রাশিয়ার নৌবহর চীনে শুভেচ্ছা সফরে, দুই দেশের বন্ধুত্বের প্রতীক
রাশিয়ার নৌবহর চীনে শুভেচ্ছা সফরে

রাশিয়ার নৌবহর দক্ষিণ চীনের চানচিয়াং শহরে শুভেচ্ছা সফরে

রাশিয়ার একটি নৌবহর বুধবার সকালে দক্ষিণ চীনের চানচিয়াং শহরে শুভেচ্ছা সফরে পৌঁছেছে। বহরটি চীনের কুয়াংতোং প্রদেশের একটি সামরিক বন্দরে নোঙর করে এবং চীনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের স্বাগত জানানো হয়। এই সফরটি দুই দেশের নৌবাহিনীর মধ্যে নিয়মিত সৌহার্দ্যপূর্ণ বিনিময়ের অংশ হিসেবে পরিচিত, যার মূল উদ্দেশ্য পারস্পরিক আস্থা ও বাস্তব সহযোগিতা বৃদ্ধি করা।

বহরের জাহাজ ও প্রতীকী গুরুত্ব

রাশিয়ার এই নৌবহরে নৌবাহিনীর করভেট জাহাজ সুভারশেননি এবং রেজকি পাশাপাশি মাঝারি আকারের তেলবাহী জাহাজ পেছেনগা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। জাহাজগুলোতে রাশিয়া ও চীনের পতাকা একসঙ্গে উত্তোলন করা হয়, যা দুই দেশের দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্ব ও কৌশলগত অংশীদারিত্বের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত। এই রুশ যুদ্ধজাহাজগুলো রাশিয়ান প্যাসিফিক ফ্লিটের অংশ এবং এর আগে দুই দেশের নৌবাহিনীর যৌথ সহযোগিতা ও বিনিময় কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছে।

সফরের কার্যক্রম ও উদ্দেশ্য

সফর চলাকালে চীন ও রাশিয়ার নৌসেনারা একে অপরের জাহাজ পরিদর্শন করবেন, সৌজন্য সাক্ষাতে অংশ নেবেন, পেশাগত অভিজ্ঞতা বিনিময় করবেন এবং বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করবেন। চীনের পক্ষ থেকে অংশ নেওয়া গাইডেড-মিসাইল ফ্রিগেট ছেনচৌ একটি দেশীয়ভাবে নির্মিত আধুনিক যুদ্ধজাহাজ, যা আগাম সতর্কতা, লক্ষ্য শনাক্তকরণ এবং সমুদ্র, আকাশ ও সাবমেরিনবিরোধী অভিযানে সক্ষম। এটি এরইমধ্যে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সামরিক মহড়া সফলভাবে সম্পন্ন করেছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সামরিক কর্মকর্তাদের বক্তব্য

ফ্রিগেট ছেনচৌ-এর সাব-লেফটেন্যান্ট চাং ওয়েনসুয়ান জানান, এই সফরের মাধ্যমে রাশিয়ার নৌবাহিনীর সঙ্গে বন্ধুত্ব আরও জোরদার হবে এবং পেশাগত ও প্রযুক্তিগত আলোচনা এগিয়ে যাবে। তিনি উল্লেখ করেন যে, এই কার্যক্রমটি কোনও তৃতীয় পক্ষকে লক্ষ্য করে নয় এবং বর্তমান আন্তর্জাতিক বা আঞ্চলিক পরিস্থিতির সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত নয়। বরং এটি দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান কূটনৈতিক ও সামরিক সম্পর্কের একটি প্রাকৃতিক সম্প্রসারণ।

দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের প্রেক্ষাপট

এই সফরটি চীন ও রাশিয়ার মধ্যে ক্রমবর্ধমান সামরিক ও কৌশলগত সহযোগিতার একটি উল্লেখযোগ্য দিক। দুই দেশই সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যৌথ নৌ মহড়া, প্রযুক্তি বিনিময় এবং কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে তাদের সম্পর্ককে শক্তিশালী করেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই ধরনের বিনিময় কার্যক্রম আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে এবং দুই দেশের মধ্যে আস্থা ও সমন্বয় বৃদ্ধি করে।

সামগ্রিকভাবে, রাশিয়ার নৌবহরের এই সফরটি চীন-রাশিয়া সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে, যা ভবিষ্যতে আরও গভীর সহযোগিতার দিকে ইঙ্গিত করে। সূত্র: সিনহুয়া