দোলা রে দোলা গানের শুটিংয়ে গর্ভবতী ছিলেন না মাধুরী
দোলা রে দোলা গানের শুটিংয়ে গর্ভবতী ছিলেন না মাধুরী

বলিউডের ইতিহাসে অন্যতম আলোচিত গান ‘দেবদাস’ সিনেমার ‘দোলা রে দোলা’। গানটি নিয়ে দুই দশক পর নতুন করে গুঞ্জন—শুটিংয়ের সময় নাকি চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন মাধুরী দীক্ষিত। তবে এবার সেই দাবি স্পষ্টভাবে খারিজ করে দিয়েছেন অভিনেত্রী নিজেই।

মাধুরীর জবাব

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে মাধুরী দীক্ষিত হাসতে হাসতে বলেন, ‘আমার ছেলে আরিনের জন্ম ২০০৩ সালে। এবার হিসাবটা করে নিন।’ তাঁর এই মন্তব্যেই মূলত পরিষ্কার হয়ে যায়, ২০০২ সালে মুক্তি পাওয়া ‘দেবদাস’–এর শুটিংয়ের সময় তিনি অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন না।

কোথা থেকে শুরু হয়েছিল গুঞ্জন?

কয়েক সপ্তাহ আগে প্রয়াত কোরিওগ্রাফার সরোজ খানের সাবেক সহযোগী রুবিনা খান একটি ইউটিউব পডকাস্টে দাবি করেন, ‘দোলা রে দোলা’ গানের শুটিংয়ের সময় মাধুরী চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। রুবিনার ভাষ্য ছিল, গানের একটি বিশেষ নাচের ভঙ্গিতে বারবার ঘুরে বসতে হচ্ছিল বলে মাধুরীর সমস্যা হচ্ছিল। তিনি আরও দাবি করেন, তখন অভিনেত্রীর জ্বরও ছিল এবং দীর্ঘ সময় ধরে শুটিং করতে গিয়ে তিনি বেশ কষ্ট পেয়েছিলেন। এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। অনেকেই মাধুরীর পেশাদারত্বের প্রশংসা করেন, আবার কেউ কেউ দাবিটির সত্যতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মাধুরীর ব্যাখ্যা

এবার সেই বিতর্কের জবাব দিতে গিয়ে মাধুরী বলেন, তিনি অবশ্যই শারীরিকভাবে কিছুটা অসুস্থ ছিলেন, তবে অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন না। অভিনেত্রীর ভাষ্য, সে সময় তাঁকে নিয়মিত যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যে যাতায়াত করতে হতো। বিয়ের পর তিনি স্বামীর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ডেনভারে বসবাস করতেন। একই সঙ্গে মুম্বাইয়ে এসে শুটিংও করতেন। অধিকাংশ কাজই ছিল রাতের শিফটে। মাধুরী বলেন, ‘আমি তখন অনেক ভ্রমণ করছিলাম। এদিক-ওদিক যাওয়া, শুটিং, আবার ফিরে যাওয়া—সব মিলিয়ে খুব ক্লান্তিকর সময় ছিল। তাই শরীরটা একটু খারাপ ছিল, কিন্তু গর্ভবতী হওয়ার মতো কিছুই নয়।’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

‘দেবদাস’: মাধুরীর ক্যারিয়ারের এক বিশেষ অধ্যায়

‘দেবদাস’ ছিল মাধুরী দীক্ষিতের জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ছবি। বিয়ের পর এটিই ছিল তাঁর শেষ বড় চলচ্চিত্র, যার পর তিনি মাতৃত্বের জন্য অভিনয় থেকে কিছুটা বিরতি নেন। শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত ছবিটি পরিচালনা করেন সঞ্জয়লীলা বানসালি। ছবিতে দেবদাস চরিত্রে ছিলেন শাহরুখ খান, পার্বতী চরিত্রে ঐশ্বরিয়া রাই এবং চন্দ্রমুখীর ভূমিকায় মাধুরী দীক্ষিত। ছবিটি ২০০২ সালে মুক্তি পাওয়ার আগে কান চলচ্চিত্র উৎসবেও প্রদর্শিত হয়েছিল এবং আন্তর্জাতিক মহলেও ব্যাপক প্রশংসা পায়।

‘দোলা রে দোলা’ কেন এত বিশেষ?

মূল উপন্যাসে পার্বতী ও চন্দ্রমুখীর কখনো মুখোমুখি দেখা হয়নি। কিন্তু পরিচালক সঞ্জয় লীলা বানসালি সৃজনশীল স্বাধীনতা নিয়ে দুই চরিত্রকে একসঙ্গে এনে তৈরি করেন ‘দোলা রে দোলা’ গানটি। গানটিতে মাধুরী ও ঐশ্বরিয়া রাইয়ের নাচ আজও বলিউডের অন্যতম সেরা নাচের কোরিওগ্রাফি হিসেবে বিবেচিত হয়। সংগীত পরিচালক ইসমাইল দরবারের সুরে গানটি গেয়েছিলেন কবিতা কৃষ্ণমূর্তি, শ্রেয়া ঘোষাল ও কেকে। গানটির জটিল কোরিওগ্রাফি করেছিলেন সরোজ খান। মাধুরী বরাবরই জানিয়েছেন, সরোজ খানের নির্দেশনা নিয়ে তাঁর কোনো প্রশ্ন থাকত না। কোরিওগ্রাফার যা বলতেন, সেটাই তিনি নিখুঁতভাবে করার চেষ্টা করতেন।