পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক মো. রুহুল আমিনকে হত্যার হুমকি দিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন ছাত্রদলের এক কর্মী। এ ঘটনায় গত মঙ্গলবার রাতে বাউফল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হয়েছে।
হুমকির ঘটনা
বাউফল উপজেলা ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক মো. রুহুল আমিন (২২)। অভিযুক্ত ব্যক্তি ইফতি আহম্মেদ (শাওন) উপজেলার নাজিরপুর গ্রামের মো. অহিদুল গাজীর ছেলে। তিনি ছাত্রদলের সক্রিয় কর্মী, যদিও কোনো পদ-পদবিতে নেই। ছাত্রদলের উপজেলা ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে তাঁর সখ্য রয়েছে।
দলীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার বাউফল উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি আবদুল্লাহ আল ফাহাদ তাঁর ফেসবুক অ্যাকাউন্টে স্ট্যাটাস দিয়ে লেখেন, ‘এক বোতলের দুই সিপি, জামায়াত আর এনসিপি’। এরপর উপজেলা ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক রুহুল আমিন তাঁর ফেসবুক অ্যাকাউন্টে লেখেন, ‘নৌকা আর ধানের শীষ, দুই সাপের একই বিষ’।
ছাত্রদল কর্মীর হুমকি
এ নিয়ে ছাত্রদলের কর্মী ইফতি আহম্মেদ শাওন তাঁর ফেসবুক আইডিতে রুহুল আমিনের স্ট্যাটাসের ফটোকার্ড শেয়ার করে অনেক অশালীন কথা লিখেন। সেখানে তিনি লিখেন, ‘তোকে (রুহুল আমিন) এমন মার মারমু, থানার সামনে ঝুলিয়ে রাখব, তোর বাবা...করতে পারবে না।’ ইফতি আহমেদের ওই স্ট্যাটাসের সমর্থন জানিয়ে মন্তব্যের ঘরে লিখেছেন উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি আবদুল্লাহ আল ফাহাদ। তিনিও অশালীন কথা লিখেছেন।
প্রতিক্রিয়া ও ব্যবস্থা
এ বিষয়ে এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মুজাহদিুল ইসলাম (শাহীন) বলেন, ছাত্রশক্তির নেতাকে প্রকাশ্যে মেরে থানার সামনে ঝুলিয়ে রাখার হুমকি খুবই দুঃখজনক। আর ছাত্রদল কর্মীর ওই হুমকিকে সমর্থন জানিয়ে ছাত্রদল নেতার অশালীন কমেন্ট খুবই উদ্বেগজনক।
এ বিষয়ে জানার জন্য ছাত্রদল কর্মী ইফতি আহম্মেদের মুঠোফোনে কল করলে বন্ধ পাওয়া যায়। পরে বিভিন্ন মাধ্যমে যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি। বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম জানান, এ বিষয়ে সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



