পেড্ডি মুক্তি পেল আজ: রামচরণের ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দেবে কি?
পেড্ডি মুক্তি পেল আজ: রামচরণের ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দেবে কি?

পেড্ডি: রামচরণের ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার গল্প

তেলেগু তারকা রামচরণের ক্যারিয়ারে এমন কিছু মুহূর্ত আছে, যেগুলো তাঁকে কেবল জনপ্রিয় নায়ক নয়, বরং ভারতীয় সিনেমার অন্যতম বড় তারকায় পরিণত করেছে। ‘মাগধীরা’, ‘রঙ্গস্থলম’ কিংবা ‘আরআরআর’—প্রতিটি ছবিই তাঁর তারকাখ্যাতিকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। কিন্তু সাফল্যের এই দীর্ঘ যাত্রায় ব্যর্থতাও কম ছিল না। বিশেষ করে ‘গেম চেঞ্জার’-এর প্রত্যাশার তুলনায় হতাশাজনক ফলের পর অনেকেই অপেক্ষায় ছিলেন, রামচরণ কীভাবে ঘুরে দাঁড়ান।

সেই প্রশ্নের উত্তর হয়ে এসেছে ‘পেড্ডি’। মুক্তির আগেই ছবিটি দক্ষিণ ভারতজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। অগ্রিম টিকিট বিক্রি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উন্মাদনা, ট্রেলার নিয়ে দর্শকের আগ্রহ—সব মিলিয়ে ‘পেড্ডি’ এখন ২০২৬ সালের অন্যতম আলোচিত ভারতীয় ছবি। ‘পেড্ডি’ আজ প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে।

গ্রামবাংলার মাটি থেকে উঠে আসা এক ক্রীড়াবিদের গল্প

‘পেড্ডি’কে শুধু একটি স্পোর্টস ড্রামা বললে ভুল হবে। পরিচালক বুচি বাবু সানা ছবিটিকে পরিচয় করিয়েছেন একজন মানুষের আত্মপরিচয় খোঁজার গল্প হিসেবে। রামচরণ নিজেও প্রচারণায় বলেছেন, ছবিটি একজন ‘ক্রসওভার অ্যাথলেট’-এর গল্প। এখানে একাধিক খেলাধুলার উপস্থিতি রয়েছে, তবে ক্রীড়া শুধু বাহ্যিক উপাদান। মূল গল্প একজন মানুষের নিজের শিকড়, পরিবার, গ্রাম এবং সম্প্রদায়ের পরিচয় পুনরুদ্ধারের সংগ্রামকে ঘিরে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ট্রেলার ও প্রচারণা দেখে বোঝা যায়, ছবিটি গ্রামীণ আবহে নির্মিত। রামচরণকে দেখা যাচ্ছে সম্পূর্ণ নতুন রূপে—রুক্ষ চেহারা, ঘন দাড়ি, মাটির মানুষের ভাষা ও শরীরী অভিব্যক্তি নিয়ে। অনেক সমালোচক ইতিমধ্যে বলছেন, ‘রঙ্গস্থলম’-এর পর এটিই হতে পারে তাঁর সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং চরিত্র।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অগ্রিম বুকিংয়ে ঝড়

ভারতীয় চলচ্চিত্রে প্রথম দিনের আয় এখন অনেকটাই নির্ভর করে অগ্রিম বুকিংয়ের ওপর। সেই দিক থেকে ‘পেড্ডি’ ইতিমধ্যে শক্ত অবস্থানে রয়েছে। শিল্পসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, মুক্তির আগেই ছবিটির বিশ্বব্যাপী অগ্রিম বুকিং প্রায় ৩৫ কোটি রুপি ছুঁয়েছে। ভারতে ব্লক বুকিং বাদ দিয়েও আয় ৮ কোটির বেশি। আর ব্লক বুকিংসহ সেই সংখ্যা ১৩ কোটির ওপরে পৌঁছেছে।

তেলেগু সংস্করণেই সবচেয়ে বেশি সাড়া মিলেছে। অন্ধ্র প্রদেশ ও তেলেঙ্গানার বিভিন্ন শহরে দর্শকের আগ্রহ চোখে পড়ার মতো। বিশেষ করে বিজয়ওয়াড়া ও হায়দরাবাদে অনেক শো আগেভাগেই পূর্ণ হয়ে গেছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, ছবিটি প্রথম দিনে বিশ্বব্যাপী ৭০ থেকে ১০০ কোটির মধ্যে আয় করতে পারে। যদিও প্রকৃত হিসাব নির্ভর করবে দর্শকের প্রতিক্রিয়ার ওপর।

‘গেম চেঞ্জার’-এর পর রামচরণের জন্য বড় পরীক্ষা

‘আরআরআর’-এর বিশ্বব্যাপী সাফল্যের পর রামচরণের ক্যারিয়ার নতুন মাত্রা পেয়েছিল। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে তাঁর নাম উঠে আসে, হলিউডেও আলোচনা শুরু হয়। কিন্তু পরবর্তী ছবি ‘গেম চেঞ্জার’ প্রত্যাশিত ব্যবসা করতে পারেনি। ফলে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছিলেন, আরআরআরের সাফল্য কি কেবল রাজামৌলির প্রভাব ছিল, নাকি রামচরণ নিজেও সমান শক্তিশালী বক্স অফিস তারকা? ‘পেড্ডি’ সেই প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে।

এই ছবির মাধ্যমে রামচরণ আবারও এমন একটি চরিত্রে ফিরেছেন, যেখানে তারকাসুলভ চাকচিক্যের চেয়ে অভিনয় দক্ষতাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অনেক ভক্তের মতে, রামচরণের সেরা পারফরম্যান্সগুলো এসেছে তখনই, যখন তিনি গ্রামীণ বা সাধারণ মানুষের চরিত্রে অভিনয় করেছেন।

জাহ্নবী কাপুরের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ ছবি

বলিউড অভিনেত্রী জাহ্নবী কাপুরের জন্যও ‘পেড্ডি’ বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর দক্ষিণি চলচ্চিত্রযাত্রা এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে। তবে তেলেগু ইন্ডাস্ট্রিতে প্রবেশের পর থেকেই তিনি বড় বড় প্রকল্পের অংশ হচ্ছেন। ‘পেড্ডি’তে তাঁর চরিত্র সম্পর্কে খুব বেশি তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তবে নির্মাতারা ইঙ্গিত দিয়েছেন, এটি কেবল নায়কের প্রেমিকার চরিত্র নয়; গল্পের অগ্রগতিতে তাঁর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

সম্প্রতি ছবির প্রচারণা অনুষ্ঠানে একটি নিরাপত্তা-সংক্রান্ত ঘটনার কারণে জাহ্নবী আলোচনায় আসেন। বিজয়ওয়াড়ার অনুষ্ঠানে এক ভক্ত হঠাৎ রামচরণের কাছে ছুটে গেলে সাময়িক বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। এ ঘটনায় জাহ্নবী কিছুটা বিচলিত হলেও পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যায়।

শক্তিশালী পার্শ্বচরিত্র

ছবিতে আরও রয়েছেন দিব্যেন্দু, বোমান ইরানি, জগপতি বাবু এবং কন্নড় সুপারস্টার শিবরাজকুমার। ভারতীয় মূলধারার চলচ্চিত্রে এখন শক্তিশালী সহশিল্পীর উপস্থিতি অনেক গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ‘পেড্ডি’ সেই দিক থেকেও সমৃদ্ধ। বিশেষ করে জগপতি বাবু ও শিবরাজকুমারের উপস্থিতি ছবির নাটকীয়তা আরও বাড়াবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পরিচালক বুচি বাবুর সবচেয়ে বড় বাজি

পরিচালক বুচি বাবু সানা খুব বেশি ছবি নির্মাণ করেননি, কিন্তু তাঁর কাজের প্রতি দর্শকের আস্থা রয়েছে। ‘উপ্পেনা’র মাধ্যমে তিনি যে দক্ষতার পরিচয় দিয়েছিলেন, তার পর থেকেই তেলেগু চলচ্চিত্রপ্রেমীরা তাঁর পরবর্তী কাজের অপেক্ষায় ছিলেন। ‘পেড্ডি’ তাঁর ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় বাজেটের এবং সবচেয়ে উচ্চাভিলাষী প্রকল্প। তাই ছবির সাফল্য বা ব্যর্থতা তাঁর ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ারের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।

শুধু ব্যবসা নয়, সম্মানের লড়াই

ভারতীয় চলচ্চিত্রে এখন প্যান ইন্ডিয়া বাজার একটি বড় বাস্তবতা। ‘বাহুবলী’, ‘কেজিএফ’, ‘পুষ্পা’ ও ‘আরআরআর’-এর পর দর্শক শুধু আঞ্চলিক সাফল্যে সন্তুষ্ট নন; তাঁরা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাফল্য দেখতে চান। ‘পেড্ডি’ও সেই স্বপ্ন নিয়েই মাঠে নেমেছে। নির্মাতাদের আশা, এটি শুধু তেলেগু দর্শকদের নয়, ভারতের বিভিন্ন ভাষাভাষী দর্শকদেরও আকৃষ্ট করবে। ছবিটির হিন্দি সংস্করণের জন্যও বড় পরিসরে মুক্তির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

অপেক্ষা এখন দর্শকের রায়ের। অগ্রিম বুকিং, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের উন্মাদনা কিংবা তারকাদের জনপ্রিয়তা—এসব বক্স অফিসে ভালো সূচনা এনে দিতে পারে। কিন্তু একটি ছবির প্রকৃত ভাগ্য নির্ধারণ করে দর্শকের মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়া প্রশংসা। ‘পেড্ডি’কে ঘিরে প্রত্যাশা এখন আকাশচুম্বী। রামচরণের জন্য এটি ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ, জাহ্নবী কাপুরের জন্য নতুন বাজারে নিজেকে প্রতিষ্ঠার মঞ্চ এবং পরিচালক বুচি বাবুর জন্য সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।