অ্যান্টার্কটিকায় প্রাপ্ত প্রাচীন মানব খুলির রহস্য: ২০০ বছর আগের তরুণীর অজানা কাহিনি
অ্যান্টার্কটিকায় প্রাচীন মানব খুলি: ২০০ বছরের রহস্য

১৯৮৫ সালের ৭ জানুয়ারি বিকেল ৪টা ৩৫ মিনিটে চিলি ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড্যানিয়েল তোরেস নাভারো ইয়ামানা সৈকতে কাজ করার সময় বালুর স্তূপে অর্ধেক পুঁতে থাকা একটি মানুষের খুলি দেখতে পান। এটি ছিল অ্যান্টার্কটিকার মাটিতে পাওয়া সবচেয়ে পুরোনো মানবদেহের চিহ্ন, যার বয়স ১৮১৯ থেকে ১৮২৫ সালের মধ্যে নির্ধারিত হয়।

খুলির বৈশিষ্ট্য ও বিশ্লেষণ

খুলিটির পেছনের অংশ বালুর ওপরে দেখা গেলেও সামনের অংশ সম্পূর্ণ ঢাকা ছিল। সামুদ্রিক মাইক্রোঅ্যালজির কারণে উন্মুক্ত অংশ সবুজাভ হয়ে গিয়েছিল। উপরের চোয়ালের দুটি টুকরো ও বেশ কয়েকটি মজবুত দাঁত অক্ষত ছিল, তবে সামনের মূল দাঁত ও নিচের চোয়াল পাওয়া যায়নি। আশপাশের এলাকা তন্ন তন্ন করেও মেরুদণ্ড বা অন্যান্য হাড়ের সন্ধান মেলেনি।

তরুণীর পরিচয় ও মৃত্যুর সময়কাল

ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করে দেখা যায়, খুলিটি একজন তরুণীর, যিনি সম্ভবত চিলির অধিবাসী ছিলেন। তাঁর মৃত্যুর সময়কাল ১৮১৯ থেকে ১৮২৫ সালের মধ্যে—অর্থাৎ রুশ অভিযাত্রী থাদিউস ভন বেলিংহসেনের ১৮২০ সালের সরকারি আবিষ্কারের আগে বা সেই একই সময়ে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

দুটি সম্ভাব্য তত্ত্ব

অধ্যাপক নাভারো দুটি তত্ত্ব দিয়েছেন। প্রথমত, তরুণীটি হয়তো উনিশ শতকের সিল শিকারিদের দলের সঙ্গে এসেছিলেন এবং কোনো কারণে একা পড়ে গিয়েছিলেন। দ্বিতীয় ও আরও বাস্তবসম্মত তত্ত্ব হলো, তিনি কোনো জাহাজের যাত্রী ছিলেন এবং সমুদ্রে মারা গেলে তাঁর মৃতদেহ সাগরে ভাসিয়ে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে সামুদ্রিক ঝড় বা ঢেউয়ের তোড়ে মৃতদেহটি ইয়ামানা সৈকতে ভেসে আসে।

পাখিদের ভূমিকা

অ্যান্টার্কটিকার সৈকতে জায়ান্ট পেট্রেল, স্কুয়া, কেল্প গাল ও শিথবিলের মতো পাখিরা মৃতদেহ খেয়ে বেঁচে থাকে। তাদের টানাটানিতে খুলিটি শরীর থেকে আলাদা হয়ে থাকতে পারে, এবং নিচের চোয়াল ও দাঁত হারানোর পেছনেও তাদের হাত থাকতে পারে। বছরের পর বছর হাড়গুলো বালুর নিচে চাপা পড়ে যায়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অমীমাংসিত রহস্য

তরুণীটি জীবিত অবস্থায় অ্যান্টার্কটিকার মাটিতে পা রেখেছিলেন নাকি মৃতদেহ ভেসে এসেছিল—এই প্রশ্নের উত্তর কখনোই পুরোপুরি জানা যাবে না। তবে অ্যান্টার্কটিকার প্রাচীনতম মানবদেহের চিহ্ন হিসেবে এই খুলিটি ইতিহাসে স্থায়ী হয়ে থাকবে।