ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মনিরুল ইসলাম রবিবার (১২ জুলাই) সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় উগ্রবাদী সংগঠন ‘ফাতাহ কমব্যাট সিস্টেম-এফসিএস’-এর সাত সদস্যকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের রিমান্ডের আদেশ দিয়েছেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
রিমান্ডে যাওয়া আসামিরা
রিমান্ডে যাওয়া আসামিরা হলেন— শাহ আমানত সাবির, হোসাইন তানিম, জুনায়েদ, আতাউল্লাহ শাহ, আবিদুর রহমান, বায়োজিত এবং তাহসীন ইসলাম। এর মধ্যে শাহ আমানত সাবির ও হোসাইন তানিম দ্বিতীয় দফায় রিমান্ডে রয়েছেন।
গ্রেফতারের বিবরণ
গত ৫ মে ভোর সাড়ে ৬টার দিকে যাত্রাবাড়ীর মিনি কক্সবাজার এলাকা থেকে শাহ আমানত সাবির, হোসাইন তানিম, জুনায়েদ, আতাউল্লাহ শাহ, আবিদুর রহমান ও বায়োজিতকে গ্রেফতার করে পুলিশ। অন্যদিকে, বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে যশোর সদর উপজেলার কিসমত নোয়াপাড়া এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে তাহসীন ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়।
আদালতের কার্যক্রম
প্রথমে গ্রেফতার দেখানোর বিষয়ে শুনানি হয়। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ্ ফারজানা হক তাদের গ্রেফতার দেখানোর আদেশ দেন। এরপর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মনিরুল ইসলামের আদালতে রিমান্ডের বিষয়ে শুনানি হয়। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামছুদ্দোহা সুমন বলেন, “রাষ্ট্রপক্ষ থেকে যুক্তি তুলে ধরে আসামিদের সর্বোচ্চ রিমান্ড মঞ্জুরের প্রার্থণা করা হয়। আসামিদের পক্ষে তাদের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল করে জামিন প্রার্থণা করেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত প্রত্যেক আসামির তিন দিনের রিমান্ডের আদেশ দিয়েছেন।”
মামলার বিবরণ
শনিবার যাত্রাবাড়ী থানার ইন্সপেক্টর এ বি সিদ্দিক সন্ত্রাস বিরোধী আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলায় ১৬ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামাদের আসামি করা হয়। রবিবার কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইমের (সিটিটিসি) সিটিআই-৩ টিমের এসআই মনিরুজ্জামান এই সাতজনকে গ্রেফতার দেখানোসহ সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে।
উগ্রবাদী কার্যক্রমের বিবরণ
রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা জানায়, তাদের ‘সাবির ভাইয়ের জামাত’ নামক একটি সংগঠন রয়েছে। সংগঠনের মূলনীতি হলো জঙ্গিবাদের মাধ্যমে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব বিপন্ন করে রাষ্ট্রের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড ব্যাহত করে ‘শরিয়াহ মতবাদ’ প্রতিষ্ঠা করা। সাবির সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ‘ফাতাহ কমব্যাট সিস্টেম’ নামক একটি ফেসবুক পেজ খোলে। মার্শাল আর্ট শেখার আড়ালে উগ্রবাদী সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল। তারা অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ফেসবুক, ম্যাসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রামসহ বিভিন্ন অ্যাপস দিয়ে গ্রুপ চ্যাট, পার্সোনাল চ্যাট ও চ্যানেল ইত্যাদির মাধ্যমে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ করে সংগঠনের সদস্যরা ভিন্ন ভিন্ন ছদ্ম নাম ব্যবহার করে উগ্রবাদী লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও আদর্শ বাস্তবায়নের জন্য কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল।



