রাশিয়া: ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের 'ভয়াবহ পরাজয়'
ইরান ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে ওয়াশিংটনের একপাক্ষিক ও আগ্রাসী নীতির 'ভয়াবহ পরাজয়' হিসেবে চিহ্নিত করেছে রাশিয়া। বুধবার ভোরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার পরপরই এই চুক্তির ঘোষণা করা হয়, যা আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমনে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি ও চরম উত্তেজনা
এর আগে ট্রাম্প স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যে, ওয়াশিংটন সময় মঙ্গলবার রাত ৮টার (বাংলাদেশ সময় বুধবার ভোর ৬টা) মধ্যে পারস্য উপসাগরের কৌশলগত জলপথ হরমুজ প্রণালি খুলে না দিলে ইরানের পুরো সভ্যতা ধ্বংস করে দেওয়া হবে। সেই চরম উত্তেজনা ও যুদ্ধের আশঙ্কার মধ্যেই শেষ পর্যন্ত দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় পক্ষগুলো, যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য একটি স্বস্তিদায়ক খবর বয়ে এনেছে।
রাশিয়ার তীব্র প্রতিক্রিয়া
বুধবার রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা বলেছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আক্রমণাত্মক কথাবার্তা লিখে যে কথিত জয়ের স্বপ্ন দেখা হচ্ছিল, সেই অবস্থানের শোচনীয় পরাজয় ঘটেছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই ধরনের একতরফা, আগ্রাসী এবং উসকানিমূলক আক্রমণের নীতি ধোপে টেকেনি এবং এটি আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি নেতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান
তেহরানের দীর্ঘদিনের মিত্র মস্কো শুরু থেকেই এই সংঘাতের কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানিয়ে আসছিল। জাখারোভা স্পষ্ট ভাষায় বলেন, এই সংকটের কোনও সামরিক সমাধান নেই এবং আমরা শুরু থেকেই এই আগ্রাসন বন্ধের দাবি জানিয়ে আসছি। রাশিয়ার এই অবস্থান আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টার গুরুত্বকে আরও জোরালোভাবে তুলে ধরেছে।
এই যুদ্ধবিরতি চুক্তি শুধুমাত্র একটি অস্থায়ী সমাধান নয়, বরং ভবিষ্যতে আরও ব্যাপক সংঘাত এড়াতে একটি সম্ভাব্য পথও খুলে দিয়েছে বলে বিশ্লেষকরা মত প্রকাশ করেছেন। রাশিয়ার এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে নতুন বিতর্কের সূত্রপাত ঘটাতে পারে, বিশেষ করে একপাক্ষিক নীতি ও সামরিক হুমকির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার মাধ্যমে।



