এপস্টেইন নথিতে স্টিফেন হকিংয়ের ছবি প্রকাশ, সামাজিক মাধ্যমে তোলপাড়
যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ গত দুই মাসে জেফরি এপস্টেইন ঘিরে যৌন পাচার–সংক্রান্ত তদন্তের লাখ লাখ নথি প্রকাশ করেছে। এসব নথিতে বিশ্বের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নাম ও চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। এনিয়ে প্রায় প্রতিনিয়ত বিভিন্ন দেশে তোলপাড় চলছে।
ছবিতে হকিংয়ের উপস্থিতি
এবার সেই নথিতে ব্রিটিশ পদার্থবিজ্ঞানী স্টিফেন হকিংয়ের একটি ছবি সামনে এসেছে। সেই ছবিতে দেখা যাচ্ছে, স্টিফেন হকিং একটি সান লাউঞ্জারে হেলান দিয়ে বিশ্রাম নিচ্ছেন। তার হাতে ছিল ককটেল (পানীয়) এবং তার দুই পাশেই বিকিনি পরে অবস্থান করছিলেন দুই নারী। তাদের হাতেও ছিল পানীয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবিটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।
হকিংয়ের জীবন ও অসুস্থতা
দীর্ঘ বছর ধরে মোটর নিউরন রোগে ভোগা স্টিফেন হকিং ২০১৮ সালে ৭৬ বছর বয়সে মারা যান। বিরল এই অসুখের কারণে অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় তিনি চলৎশক্তিহীন ছিলেন।
ছবির পেছনের ইতিহাস
দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্টিফেনের ওই ছবিটি ২০০৬ সালে তোলা হয়েছিল। সেইসময় এপস্টেইনের অর্থায়নে আয়োজিত একটি বৈজ্ঞানিক সম্মেলনে অংশ নিতে ভার্জিন দ্বীপপুঞ্জে গিয়েছিলেন স্টিফেন। সেখানে কোয়ান্টাম কসমোলজির ওপর ভাষণ দিয়েছিলেন এই বিজ্ঞানী।
নথির বিস্তারিত তথ্য
প্রকাশিত নথির বরাতে বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দ্য টাইমস জানিয়েছে, ওই সফরে ২১ জন বিজ্ঞানী সেন্ট থমাস দ্বীপ ও এপস্টেইনের ব্যক্তিগত দ্বীপ লিটল সেন্ট জেমসে অবস্থান করেছিলেন। আয়োজনটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল পাঁচ তারকা রিটজ-কার্লটন হোটেলে।
নথিতে হকিংয়ের নামের উল্লেখ
এপস্টেইন নথিতে স্টিফেন হকিংয়ের নাম শত শত বার এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নথিতে কারও নাম আসার অর্থ এই না যে তিনিও এপস্টেইনের অন্যায়ের সঙ্গে জড়িত। তবে এপস্টেইনের যৌন দাসত্বের স্বীকার হওয়া ভার্জিনিয়া জিউফ্রে অভিযোগ করেছিলেন, স্টিফেন হকিং অপ্রাপ্তবয়স্কদের সঙ্গে অর্গিতে (দলবদ্ধ যৌনতা) অংশ নিয়েছিলেন।
অভিযোগের অবস্থা
২০২৫ সালের এপ্রিলে আত্মহত্যা করা জিউফ্রের এই দাবিটি এখনো প্রমাণহীন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই ছবি ছাড়াও স্টিফেন হকিংকে এপস্টেইনের ক্যারিবিয়ান দ্বীপে তোলা ছবিতে দেখা গেছে।
