ঢাকা থেকে কলম্বোগামী ফিটস এয়ারের ফ্লাইট (৮ডি ০৯১২) কারিগরি ত্রুটির কারণে সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা দেরিতে ছেড়েছে। এ সময় ১৮২ জন যাত্রীকে বদ্ধ বিমানের ভেতরে বসিয়ে রাখা হয়। শারীরিক ও মানসিক বিপর্যয়ের শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা। তাঁদের অভিযোগ, পর্যাপ্ত খাবার বা সহায়তা দেওয়া হয়নি, বরং দুর্ব্যবহার করা হয়েছে।
যাত্রীদের দুঃসহ অভিজ্ঞতা
শ্রীলঙ্কাগামী যাত্রী সোনিয়া রিফাত বলেন, 'চেক-ইন থেকে বিমানে ওঠা পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াটি ছিল চরম বিশৃঙ্খল। এয়ারলাইনসের কর্মীদের ব্যবহার ছিল অত্যন্ত অপেশাদার।' তিনি জানান, ফ্লাইটে ওঠার পরপরই কারিগরি ত্রুটির কথা জানানো হয়, কিন্তু দীর্ঘ সময় সমাধানের সম্ভাবনা না থাকা সত্ত্বেও যাত্রীদের নামতে দেওয়া হয়নি। সোনিয়া তীব্র শ্বাসকষ্টে ভুগতে শুরু করলেও দরজার সামনে গিয়ে একটু শ্বাস নেওয়ার চেষ্টা করতে হয়। সকাল সাড়ে সাতটার আগে কোনো খাবার সরবরাহ করা হয়নি বলে অভিযোগ তাঁর।
আরেক যাত্রী মেহরীন রহমান বলেন, 'প্লেনে কোনো খাবার বা রিফ্রেশমেন্টের ব্যবস্থা ছিল না। অনেক ডায়াবেটিক পেশেন্ট ছিলেন, যাঁদের নির্দিষ্ট সময়ে খাবার প্রয়োজন। ফিটস এয়ারে কোনো মানবিক সহায়তা না থাকায় তাঁরা ভুক্তভোগী হয়েছেন।'
শারীরিক অসুস্থতা ও পরবর্তী ব্যবস্থা
শ্রীলঙ্কায় পৌঁছানোর পর সোনিয়া রিফাতকে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়। তিনি অসুস্থতার প্রমাণ হিসেবে শ্রীলঙ্কার একটি হাসপাতালের ব্যবস্থাপত্র দেখান। এই তিক্ত অভিজ্ঞতার পর তাঁদের সংগঠন গো-গার্লস ভবিষ্যতে ফিটস এয়ারের সঙ্গে কোনো ট্যুর পরিচালনা না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
ফিটস এয়ারের মুখপাত্রের বক্তব্য
ফিটস এয়ারের মুখপাত্র 'রানা' দাবি করেন, ফ্লাইটটি নির্ধারিত সময়ের 'মাত্র ৪৫ মিনিট' বিলম্বিত ছিল। তিনি বলেন, রানওয়ে সংস্কার ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে ফ্লাইট ছাড়তে দেরি হয়েছে। কিন্তু যাত্রীদের তোলা ছবি বিশ্লেষণে দেখা যায়, ফ্লাইটটি রাত ২টা ১৫ মিনিটের পরিবর্তে সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে উড্ডয়ন করে, অর্থাৎ ৫ ঘণ্টা ৩৫ মিনিট দেরি।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ ই-মেইলে জানান, উড্ডয়নের আগে হাইড্রোলিক ফ্লুইড লেভেল কমে যাওয়ায় কারিগরি ত্রুটি ধরা পড়ে। যাত্রীরা রাত ২টা ৪৫ মিনিট থেকে সকাল ৭টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত বিমানের ভেতরে ছিলেন। তাঁরা সকাল ৬টায় হালকা নাশতার ব্যবস্থা করেছিলেন। যাত্রীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি।



