মালয়েশিয়ায় অভিবাসী শ্রমিকদের আবাসনে অভিযান, বাংলাদেশিসহ আটক ১৬
মালয়েশিয়ার কেদাহ রাজ্যের পাদাং মেইহা শিল্প এলাকায় অভিবাসী শ্রমিকদের আবাসিক স্থাপনায় অভিযান চালিয়েছে দেশটির অভিবাসন বিভাগ। রোববার (১৯ এপ্রিল) রাতে পরিচালিত ‘অপস সাপু’ অভিযানে অবৈধভাবে অবস্থান ও কাজ করার অভিযোগে ১৬ অভিবাসী শ্রমিককে আটক করা হয়েছে।
অভিযানের বিস্তারিত বিবরণ
অভিযান সূত্রে জানা যায়, শিল্প এলাকার নিকটবর্তী একটি দুইতলা বিশিষ্ট ব্লকের বাড়িতে এসব শ্রমিক বসবাস করছিলেন। বাড়ির সামনের অংশে একটি মুদি দোকানও অভিযান পরিচালিত হচ্ছিল, যেখানে রান্নার তেলসহ দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রি করা হতো, যা ওই এলাকার বিদেশি শ্রমিকদের চাহিদা পূরণে ব্যবহৃত হতো।
মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগের উপ-মহাপরিচালক (অভিযান) দাতুক লোকমান এফেন্দি রামলি জানান, রাত ১টা ২০ মিনিটে শুরু হওয়া এ অভিযানে কেদাহ অভিবাসন বিভাগের ৩০ জন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্মকর্তা অংশ নেন। জনসাধারণের অভিযোগের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
আটককৃতদের পরিচয়
তিনি জানান, অভিযানের সময় মোট ৩৩ বিদেশিকে যাচাই-বাছাই করা হয়। এদের মধ্যে চীন, বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের নাগরিকরা ছিলেন। যাচাই শেষে ১০ জন চীনা, পাঁচজন বাংলাদেশি এবং একজন মিয়ানমারের নাগরিকসহ মোট ১৬ জনকে অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের দায়ে আটক করা হয়।
অভিযানের সময় কয়েকজন শ্রমিক পালানোর চেষ্টা করলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় তাদের দ্রুত আটক করা সম্ভব হয়। তিনি আরও জানান, আটককৃতদের সবাই ওই বাসায় স্থায়ীভাবে বসবাস করতেন না; অনেকেই আশপাশের শিল্প এলাকায় কাজ করার সুবাদে অস্থায়ীভাবে সেখানে অবস্থান করছিলেন।
তদন্ত ও পরবর্তী পদক্ষেপ
লোকমান এফেন্দি বলেন, এটি ওই এলাকায় অভিবাসন বিভাগের প্রথম অভিযান হওয়ায় আরও বিস্তারিত তদন্ত কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। আটককৃতদের সিক জেলার বেলান্তিক আটক কেন্দ্রে পাঠানো হবে।
তিনি আরও জানান, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত কেদাহে মোট ২২৭টি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এতে দুই হাজার ৭৫৬ বিদেশিকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয় এবং বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে ৬৫৮ জনকে আটক করা হয়েছে।
নিয়োগকর্তাদের প্রতি সতর্কবার্তা
এদিকে, নিয়োগকর্তাদের প্রতি সতর্কবার্তা দিয়ে তিনি বলেন, বৈধ কাজের অনুমতি ছাড়া বিদেশি শ্রমিক নিয়োগ দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। বিশেষ করে সামাজিক ভিসায় এসে কাজ করা বা নির্ধারিত সময়সীমা অতিক্রম করে অবস্থান করা ব্যক্তিদের কাজে লাগানো আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।
তিনি জানান, দোষী প্রমাণিত হলে নিয়োগকর্তাদের বিরুদ্ধে ১৯৫৯/৬৩ সালের অভিবাসন আইনের ৫৬(১)(ডি) ধারায় কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হতে পারে।



