক সম্পাদক পদে লড়বেন সনি। নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়ে মুক্তি বলেন, ‘শিল্পীদের পাশে থাকার জন্যই নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। শিল্পীদের জন্য যা করা প্রয়োজন তা-ই করার চেষ্টা করব। প্রথম লক্ষ থাকবে সমিতির সদস্যদের মধ্যে যাঁরা ভাড়া বাসায় থাকেন, তাদের জন্য আবাসনের ব্যবস্থা করা।’
অন্যদিকে, সাবেক কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক জয় চৌধুরীও সাধারণ সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘দুই বছরে সমিতির মূল কার্যক্রম যেন হয়ে দাঁড়িয়েছে দুটি পিকনিক আর দুটি ইফতার পার্টি। এর বাইরেও অনেক কিছু করা যায়। সাধারণ সম্পাদক পদে বিজয়ী হলে সেই কাজগুলো করতে চাই। তবে এমন কোনো আশা দেব না যেটা পূরণ করা সম্ভব না।’
নির্বাচন সামনে রেখে এক মাসের মধ্যেই ইশতেহার ঘোষণা ও পূর্ণাঙ্গ প্যানেল প্রকাশের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন প্রার্থীরা।



