কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ধসে মৃত্যুর ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছে বাংলাদেশে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) এক বিবৃতিতে এ শোক জানানো হয়।
মর্মান্তিক প্রাণহানিতে সমবেদনা
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পে মঙ্গলবার (৭ জুলাই) মাদ্রাসা ধসে যেসব পরিবার তাদের প্রিয়জনদের হারিয়েছে, তাদের প্রতি ইউএনএইচসিআর গভীর সমবেদনা জানাচ্ছে। একইসঙ্গে এ সপ্তাহের শুরুতে প্রাণঘাতী ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যায় যারা নিহত হয়েছেন, তাদের পরিবারগুলোর প্রতিও আমাদের আন্তরিক সমবেদনা রইলো।
দুর্যোগ ঝুঁকি এবং ঘনবসতিপূর্ণ ক্যাম্প
এই প্রাণহানি আবারও মনে করিয়ে দেয়, প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখে এসব ক্যাম্পে কতটা ঝুঁকিপূর্ণ এবং প্রতি বর্ষা মৌসুমে রোহিঙ্গা পরিবারগুলো কত বড় ঝুঁকির সম্মুখীন হয়। বিশ্বের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ শরণার্থী ক্যাম্পে ১২ লাখের বেশি শরণার্থীর বসবাসের কারণে এখনও বিপুল সংখ্যক মানুষ ভূমিধস, বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, অগ্নিকাণ্ড এবং অন্যান্য পরিবেশগত ঝুঁকির মধ্যে বসবাস করছেন।
অর্থায়ন সংকট ও জমি স্বল্পতা
রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সামনে থাকা অনেক ঝুঁকি পূর্বানুমানহীন বা অনিবার্য নয়; টেকসই দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসে যথাযথ সুযোগ ও সম্পদ নিশ্চিত করা গেলে এসব ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব। কিন্তু দীর্ঘস্থায়ী অর্থায়ন সংকটের কারণে দুর্যোগ প্রস্তুতি এবং সহনশীলতা বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ ক্রমেই কমে যাচ্ছে। পাশাপাশি, পর্যাপ্ত জমি বরাদ্দ না থাকায় অতিরিক্ত জনবসতিপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোর ঘনত্ব কমানো এবং আরও নিরাপদ অবকাঠামো পরিকল্পনা করার সুযোগও সীমিত হয়ে পড়ছে।
কৌশলগত হস্তক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা
আমরা জানি, ঝুঁকি জরুরি অবস্থায় রূপ নেওয়ার আগেই তা কমাতে কৌশলগত হস্তক্ষেপ কার্যকর হতে পারে। কিন্তু বাস্তবে মানবিক সংস্থাগুলোকে প্রায়ই দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের পরিবর্তে স্বল্পমেয়াদি পদক্ষেপ গ্রহণ করতে বাধ্য হতে হয়। এই সীমাবদ্ধতার করুণ পরিণতি চলতি সপ্তাহে মর্মান্তিকভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।
ভবিষ্যৎ প্রচেষ্টা
শরণার্থী ক্যাম্পে বসবাসরত মানুষের নিরাপত্তা বৃদ্ধি এবং তাদের জীবন রক্ষার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সম্পদ, জমি ও পরিকল্পনার সুযোগ নিশ্চিত করার জন্য ইউএনএইচসিআর তার জোরালো প্রচারণা অব্যাহত রাখবে। একইসঙ্গে, শরণার্থীদের জন্য টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদি সমাধান অনুসন্ধানের প্রচেষ্টাও অব্যাহত থাকবে।
ঘটনার বিবরণ
উল্লেখ্য, উখিয়ার ৫ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ধসে মহিলা মাদ্রাসা ও হেফজখানার ওপর পড়ে আট শিশুশিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে।



