ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপে বুকায়ো সাকার বাগদত্তা টোলামি বেনসনের ফ্যাশন আলোচিত
বুকায়ো সাকার বাগদত্তার ফ্যাশন নিয়ে আলোচনা

বুকায়ো সাকার বাগদত্তার ফ্যাশন বিশ্বকাপে আলোচিত

এবারের বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের শুরুর একাদশ নিয়ে যেমন আগ্রহ ছিল, তেমনই আলোচিত হয়েছে বুকায়ো সাকার বাগদত্তা টোলামি বেনসনের পোশাক। ইংল্যান্ডের জার্সি থেকে অনুপ্রাণিত বিশেষ পোশাক, গয়না ও অনুষঙ্গ নিয়ে মাঠে হাজির হন তিনি। ২৫ বছর বয়সী এই সাবেক মিডিয়া স্ট্র্যাটেজিস্ট, মডেল ও ইনফ্লুয়েন্সার বিশ্বকাপে ফ্যাশনের অন্যতম আলোচিত মুখ হয়ে উঠেছেন। তবে টোলামি দাবি করেন, তাঁর পোশাক নিয়ে এত আলোচনা কখনোই লক্ষ্য ছিল না।

পোশাকের পেছনে অনুপ্রেরণা

ফ্যাশনবিষয়ক সাময়িকী হু হোয়াট ওয়্যারকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে টোলামি জানান, প্রতিটি ম্যাচের পোশাক তৈরি শুরু হয় একটিমাত্র চিন্তা থেকে—বুকায়ো সাকার প্রতি সমর্থন জানানো, কিন্তু নিজের ব্যক্তিত্ব বজায় রাখা। তিনি বলেন, ‘আমি ওকে সমর্থন করতে চাই। আমি সত্যিই ইংল্যান্ডের জার্সি পরতে চাই, কিন্তু এমনভাবে, যেটা আমার নিজের স্টাইলের সঙ্গে মানানসই।’ টোলামির মতে, যে শহরে বা দেশে খেলা হয়, সেই স্থানের সংস্কৃতিও পোশাকের নকশায় প্রভাব ফেলে। তিনি বলেন, ‘জায়গা, সংস্কৃতি—সবকিছুই আমাকে অনুপ্রাণিত করে। আপনি যখন অন্য একটি দেশে যান, তখন সেই পরিবেশ ও সংস্কৃতির প্রতি সম্মান দেখানো জরুরি।’

নাইজেরিয়ান ঐতিহ্যের প্রভাব

টোলামি তাঁর নাইজেরিয়ান পরিচয়ের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ‘আমি নাইজেরিয়ান। আমরা এমনই। আমি যখন এতটা পরিশ্রম করে ওর জন্য সাজি, ওকে সমর্থন করতে আসি, ওর প্রতিনিধিত্ব করি, তখন সেটাই ওর কাছে সবচেয়ে বিশেষ লাগে।’ শৈশবে তাঁর পরিবার বিয়ে বা ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠানের পোশাক দোকান থেকে না কিনে কাপড় বেছে নিয়ে দর্জির মাধ্যমে তৈরি করাতেন। টোলামি বলেন, ‘আমার মা আমাকে ছোটবেলা থেকেই এসব সিদ্ধান্তে অংশ নিতে দিতেন—আমার স্কার্ট কেমন হবে, কী ধরনের পোশাক চাই। তারপর আমরা দরজির কাছে যেতাম, আর তিনি সেটি তৈরি করে দিতেন।’ এই অভিজ্ঞতা তাঁর মধ্যে কাস্টম-মেড পোশাকের প্রতি ভালোবাসা তৈরি করে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

নেইল আর্ট ও বন্ধন

টোলামি জানান, ম্যাচের আগে তিনি নিজের নখের নকশাও বুকায়ো সাকাকে দেখান। তাঁর ভাষায়, ‘এটা আমাদের জন্য মজার একটা ব্যাপার। একই সঙ্গে দারুণ একটা বন্ধনের অভিজ্ঞতাও।’ বিশ্বকাপে আলোচিত হওয়ার আগেই ফ্যাশনের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক শুরু। তাঁর মা নাইজেরিয়া থেকে ইংল্যান্ডে আসার আগে ফ্যাশন নিয়ে পড়াশোনা করেছিলেন, পরে নার্স হিসেবে ক্যারিয়ার গড়েন।

প্রেম থেকে বাগদান

ব্রিটিশ-নাইজেরীয় টোলামি বেনসনের সঙ্গে বুকায়ো সাকার পরিচয় বিশ্ববিদ্যালয়জীবনে। দুজনই লন্ডনে বেড়ে উঠেছেন এবং একই সামাজিক পরিমণ্ডলে চলাফেরা করতেন। বন্ধুত্ব থেকে সম্পর্কের শুরু। দীর্ঘ সময় তাঁদের সম্পর্ক গোপন ছিল। ২০২৪ সালের ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপে টোলামি প্রথমবার বড় পরিসরে আলোচিত হন। ইংল্যান্ডের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে তাঁকে গ্যালারিতে দেখা যায়। ২০২৬ সালে টোলামি প্রথমবার বুকায়ো সাকাকে প্রকাশ্যে বাগদত্তা বলে উল্লেখ করেন। যদিও বাগদান নিয়ে আলাদা কোনো বড় ঘোষণা দেওয়া হয়নি, তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ঘনিষ্ঠ সূত্রে বিষয়টি নিশ্চিত হয়। বিশ্বকাপের ব্যস্ত সূচির কারণে বিয়ের পরিকল্পনা আপাতত পিছিয়ে দিয়েছেন তাঁরা।