ছায়ানটে গানে-কথায় শিশু হত্যার প্রতিবাদ নালন্দা শিক্ষার্থীদের
গানে-কথায় শিশু হত্যার প্রতিবাদ নালন্দা শিক্ষার্থীদের

শৈশব মানুষের জীবনের সবচেয়ে নির্মল ও সুন্দর সময়। এই সময়জুড়ে থাকার কথা হাসি, খেলা, কৌতূহল আর স্বপ্ন। অথচ সমাজের নির্মম বাস্তবতায় বারবার সেই শৈশবই আক্রান্ত হচ্ছে সহিংসতা, নির্যাতন ও হত্যার মতো ভয়াবহ ঘটনায়। বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাজধানীর ধানমন্ডিতে ছায়ানট প্রাঙ্গণে এই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছে নালন্দা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীরা বক্তব্য ও গান বেছে নেয় প্রতিবাদের ভাষা হিসেবে।

শিক্ষার্থীদের বক্তব্যে নির্মম বাস্তবতা

দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী জায়ীদ আব্দুল্লাহ তামজীদের লিখিত বক্তব্যে উঠে এসেছে চলমান বাস্তবতার নির্মম চিত্র। তিনি বলেন, শিশু নির্যাতন এখন বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং নিয়মিত সামাজিক সংকটে পরিণত হয়েছে। ঘটনা ঘটার পর কিছুদিন প্রতিবাদ হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা হয়, কিন্তু বিচার প্রক্রিয়া দীর্ঘ হয় কিংবা অনেক সময় কাঙ্ক্ষিত পরিণতি পায় না। ফলে অপরাধীরা সাহস পায় আবারও একই অপরাধ করতে।

গানের মাধ্যমে প্রতিবাদ

প্রতিবাদ সমাবেশের শুরু হয় রবীন্দ্রসংগীত ‘সংকোচের বিহ্বলতা নিজেরে অপমান’ দিয়ে। এরপর একে একে পরিবেশিত হয় ‘আমাদের ভয় কাহারে’, ‘আমি ভয় করব না’, ‘মোরা ঝঞ্ঝার মতো উদ্দাম’সহ একাধিক গান। গানগুলো তাদের মুখে নিছক সুর হয়ে কানে আসেনি বরং ছিল অন্যায়ের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বড়দের সমর্থন

শিশুদের আয়োজনে এসেছিলেন বড়রাও। তাদের ভাষ্য, অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিত আজ নিজেরাই প্রতিবাদে নেমেছে। তারা শুধু নিজের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও নিরাপদ সমাজের দাবি তুলেছে। এটি আশার জায়গা তৈরি করে। কারণ যখন তরুণ প্রজন্ম অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে শেখে, তখন সমাজে পরিবর্তনের সম্ভাবনাও জাগে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

নিরাপদ পৃথিবী গড়ার দায়িত্ব

বক্তারা বলেন, শিশুদের জন্য নিরাপদ পৃথিবী গড়ে তোলা শুধু আইন প্রয়োগের বিষয় নয়; এটি পরিবার, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও সামাজিক মূল্যবোধেরও বিষয়। শিশু নির্যাতন বন্ধ করতে হলে শুধু অপরাধীদের শাস্তি দিলেই হবে না, পরিবর্তন আনতে হবে আমাদের মনন ও সামাজিক আচরণেও। কারণ একটি শিশুর নিরাপদ হাসি শুধু একটি পরিবারের নয়, একটি দেশের ভবিষ্যতের প্রতীক। সেই হাসি রক্ষা করার দায়িত্ব আমাদের সবার।

‘এ বিশ্বকে শিশুর বাসযোগ্য করে যাওয়ার দৃঢ় অঙ্গীকার’ তুলে ধরে সমাবেশ থেকে বলা হয়, বন্ধ করতে হবে শিশু নির্যাতন। পরিবর্তন করতে হবে শিক্ষা পদ্ধতি ও সমাজ ব্যবস্থার।

উপস্থিত অতিথিরা

সমাবেশে সংহতি জানাতে উপস্থিত ছিলেন ছায়ানট সভাপতি সারওয়ার আলী, সাধারণ সম্পাদক লাইস আহমদ লিসা, সহ-সভাপতি পার্থ তানভীর নভেদ এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জয়ন্ত রায়সহ অনেকে। ছায়ানট সভাপতি সারওয়ার আলী বলেন, ছায়ানটের সংস্কৃতি-সমন্বিত সাধারণ শিক্ষা কার্যক্রম নালন্দা উচ্চ বিদ্যালয়। এই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সমাবেশটি করেছে। কারণ আমরা কেউই শিশু রামিসার সঙ্গে যে নির্মম ঘটনাটি ঘটেছে, তা মেনে নিতে পারছি না। আমরা সবাই আত্মগ্লানিতে ভুগছি। সমাবেশে যে গানগুলো করা হয়েছে, এই গানের মর্মবাণী সবার মাঝে শুভবোধ জাগ্রত করবে, এটাই প্রত্যাশা করি।