সায়নীর মৃত্যুতে দেবলীনার বিস্ফোরক চিঠি: ট্রোলিং সংস্কৃতির বিরুদ্ধে ক্ষোভ
সায়নীর মৃত্যুতে দেবলীনার চিঠি: ট্রোলিংয়ের বিরুদ্ধে ক্ষোভ

সায়নী চক্রবর্তীর মৃত্যুর পর যখন নানা আলোচনা চলছে, তখনই ব্যক্তিগত জীবনের অন্ধকার অতীত নিয়ে হাজির হলেন অভিনেত্রী দেবলীনা নন্দী। পশ্চিমবঙ্গের জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার ও ভ্লগার সায়নী চক্রবর্তী, যিনি ‘সুন্দরী’র দিদি নামে বেশি পরিচিত, মারা গেছেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তিনি আত্মহত্যা করেছেন।

দেবলীনার খোলা চিঠি

মাস কয়েক আগে নিজে ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন দেবলীনা। সায়নীর চলে যাওয়া দেখে তিনি আর চুপ থাকতে পারলেন না। তীব্র ক্ষোভ, আফসোস আর ট্রোলিং সংস্কৃতির বিরুদ্ধে এক বিস্ফোরক খোলা চিঠি লিখেছেন তিনি, যদিও সরাসরি সায়নীর নাম নেননি।

দেবলীনা তাঁর পোস্টে সায়নীর সঙ্গে কাটানো একটি ছোট্ট মুহূর্তের কথা স্মরণ করে লিখেছেন, ‘এমন একটা ঘটনা ঘটেছে, যেটা নিয়ে আমার কিছু বলার নেই; কারণ, কী বলব, সেটাই বুঝে উঠতে পারছি না। মেয়েটার সাথে এক দিনই দেখা হয়েছিল, তখন ওই ১০ মিনিটের কথাবার্তায় কেউ কারও মনের অবস্থা বুঝতে পারিনি। মানুষ বুকের ভিতর কতটা যন্ত্রণা পেলে এ রকম করে, সেটা আমি জানি। কিন্তু তারা জানে না, যারা কটাক্ষ করে।’

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ট্রোলিংয়ের শিকার দেবলীনা

অভিনেত্রী আরও যোগ করেন, ‘আজ সে নেই আমাদের মধ্যে, সবাই দুঃখ করছে। কিন্তু কোনোভাবে বেঁচে গেলে সারা জীবন কিছু মানুষ তাকে তিলে তিলে মেরে ফেলত নানান বাজে কথা বলে। যেমনটা আমার সাথে প্রতিনিয়ত ঘটে চলেছে।’

আত্মহত্যাচেষ্টার সেই ভয়ানক অভিজ্ঞতার কথা টেনে দেবলীনা স্বীকার করেছেন, ট্রোলিং ও মানসিক অবসাদ একটা মানুষকে কতটা খাদের কিনারায় এনে দাঁড় করায়। তিনি লেখেন, ‘আমি কিছুক্ষণের জন্য মা, বাবা, ভাই সবার কথা ভুলে গিয়ে একটা অকাজ করে ফেলেছিলাম। কিন্তু ওখানে উপস্থিত কিছু মানুষের জন্য আর আমাকে যারা নিঃস্বার্থভাবে ভালোবাসে, তাদের জন্য এখনো আছি। কিন্তু কিছু মানুষের সেটা নিয়ে সমস্যা, রোজ রোজ মারতে চাইছে আমাকে।’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সায়নীর উদ্দেশ্যে বার্তা

পোস্টের শেষে এসে এক দিদির মতো সায়নীর উদ্দেশ্যে কান্না উগরে দিয়েছেন দেবলীনা। যারা সবকিছুতেই খুঁত খোঁজে, সেই জাজমেন্টাল মানুষদের একহাত নিয়ে তিনি লিখেছেন, ‘সবকিছুর পরে একটাই কথা বলব, শুধু একটা মানুষই আজ সব থেকে বেশি কষ্ট পাচ্ছে, সেটা হলো তার মা। কিছু মানুষ প্রচণ্ড জাজমেন্টাল, ভালো তা–ও খারাপ খোঁজে। কিন্তু আমিও ভুল করতে যাচ্ছিলাম আর তুমিও ভুল করেছ বোন। মা–বাবাকে কষ্ট দেওয়া ঠিক না, সেটা আমি বুঝেছি। যেখানেই থাকো ভালো থাকো।’

হিন্দুস্তান টাইমস অবলম্বনে