পবিত্র ঈদ-উল-আযহার দ্বিতীয় দিনেও রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় কোরবানির ব্যস্ততা অব্যাহত ছিল। মিরপুর, মোহাম্মদপুর, রামপুরা, শান্তিনগর, উত্তরা ও পুরান ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় সারাদিন গরু ও অন্যান্য পশু কোরবানি এবং মাংস কাটার কাজ চলে। অনেক বাসিন্দা ঈদের দিনের পরিবর্তে দ্বিতীয় দিনে কোরবানি করতে পছন্দ করেন, যাতে পারিবারিক ঐতিহ্য বজায় থাকে, কসাইয়ের অভাব এড়ানো যায় এবং আরও আরামে কাজ সম্পন্ন করা যায়।
মিরপুর বিহারি ক্যাম্পে কোরবানির প্রস্তুতি
শুক্রবার মিরপুর-১১-এর বিহারি ক্যাম্প এলাকা ঘুরে দেখা যায়, সকাল থেকেই বিভিন্ন বাড়ি ও গলিতে কোরবানির প্রস্তুতি চলছে। কোথাও পশু জবাই করা হচ্ছে, আবার কোথাও কসাইরা মাংস কাটতে ব্যস্ত। ঈদের প্রথম দিনের তুলনায় চাপ কম থাকায় অনেকেই আরামে কাজ করতে পেরেছেন।
পরিবারের ঐতিহ্য অনুসরণ
রামপুরা উলানের বাসিন্দা কাজী সোহাগ বলেন, “আমরা কখনো ঈদের দিনে কোরবানি করি না। এটি আমাদের পারিবারিক ঐতিহ্য। আমার বাবাও দ্বিতীয় দিনে পশু কোরবানি দিতেন। তার যুক্তি ছিল, প্রথম দিনে ভালো কসাই পাওয়া কঠিন। এছাড়া, মাংস বিতরণের জন্য গরিব লোকের ভিড় বেশি থাকে এবং সবাই ঠিকমতো পায় না। পরের দিন কোরবানি করলে সবকিছু আরামে করা যায়। আমি এখন বাবার সেই নীতি অনুসরণ করি।”
দক্ষ কসাইয়ের অভাব
মিরপুরের বাসিন্দা ইসমাইল হোসেন একই অভিজ্ঞতার কথা জানান। তিনি বলেন, “ঈদের দিনে দক্ষ কসাই পাওয়া খুব কঠিন। এ কারণে আমরা পরের দিন কোরবানি করি। এতে মাংস আরও যত্ন করে কাটা যায় এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখাও সহজ হয়।”
স্থানীয়রা জানান, ঈদের প্রথম দিনের অতিরিক্ত ভিড় এড়াতে অনেকে দ্বিতীয় বা তৃতীয় দিনে কোরবানি দিতে পছন্দ করেন। এতে কসাইয়ের অভাবও কমে এবং মাংস সংরক্ষণ ও বিতরণ তুলনামূলকভাবে সহজ হয়।



