দুবাইয়ে ড্রোন হামলায় নিহত বাংলাদেশি শাহ আলম ভূইয়ার পরিচয় মিলেছে
দুবাইয়ে ড্রোন হামলায় নিহত বাংলাদেশির পরিচয় মিলেছে

দুবাইয়ে ড্রোন হামলায় বাংলাদেশি নাগরিক নিহত: শাহ আলম ভূইয়ার পরিচয় মিলেছে

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই শহরে একটি ড্রোন হামলার ঘটনায় নিহত বাংলাদেশি নাগরিকের পরিচয় মিলেছে। তিনি হলেন কুমিল্লা জেলার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার সাহেবাবাদ ইউনিয়নের জিরুইন গ্রামের মৃত হানিফ ভূইয়ার ছেলে শাহ আলম ভূইয়া। তার বয়স ছিল ৫০ বছর।

দীর্ঘদিন ধরে দুবাইতে কর্মরত ছিলেন শাহ আলম

নিহত শাহ আলম ভূইয়া প্রায় ১০ বছর আগে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই শহরে পাড়ি জমান। তিনি মাজরা ভিসার অধীনে একটি মালিকানা খামারে কাজ শুরু করেন এবং সেখানেই নিয়মিতভাবে কর্মরত ছিলেন। শাহ আলম ভূইয়ার পরিবারে দুই ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে, যারা এখন এই দুঃসংবাদের মুখোমুখি হয়েছেন।

ড্রোনের ধ্বংসাবশেষে মর্মান্তিক মৃত্যু

ঘটনার বিস্তারিত বিবরণে জানা যায়, দুবাই শহরের ফুজাউরাহ আল-রিফা এলাকার একটি খামারে কাজ করার সময় বুধবার সকালে আকস্মিকভাবে একটি ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ শাহ আলম ভূইয়ার ওপর পড়ে। এই ঘটনায় তিনি ঘটনাস্থলেই মৃত্যুবরণ করেন। তার বোন সংরক্ষিত নারী ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সাবিনা ইয়াসমিন গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পরিবারের আকুতি ও সরকারি প্রতিক্রিয়া

নিহতের বোন সাবিনা আক্তার আরও বলেন, "আমার ভাইয়ের লাশটা যেন ঠিকমতো বুঝে পাই, সেটাই সরকারের কাছে আবেদন করছি। আমার ভাই সেখানে মাজরা ভিসায় কাজ করতেন। খুবই সামান্য বেতন পেতেন। তা দিয়ে পরিবারের ভরণপোষণ চালাতো কোনোরকমে। সহায়সম্বলহীন আমার ভাইয়ের লাশটা যেন সরকার আমাদের কাছে এনে দেয়, আমাদের এটাই চাওয়া।"

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

এদিকে, দুবাইয়ের ফুজাইরাহ সরকারের গণমাধ্যম দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম তাদের আকাশসীমায় সফলভাবে একটি ড্রোন প্রতিহত করেছে। ড্রোনটি ধ্বংস করার পর সেটির ধ্বংসাবশেষ আল-রিফা এলাকার একটি খামারে গিয়ে পড়ে এবং এই ঘটনায় বাংলাদেশের এক নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে।

প্রশাসনের আশ্বাস ও সমবেদনা

ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা জাহান ঘটনাটি জানার পর গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি নিহতের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার কথা বলেছেন। এছাড়াও, মরদেহ দ্রুত দেশে আনার জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রশাসনিক সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

এই ঘটনাটি মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিরাপত্তা সংকটের একটি মর্মান্তিক উদাহরণ হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে, যেখানে বাংলাদেশি প্রবাসী সম্প্রদায়ের সদস্যরা সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।