দ্য অ্যাডাম প্রজেক্ট: সময়ের গণ্ডি পেরিয়ে এক অনবদ্য যাত্রা
নেটফ্লিক্সের সায়েন্স ফিকশন মুভি দ্য অ্যাডাম প্রজেক্ট ২০২২ সালে মুক্তি পেয়ে দর্শকদের মনে জায়গা করে নিয়েছে। পরিচালক শন লেভি-এর এই সৃষ্টিতে টাইম ট্রাভেলের মাধ্যমে অতীত ও ভবিষ্যতের এক মিশ্রণ ঘটেছে, যা শুধু বিনোদনই নয়, পারিবারিক বন্ধনের গভীর দিকও তুলে ধরে।
গল্পের সংক্ষিপ্তসার
গল্পের কেন্দ্রে রয়েছেন অ্যাডাম রিডস, যিনি স্ত্রীকে বাঁচাতে নিয়মবহির্ভূতভাবে টাইমজেট ব্যবহার করে অতীতে চলে যান। কিন্তু আহত অবস্থায় টাইমজেট নিয়ে ২০২২ সালে ক্রাশ ল্যান্ডিং করতে বাধ্য হন। সেখানে তিনি দেখা পান নিজের কিশোর বয়সের সঙ্গে, যে তখনো বাবার মৃত্যু মেনে নিতে পারেনি এবং স্কুলে নিত্যদিন হেনস্তার শিকার হয়। এই সময়ে ভবিষ্যৎ থেকে আসা অ্যাডামের সঙ্গী হয় কিশোর অ্যাডাম, এবং দুজনে মিলে আবার অতীতে গিয়ে বিজ্ঞানী বাবার দেখা পান। শুরু হয় এক নতুন অ্যাডভেঞ্চার, যেখানে এখন শুধু ব্যক্তিগত নয়, বরং পৃথিবীকে বাঁচানোর প্রশ্ন জড়িত।
চলচ্চিত্রের বৈশিষ্ট্য
এই মুভিটি গতানুগতিক সায়েন্স ফিকশন থেকে কিছুটা ভিন্নতা প্রদর্শন করে। যদিও ব্যাক টু দ্য ফিউচার-এর মতো ক্ল্যাসিক মুভির গল্পকাঠামোর সঙ্গে মিল রয়েছে, তবুও এখানে পারিবারিক সম্পর্কের গভীরতা এবং রসাত্মক সংলাপের মাধ্যমে এক অনন্য মাত্রা যোগ করা হয়েছে। মুভির প্রথমার্ধে একটি আবেগঘন দৃশ্য রয়েছে, যেখানে পূর্ণবয়স্ক অ্যাডাম তার মায়ের সঙ্গে দেখা করে এবং ছোটবেলার ভুলগুলো স্বীকার করে, যা দর্শকদের হৃদয় স্পর্শ করে।
অভিনয় ও নির্মাণ
রায়ান রেনল্ড অ্যাডাম রিডসের ভূমিকায় অসাধারণ অভিনয় করেছেন, বিশেষত অ্যাকশন কমেডি দৃশ্যগুলোতে তাঁর দক্ষতা চোখে পড়ার মতো। ওয়াকার স্কোবেল কিশোর অ্যাডামের চরিত্রে, মার্ক রাফেলো বিজ্ঞানী বাবা লুইস রিডের ভূমিকায় এবং জো সালদানা অ্যাডামের স্ত্রীর চরিত্রে অভিনয় করে পর্দায় নিজেদের উপস্থিতি জোরালোভাবে জানিয়েছেন। মুভিটি মূলত ২০১২ সালে নির্মাণের পরিকল্পনা করা হলেও কারিগরি ও আর্থিক জটিলতায় বিলম্বিত হয়, এবং পরে নেটফ্লিক্স প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানকে কিনে নিয়ে ২০২১ সালে নির্মাণ কাজ পুনরায় শুরু করে। ১১৬ মিলিয়ন ইউএস ডলার ব্যয়ে নির্মিত এই মুভির এডিটিং, ভিএফএক্স এবং সাউন্ড সবকিছুই উচ্চমানের।
দর্শকদের জন্য উপযোগিতা
টাইম ট্রাভেল বিষয়ক মুভিগুলোর মধ্যে দ্য অ্যাডাম প্রজেক্ট একটি সহজ-সরল কিন্তু জমজমাট গল্প উপহার দেয়। এটি বিজ্ঞান কল্পকাহিনি প্রেমীদের জন্য আকর্ষণীয়, এবং পরিবারের সঙ্গে বসে দেখার মতো দারুণ উপভোগ্য একটি চলচ্চিত্র। আইএমডিবি রেটিং ৬.৭ এবং ১ ঘণ্টা ৪৬ মিনিটের ব্যাপ্তি নিয়ে এই মুভি দর্শকদের সময়ের মূল্য দেবে।



