প্রদর্শকদের স্টারইজমের সমালোচনা করে খোকনের হতাশা
প্রদর্শকদের স্টারইজমের সমালোচনা করে খোকনের হতাশা

ঈদুল আজহার সিনেমা বাজারে সগৌরবে চলছে গুণী নির্মাতা বদিউল আলম খোকনের দুটি চলচ্চিত্র—‘তছনছ’ এবং ‘অফিসার’। ছবি দুটি নিয়ে দর্শক মহলে ইতিবাচক সাড়া থাকলেও দেশের প্রেক্ষাগৃহ মালিক বা প্রদর্শকদের আচরণে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন এই খোকন। তাঁর সাফ কথা, ভালো গল্প বা মেকিং নয়, প্রদর্শকরা এখন অন্ধের মতো শুধু ‘তারকা’ বা ‘স্টারইজমের’ পেছনে ছুটছেন!

প্রদর্শকদের তারকা-নির্ভর মানসিকতা

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে এই বর্ষীয়ান পরিচালক ঢাকাই সিনেমার অতীত ও বর্তমান প্রেক্ষাপট টেনে সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির একচেটিয়া তারকা-নির্ভর মানসিকতার কড়া সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, বর্তমান প্রদর্শকরা শুধু তৈরি তারকার পেছনে দৌড়ান, নতুনদের সুযোগ দিতে চান না।

‘তখন আমি ছিলাম নগণ্য পরিচালক’

২০০০ সালের ঈদের স্মৃতি চারণ করে বদিউল আলম খোকন বলেন, "আমার ডিরেকশনে প্রথম ছবি ‘দানব’ ঈদে মুক্তি পেয়েছিল। তখন মালেক আফসারী, মমতাজুর রহমান আকবর, মতিন রহমানের মতো বড় বড় ডিরেক্টরদের ছবি ঈদে আসত। তাঁদের ভিড়ে আমি ছিলাম একেবারেই নগণ্য। কিন্তু তখনকার প্রদর্শকরা ব্যবসার পাশাপাশি ছবির মান ও পরিচালকদের ওপর ভরসা রাখতেন।" ২৬ বছরের ব্যবধানে সিনেমা শিল্পের এই পরিবর্তনের চিত্র তুলে ধরে তিনি আক্ষেপ করেন যে, এখনকার প্রদর্শকরা শুধু তৈরি তারকার পেছনে দৌড়ান, নতুনদের সুযোগ দিতে চান না।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

শাকিবকে নিয়ে ছবি বানিয়েছেন, এখন ভরসা গল্পে

এক সময় সুপারস্টার শাকিব খানকে নিয়ে ‘রাজাবাবু’সহ একাধিক ব্লকবাস্টার ছবি উপহার দিয়েছেন খোকন। তবে বর্তমানে তিনি শুধু স্টারের ওপর নির্ভর না করে গল্প এবং মেকিংয়ে জোর দিচ্ছেন। বর্তমান সময়ের সায়মন বা ডিএ তায়েবদের নিয়ে কাজ করা এই নির্মাতা বলেন, “আজকে যারা স্টার, তারা কিন্তু ১০ বা ১৫ বছর আগে নরমাল মানুষ বা সাধারণ অভিনেতা ছিলেন। আমরা পরিচালকরা তাঁদের নিয়ে ছবি বানাতে বানাতে দর্শকের চোখ অভ্যস্ত করেছি, তারপরই তারা ‘স্টার’ হয়েছেন। কিন্তু এখনকার প্রদর্শকরা এই সত্যটা ভুলে শুধু স্টারের পেছনে ছুটছেন।”

মনে পড়ছে মহানায়ক মান্নাকে

সাক্ষাৎকারে খোকনের স্মৃতিজুড়ে ভেসে ওঠেন প্রয়াত মেগাস্টার মান্না, যাঁকে নিয়ে তিনি ৫টি সফল সিনেমা নির্মাণ করেছিলেন। মান্নার উদারতা ও দূরদর্শিতার কথা উল্লেখ করে খোকন বলেন, “মান্না ভাই সবসময় আমাকে বলতেন—‘খোকন ভাই, আড়াই ঘণ্টার ছবিতে আমাকে পুরো সময় রাইখেন না। আমাকে দেড় ঘণ্টা রেখে বাকি এক ঘণ্টা অন্যদের গল্পে রাখুন। দর্শক যেন আমাকে দেখতে দেখতে বিরক্ত না হয়ে যায়।’ আজকের দিনে এই মানসিকতা বিরল।”

কর্মের মূল্যায়ন করছেন দর্শক

প্রেক্ষাগৃহ মালিকদের একাংশ মুখ ফিরিয়ে নিলেও সাধারণ দর্শকরা তাঁর ‘তছনছ’ ও ‘অফিসার’ ছবি দুটিকে গ্রহণ করেছেন বলে দাবি খোকনের। তিনি জানান, ঈদের বক্স অফিস রিপোর্টে তাঁর ছবি দুটি বেশ ভালো অবস্থানে রয়েছে এবং দর্শক তাঁর কর্মের সঠিক মূল্যায়ন করছেন।

নতুনদের জায়গা করে দেওয়ার আহ্বান

নতুনদের জায়গা করে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে খোকন শেষ করেন, “নতুনদের সুযোগ দিলেই একদিন তারা ইন্ডাস্ট্রিকে ভালো ছবি উপহার দেবে। দর্শকদের সিদ্ধান্ত নিতে দিন—যাদের ভালো লাগবে তারা টিকে থাকবে, বাকিরা চলে যাবে। কিন্তু শুরুতেই দরজা বন্ধ করে দেওয়া ঠিক নয়।”