ঈশ্বরগঞ্জে সন্ত্রাসী হামলায় অর্ধশত বাড়িঘর ভাংচুর, বিয়ের অনুষ্ঠান পণ্ড
ঈশ্বরগঞ্জে সন্ত্রাসী হামলায় অর্ধশত বাড়িঘর ভাংচুর

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে সন্ত্রাসী হামলায় অর্ধশত বাড়িঘরে ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। সন্ত্রাসীরা একটি বিয়েবাড়িতে হামলা চালিয়ে প্যান্ডেল ভাংচুরসহ রান্না করা খাবার ফেলে দেয়। রোববার উপজেলার উচাখিলা ইউনিয়নের চর-আলগী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

ঘটনার সূত্রপাত

জানা যায়, ঈদের পরদিন উচাখিলার বটতলা বালুর ঘাটে ফুসকা খাওয়া নিয়ে মরিচারচর গ্রামের সায়েম ও রবিন এবং চর আলগী গ্রামের মোনায়েম ও খোকনের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে তাদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। বিষয়টি মরিচারচরের লোকজন জানতে পেরে পরদিন শনিবার দুপুরের দিকে প্রায় ৪-৫শ লোক দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে চর-আলগী গ্রামে মহড়া দিয়ে উচাখিলা বাজারে অবস্থান নেয়। বিষয়টি স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানসহ গণ্যমান্য লোকজন মীমাংসার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন।

সন্ত্রাসী হামলা ও লুটপাট

এর জের ধরে রোববার মরিচারচর গ্রামে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে প্রায় ৫ শতাধিক লোক জড়ো হয়ে দিনদুপুরে চর আলগী গ্রামে সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে প্রায় অর্ধশত ঘরে ভাংচুর ও লুটপাট করে। এ সময় ওই গ্রামের নাজিম উদ্দিনের কন্যার বিয়ের অনুষ্ঠানে হামলা চালিয়ে প্যান্ডেল, আসবাবপত্র ও রান্না করা খাবার ফেলে দেয়। এমন খবরে বরযাত্রীরা বিয়ে বাড়িতে না আসায় বিয়ের অনুষ্ঠান পণ্ড হয়ে যায়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

নাজিম উদ্দিন অভিযোগ করেন, “সন্ত্রাসীরা আমার মেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে হামলা চালিয়ে ভাংচুর ও লুটপাট করেছে। রান্না করা খাবার ফেলে দিয়েছে। আমার একটি গরু ও নগদ ১ লাখ টাকা নিয়ে গেছে। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।”

ভুক্তভোগী চুন্নু মিয়া বলেন, “সন্ত্রাসীদের তাণ্ডবে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এলাকা থেকে প্রায় ১৫-২০টি গরু ও ১০টি ছাগল লুট করে নিয়ে যায়।”

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ

সরেজমিনে কথা বলে জানা যায়, চুন্নু মিয়ার ২টি গরু, সাগরের ২টি গরু, সালামের ২টি গরু, বিল্লাল মিয়ার ১টি গরু, মফিদুলের ২টি গরু, আব্দুল বারেকের ১টি গরু, মুক্তারের ৩টি খাসি ও সামাদের ২টি খাসি লুট করে নিয়ে যায়। হলুদ মিয়ার সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, “আমাদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে গরু বিক্রির রক্ষিত নগদ ২ লাখ টাকা, মোশাররফের ১ লাখ টাকা ও গ্যাসের সিলিন্ডার এবং রান্না করা ভাত পাতিলসহ নিয়ে গেছে।”

এলাকাবাসী জানান, সন্ত্রাসী গ্রুপটি যাবার সময় অন্তত ৫০টি গোখাদ্যের খড়ের গাদায় অগ্নিসংযোগ করে; যা এখনো দাউ দাউ করে জ্বলছে।

স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া

ইউপি চেয়ারম্যান আনোয়ারুল হাসান খান সেলিম বলেন, “ফুসকা খাওয়ার মতো তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাড়িঘরে হামলা, ভাংচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের মতো ঘটনা খুবই ন্যক্কারজনক।”

ওসি রবিউল আজম জানান, “ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”