পাকিস্তানি টিকটক ইনফ্লুয়েন্সার স্ত্রীকে হত্যা করে স্বামীর আত্মহত্যা: ইসলামাবাদে ঈদের দিনে মর্মান্তিক ঘটনা
টিকটক ইনফ্লুয়েন্সার স্ত্রীকে হত্যা করে স্বামীর আত্মহত্যা

পাকিস্তানি টিকটক ইনফ্লুয়েন্সার স্ত্রীকে হত্যা করে স্বামীর আত্মহত্যা: ইসলামাবাদে ঈদের দিনে মর্মান্তিক ঘটনা

ইসলামাবাদে ঈদের প্রথম দিনেই এক ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের খবর পাওয়া গেছে। জনপ্রিয় টিকটক ইনফ্লুয়েন্সার সানা জাভেদকে তার স্বামী মোহাম্মদ সাদিক গুলি করে হত্যা করার পর নিজেও আত্মহত্যা করেছেন বলে দেশটির গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে। এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে ইসলামাবাদের ডিএইচএ ফেজ-২ এলাকার একটি মার্কেটের পার্কিংয়ে, যা হুমাক পুলিশ স্টেশনের আওতাভুক্ত।

ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ

নিহত সানা জাভেদ মূলত আটকের বাসিন্দা ছিলেন। টিকটকে তিনি ‘আউট লোফারা’ নামে বেশ জনপ্রিয় ছিলেন এবং তার বিপুল সংখ্যক অনুসারী ছিল। ঘাতক স্বামী মোহাম্মদ সাদিকও আটকের বাসিন্দা ছিলেন। তিনি আটক পুলিশের একজন সাবেক কনস্টেবল ছিলেন, যাকে আগেই চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছিল।

মার্কেটে দায়িত্বরত একজন নিরাপত্তারক্ষী পুলিশকে জানান, তিনি হঠাৎ গুলির শব্দ শুনতে পান এবং দেখেন লাল পোশাক পরা এক নারী মাটিতে পড়ে আছেন। পাশেই প্রায় ২৪ বছর বয়সি এক যুবক পিস্তল হাতে দাঁড়িয়ে ছিলেন। রক্ষীর চোখের সামনেই ওই যুবক নিজের মাথায় গুলি করে আত্মহত্যা করেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পুলিশের তদন্ত ও উদ্ধারকৃত প্রমাণ

পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি ৯ এমএম পিস্তল এবং তিনটি বুলেটের খোসা উদ্ধার করেছে। প্রাথমিক তদন্তে পারিবারিক কলহকেই এই ঘটনার মূল কারণ হিসেবে ধারণা করা হচ্ছে। পুলিশ এখন আরও গভীরভাবে তদন্ত চালাচ্ছে এবং সাক্ষীদের সাক্ষাৎকার নিচ্ছে।

ইসলামাবাদে টিকটকারদের উপর ক্রমাগত হামলা

এ নিয়ে এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে ইসলামাবাদে দ্বিতীয় কোনো হাই-প্রোফাইল নারী টিকটকার হত্যার ঘটনা ঘটল। এর আগে গত বছরের জুনে ১৭ বছর বয়সী টিকটকার সানা ইউসুফ তার নিজের বাড়িতে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় তাকে হত্যা করা হয়েছিল বলে পুলিশ জানিয়েছিল। এই ঘটনাগুলো সামাজিক মাধ্যমের তারকাদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

এই মর্মান্তিক ঘটনা পাকিস্তানে নারী ইনফ্লুয়েন্সারদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামাজিক মাধ্যমের জনপ্রিয়তা বাড়ার সাথে সাথে এরূপ সহিংসতার ঘটনাও বাড়ছে, যা একটি উদ্বেগজনক প্রবণতা।