ছবি তোলার নেশায় দক্ষিণ কোরিয়ার যুদ্ধবিমানের সংঘর্ষ, তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য
ছবি তোলার নেশায় দক্ষিণ কোরিয়ার যুদ্ধবিমানের সংঘর্ষ

ছবি তোলার নেশায় দক্ষিণ কোরিয়ার যুদ্ধবিমানের সংঘর্ষ, তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য

আকাশের নীলিমায় যুদ্ধবিমান নিয়ে উড়ছেন পাইলটরা, কিন্তু তাদের লক্ষ্য শত্রুপক্ষ দমন নয়, বরং একটি ভালো ছবি বা ভিডিও তোলা! শুনতে অদ্ভুত মনে হলেও দক্ষিণ কোরিয়ায় ঠিক এমন এক ঘটনার জেরেই ঘটেছিল দুই যুদ্ধবিমানের ভয়াবহ সংঘর্ষ। ২০২১ সালে ঘটে যাওয়া এই ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন সম্প্রতি প্রকাশ করেছে সিউলের বোর্ড অব অডিট অ্যান্ড ইন্সপেকশন, যা চাঞ্চল্যকর তথ্য উন্মোচন করেছে।

তদন্তে উঠে এলো বিস্ময়কর ঘটনার বিবরণ

প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এক বিস্ময়কর তথ্য। ২০২১ সালে দেশটির দাইগু শহরে ফ্লাইট মিশনের সময় এফ-১৫কে মডেলের দুটি যুদ্ধবিমান একে অপরের সঙ্গে ধাক্কা খায়। আর এর নেপথ্যে ছিল পাইলটদের ছবি তোলার নেশা, যা এই ধরনের দুর্ঘটনার জন্য অপ্রত্যাশিত কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

তদন্তে জানা গেছে, ওই মিশনে অংশ নেওয়া এক পাইলট চেয়েছিলেন তার শেষ ফ্লাইটের স্মৃতি ধরে রাখতে। ফ্লাইটের আগেই ব্রিফিংয়ে তিনি ছবি তোলার ইচ্ছার কথা জানিয়েছিলেন। ওই সময় পাইলটদের মধ্যে এই ধরনের ছবি বা ভিডিও তোলার প্রবণতা বেশ ‘প্রচলিত’ ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, যা নিরাপত্তা প্রোটোকল লঙ্ঘনের একটি উদাহরণ।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সংঘর্ষের মুহূর্ত এবং পরিণতি

ঘটনার দিন, নিজের বিমান নিয়ে ফেরার পথে তিনি ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে ছবি তোলা শুরু করেন। বিষয়টি নজরে আসতেই লিড বিমানের পাইলট তার বিমানের আরেকজনকে নির্দেশ দেন ওই উইংম্যান বিমানের ভিডিও করতে। ভালো শট নেওয়ার জন্য ওই পাইলট হঠাৎ তার যুদ্ধবিমানটিকে উঁচুতে তুলে উল্টে ফেলেন। আর তাতেই ঘটে বিপত্তি। সংঘর্ষ এড়াতে লিড বিমানটি দ্রুত নিচে নামার চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত দুই বিমানের মধ্যে ধাক্কা লাগে। এতে লিড বিমানের বাম পাখা এবং উইংম্যান বিমানের লেজের দিকের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যা একটি গুরুতর নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

এই সংঘর্ষে বিমানের যে ক্ষতি হয়েছিল, তা সারিয়ে তুলতে খরচ পড়েছিল ৮৮০ মিলিয়ন ওন, যা প্রায় ৫ লাখ ৯৬ হাজার ডলারের সমতুল্য। দুর্ঘটনার পর ওই উইংম্যান পাইলটকে বিমান বাহিনী থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। পরবর্তীতে তিনি বিমান বাহিনী ছেড়ে বাণিজ্যিক এয়ারলাইনসে যোগ দেন, যা তার পেশাগত জীবনে একটি বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখা যায়।

তদন্তের ফলাফল এবং জরিমানা নির্ধারণ

তদন্ত শেষে বিমান বাহিনী ওই পাইলটকে পুরো ৮৮০ মিলিয়ন ওন জরিমানা করতে চেয়েছিল। তবে ওই পাইলট আপিল করলে বিষয়টি অডিট বোর্ডের নজরে আসে। তিনি স্বীকার করেন যে, তার আচমকা কৌশলের কারণেই সংঘর্ষটি ঘটেছে। তবে তার দাবি, ছবি তোলার বিষয়টিতে লিড পাইলটের ‘মৌন সম্মতি’ ছিল, যা তদন্তে একটি বিতর্কিত বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে।

শেষ পর্যন্ত অডিট বোর্ড রায় দেয় যে, ওই পাইলটকে মোট খরচের মাত্র ১০ শতাংশ বা ৮৮ মিলিয়ন ওন জরিমানা দিতে হবে। বোর্ডের মতে, পাইলটদের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনের ব্যবহারের ওপর সঠিক নিয়ন্ত্রণ না থাকায় বিমান বাহিনীও এর দায় এড়াতে পারে না। অবশ্য পাইলটের অতীত রেকর্ড ভালো ছিল এবং দুর্ঘটনার পর তিনি দক্ষতার সঙ্গে বিমানটিকে নিরাপদ ঘাঁটিতে ফিরিয়ে আনতে পেরেছিলেন, যা বিচারে গুরুত্ব পেয়েছে এবং জরিমানা হ্রাসের কারণ হিসেবে কাজ করেছে।

তবে ওই ঘটনার পর লিড পাইলট বা অন্য কারও বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি, যা একটি উন্মুক্ত প্রশ্ন রেখে গেছে। এই ঘটনা দক্ষিণ কোরিয়ার বিমান বাহিনীর নিরাপত্তা প্রোটোকল এবং পাইলটদের প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার উপর গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার জন্ম দিয়েছে।