ফ্রান্সে এপস্টিন কেলেঙ্কারি: নতুন বিচারিক দল গঠন, ফরাসি নাগরিকদের সংশ্লিষ্টতা তদন্ত
ফ্রান্সে এপস্টিন কেলেঙ্কারি তদন্তে নতুন বিচারিক দল

ফ্রান্সে এপস্টিন কেলেঙ্কারি তদন্তে নতুন বিচারিক দল গঠন

যুক্তরাষ্ট্রের দণ্ডিত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টিনের অপরাধের সঙ্গে ফরাসি নাগরিকদের সংশ্লিষ্টতা খতিয়ে দেখতে একটি বিশেষ বিচারিক দল গঠনের ঘোষণা দিয়েছে প্যারিস প্রসিকিউটর অফিস। গত শনিবার এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। মার্কিন বিচার বিভাগ সম্প্রতি এপস্টিন-সংক্রান্ত প্রায় ৩০ লাখ নথি প্রকাশ করার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যাতে কয়েকজন প্রভাবশালী ফরাসি নাগরিকের নাম উল্লেখ রয়েছে।

ব্রুনেলের মামলা পুনর্বিবেচনা ও নতুন তদন্ত

প্যারিস প্রসিকিউটর অফিস জানিয়েছে, তারা এপস্টিনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং ফরাসি মডেলিং এজেন্সির সাবেক নির্বাহী জঁ-লুক ব্রুনেলের মামলাটি আবারও পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করবে। নতুন গঠিত বিচারিক দল ফ্রান্সের জাতীয় আর্থিক অপরাধ ইউনিট এবং পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবে, যার মূল লক্ষ্য হলো এপস্টিনের সঙ্গে ফরাসি নাগরিকদের জড়িত থাকার বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করে নতুন করে তদন্ত করা।

অপ্রাপ্ত বয়স্ক নারীদের ধর্ষণের অভিযোগে ২০২০ সালে ব্রুনেলকে আটক করা হয়েছিল, এবং ২০২২ সালে প্যারিসের একটি কারাগার থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মৃত্যুর পর ২০২৩ সালে তাঁর মামলাটি বন্ধ করে দেওয়া হলেও, এপস্টিন-সংক্রান্ত নতুন নথি প্রকাশের পর এটি আবার সামনে এসেছে। প্রসিকিউটররা দাবি করেন, ব্রুনেল এপস্টিনের ‘ঘনিষ্ঠ বন্ধু’ ছিলেন এবং দরিদ্র পরিবারের মেয়েদের মডেলিংয়ের কাজ দেওয়ার প্রলোভন দেখাতেন।

নতুন অভিযোগ ও ফরাসি নাগরিকদের নাম

মার্কিন বিচার বিভাগের সর্বশেষ নথিতে বেশ কয়েকজন পরিচিত ফরাসি নাগরিকের নাম উঠে এসেছে, যদিও এপস্টিন নথিতে কারও নাম থাকা মানেই তিনি অপরাধী নন। প্রসিকিউটর অফিস জানিয়েছে, ফরাসি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুরোধে জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক ফাব্রিস এইডানের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। এ ছাড়া, ড্যানিয়েল সিয়াড নামের এক মডেল নিয়োগদাতার বিরুদ্ধে ১৯৯০ সালে ফ্রান্সে ধর্ষণের অভিযোগ এনেছেন সুইডেনের এক নারী। ফরাসি সংগীত পরিচালক ফ্রেডেরিক চাসলিনের বিরুদ্ধেও ২০১৬ সালে যৌন হয়রানির অভিযোগ জমা পড়েছে।

জ্যাক ল্যাং-এর পদত্যাগ ও প্রতিক্রিয়া

এপস্টিন নথিতে নাম আসায় ফ্রান্সের সাবেক মন্ত্রী জ্যাক ল্যাং ‘আরব ওয়ার্ল্ড ইনস্টিটিউটের’ (আইএমএ) প্রধানের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। ২০১৬ সালে এপস্টিনের প্রতিষ্ঠিত একটি বিদেশভিত্তিক কোম্পানির নথিতে নিজের নাম থাকায় তিনি ‘বিস্ময়’ প্রকাশ করেছেন, তবে কোনো অপকর্মে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছেন। ল্যাং ও তাঁর মেয়ে ক্যারোলিন ল্যাংয়ের বিরুদ্ধে কর ফাঁকি ও অর্থ পাচারের অভিযোগে প্রাথমিক তদন্ত শুরু হয়েছে। একটি সাক্ষাৎকারে ল্যাং নিজেকে ‘দুধে ধোয়া তুলসী পাতা’ দাবি করেন এবং অভিযোগকে ‘মিথ্যার সুনামি’ বলে মন্তব্য করেন।

যৌন নিপীড়নের অপরাধে দোষী সাব্যস্ত এপস্টিন ২০১৯ সালের ১০ আগস্ট নিউইয়র্কের একটি কারাগারে মারা যান, যেখানে মার্কিন কর্তৃপক্ষের মতে তিনি আত্মহত্যা করেছেন। এই ঘটনা আন্তর্জাতিক স্তরে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে, এবং ফ্রান্সে নতুন তদন্ত দল গঠন করে এর বিস্তারিত খতিয়ে দেখা হচ্ছে।