মুম্বাইয়ে মুহাররম মিছিলে বিষ ক্যাপসুল বিতরণের ষড়যন্ত্র নস্যাৎ, আটক ১
মুম্বাইয়ে মুহাররম মিছিলে বিষ ক্যাপসুল বিতরণের ষড়যন্ত্র নস্যাৎ

ভারতের মুম্বাইয়ে মুহাররমের শোভাযাত্রা বা তাজিয়া মিছিলকে লক্ষ্য করে বিষ মেশানো ক্যাপসুল বিতরণের একটি ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় এক সন্দেহভাজনকে আটক করে তার কাছ থেকে ১৪ হাজার ৯০০টি বিষভর্তি ক্যাপসুল জব্দ করা হয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে এ খবর জানিয়েছে।

আটক ব্যক্তির পরিচয় ও পরিকল্পনা

আটক ব্যক্তির নাম ফাইয়াজ প্রেমজি। তিনি পুনের বিমান নগর এলাকার বাসিন্দা এবং সেখানে রঙের ব্যবসা পরিচালনা করেন। তিনি মুম্বাইয়ের ডোংরি এলাকার একটি গেস্ট হাউস ও ডরমিটরিতে অবস্থান করছিলেন। পুলিশের দাবি, তার লক্ষ্য ছিল জেজে ও বাইকুল্লা এলাকা দিয়ে যাওয়া মুহাররমের শোভাযাত্রা বা তাজিয়া মিছিল।

পুলিশ জানিয়েছে, ফাইয়াজ প্রেমজি তাজিয়া মিছিলে বিষ মেশানো ক্যাপসুল বিতরণ করে বড় ধরনের ট্র্যাজেডি ঘটানোর পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে ক্যাপসুলগুলো বিতরণের আগেই তাকে আটক করা হয়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বিষ তৈরির পদ্ধতি ও জব্দকৃত ক্যাপসুল

তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, অভিযুক্ত প্রায় ৫০ কেজি জিঙ্ক ফসফাইড, যা ইঁদুর মারার বিষ হিসেবে ব্যবহৃত হয়, সংগ্রহ করেছিলেন। এরপর কয়েক দিন ধরে নিজের বাসায় ক্যাপসুলে ওই বিষ ভরেন। প্রতিটি ক্যাপসুলে প্রায় এক গ্রাম জিঙ্ক ফসফাইড ছিল বলে জানিয়েছে তদন্তকারীরা।

মুম্বাই পুলিশের দাবি, ফসফরাস মেশানো ক্যাপসুল তাজিয়া মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে বিতরণের সময় অভিযুক্ত সন্দেহের আওতায় আসেন। ভোর ৪টার দিকে এক ব্যক্তি বমি ও পেটব্যথার অভিযোগ করার পর পুলিশ ঘটনাটি জানতে পারে এবং দ্রুত তাকে আটক করে। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি মুহাররমের শোভাযাত্রাকে লক্ষ্যবস্তু করার উদ্দেশ্যের কথা স্বীকার করেছেন বলে দাবি পুলিশের।

আইনি ব্যবস্থা ও তদন্ত

এ ঘটনায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (বিএনএস) ১০৯, ১১০ ও ১২৩ ধারায় অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। অভিযোগগুলোর মধ্যে বিষ প্রয়োগ এবং হত্যাচেষ্টার অভিযোগও রয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত প্রায় ৩০ হাজার ক্যাপসুল প্রস্তুতের পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে তার আগেই ১৪ হাজার ৯০০টি ক্যাপসুল জব্দ করা হয়। তদন্তকারীদের মতে, সময়মতো অভিযান চালানোর ফলে সম্ভাব্য বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো গেছে।

তদন্তকারীরা অভিযুক্তের মোবাইল ফোন, ডিজিটাল তথ্য, আর্থিক লেনদেন এবং যোগাযোগের তথ্য পরীক্ষা করছেন। তিনি একাই কাজ করেছেন নাকি কোনও ব্যক্তি বা সংগঠনের প্রভাবে এই পরিকল্পনা করেছিলেন, তাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।