ঈদুল আজহার আবহে সিনেমাপাড়া এখন উৎসবমুখর পরিবেশে ভরপুর। ছবি মুক্তির পর দর্শক সাড়া এবং প্রেক্ষাগৃহে তারকাদের উপস্থিতি এই আনন্দকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। তেমনই এক মুহূর্তে সিনেমা হলে এসে দর্শকের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিলেন চিত্রনায়ক আরিফিন শুভ এবং তাঁর সহশিল্পী বিদ্যা সিনহা মিম।
সেখানেই এক আলাপচারিতায় সিনেমার জয়-পরাজয় এবং বক্স অফিস সমীকরণ নিয়ে নিজের গভীর উপলব্ধি প্রকাশ করেন আরিফিন শুভ। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “সিনেমার সাফল্য আসলে অনিশ্চিত এবং এটাই এর আসল সৌন্দর্য।”
‘বেদের মেয়ে জোছনা’র উদাহরণ
সিনেমার এই অনিশ্চয়তা ও চমককে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে শুভ ঢাকাই চলচ্চিত্রের ইতিহাস সৃষ্টিকারী ছবি ‘বেদের মেয়ে জোছনা’র একটি উদাহরণ টানেন। অভিনেতা ইলিয়াস কাঞ্চনের একটি পুরোনো সাক্ষাৎকারের স্মৃতি আওড়ে শুভ বলেন, “কাঞ্চন সাহেবের মুখ থেকেই শোনা, ‘বেদের মেয়ে জোছনা’র শুটিংয়ের সময় অনেকেই নাকি তাঁকে ফোন করে বলেছিলেন—গাজীপুরে গিয়ে সাপের খেলা দেখাচ্ছেন, পাগল হয়ে গেছেন নাকি? কিন্তু মুক্তির পর সেই ছবি যা ইতিহাস তৈরি করল, তা তো সবারই জানা।”
ভবিষ্যদ্বাণী করা অসম্ভব
নিজের অভিনয় জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে শুভ জানান, সিনেমা নিয়ে আগে থেকে কোনো ভবিষ্যদ্বাণী করা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, “অনেক আশা নিয়ে কাজ করেছি, এমন ছবি হয়তো অতটা দর্শকনন্দিত হয়নি। আবার অনেক টেনশন করেছি যে ছবি নিয়ে, সেটাই দেখা গেছে দর্শকনন্দিত হয়ে গেছে। আপনি যতই বিপণন বা প্রচারণা করুন না কেন, সিনেমা আসলে অনিশ্চিত। সিনেমা দেখার পর ভালো লাগা বা না লাগার শেষ সিদ্ধান্তটা কেবল দর্শকই ঠিক করতে পারেন।”
দর্শকের বিনোদনই মূল লক্ষ্য
ব্যবসায়িক হিসাব-নিকাশকে একপাশে রেখে দর্শকদের শতভাগ বিনোদন দেওয়াই ছিল তাঁদের টিমের মূল উদ্দেশ্য। ঈদের সিনেমার চিরচেনা আমেজের কথা মনে করিয়ে দিয়ে শুভ বলেন, “ঈদের মৌসুমে সবাই একটু মারামারি, একটু প্রেম, একটু দুঃখ, একটু টেনশন, একটু বড় বড় সংলাপ আর গান দেখে খুশি মনে বাড়ি ফিরতে চায়। আমাদের উদ্দেশ্যও ছিল ঈদের অন্যান্য ছবির সঙ্গে আরেকটু বাড়তি আনন্দ যোগ করা।”
অনেক কষ্ট ও পরিশ্রমের পর সিনেমাটি দর্শকের সামনে আনতে পেরেছেন জানিয়ে এই নায়ক বলেন, সমস্ত সমীকরণ পেরিয়ে এখন কেবলই একটাই চাওয়া—ছবিটি যেন দর্শকদের মন ছুঁয়ে যাক।



