কুষ্টিয়ায় যাত্রীবাহী বাস ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে তিনজন নিহত ও অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। শুক্রবার সকালে কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ সড়কের কুমারখালী উপজেলার বাগোয়ান এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
দুর্ঘটনার বিবরণ
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা একটি যাত্রীবাহী বাস কুষ্টিয়ার দিকে যাচ্ছিল। পথিমধ্যে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি পণ্যবাহী ট্রাকের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের পর বাসটি সড়কের পাশের খাদে পড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই তিনজন মারা যান। আহতদের উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল ও স্থানীয় ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে।
নিহতদের পরিচয়
নিহতদের মধ্যে একজনের নাম মো. জাহিদুল ইসলাম (৪৫) বলে জানা গেছে। অন্য দুজনের পরিচয় এখনও নিশ্চিত করা যায়নি। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য
স্থানীয় বাসিন্দা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, 'হঠাৎ করে বাস ও ট্রাকের মধ্যে জোরে ধাক্কা লাগে। বিকট শব্দে এলাকা কেঁপে ওঠে। আমরা ছুটে গিয়ে দেখি বাসটির সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে গেছে। ভেতরে আটকে পড়া যাত্রীদের উদ্ধার করতে দীর্ঘ সময় লেগেছে।'
পুলিশের ব্যবস্থা
কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজে অংশ নেয়। দুর্ঘটনাকবলিত বাস ও ট্রাকটি জব্দ করা হয়েছে। সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন
এ ঘটনায় আবারও সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ সড়কটি সরু এবং বিপজ্জনক মোড় বেশি থাকায় প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা দ্রুত সড়ক প্রশস্তকরণ ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার উন্নয়নের দাবি জানিয়েছেন।
প্রতিক্রিয়া
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। আহতদের চিকিৎসার জন্য সরকারি পক্ষ থেকে সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। এদিকে, নিহতদের পরিবারের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।



