লিবিয়া থেকে ফিরলেন আরও ১৭৫ বাংলাদেশি, মানবপাচার ও নির্যাতনের শিকারদের প্রত্যাবাসন
লিবিয়া থেকে ফিরলেন ১৭৫ বাংলাদেশি, মানবপাচার ও নির্যাতনের শিকার

লিবিয়া থেকে ফিরলেন আরও ১৭৫ বাংলাদেশি নাগরিক

লিবিয়া থেকে আরও ১৭৫ জন বাংলাদেশি নাগরিককে সফলভাবে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। বুধবার (১ এপ্রিল) সকালে বুরাক এয়ারের একটি বিশেষ ফ্লাইটে তারা বাংলাদেশের মাটিতে পা রাখেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক সরকারি বিবৃতিতে এই প্রত্যাবাসনের বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

ডিটেনশন সেন্টার থেকে মুক্তি পেয়ে দেশে ফেরা

প্রত্যাবাসিত বাংলাদেশিদের মধ্যে ১১৩ জন ছিলেন লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপলীর তাজুরা ডিটেনশন সেন্টারে বন্দি অবস্থায়। বাকি ৬২ জনকে উত্তরের শহর বেনাগাজীর গানফুদা ডিটেনশন সেন্টার থেকে মুক্তি দিয়ে দেশে পাঠানো হয়। এই সম্মিলিত উদ্যোগে মোট ১৭৫ জন বাংলাদেশি তাদের জন্মভূমিতে ফিরতে সক্ষম হন।

আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় প্রত্যাবাসন কার্যক্রম

এই সফল প্রত্যাবাসন কার্যক্রম বাস্তবায়নে লিবিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সমন্বিতভাবে কাজ করে। লিবিয়া সরকার এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) সরাসরি সহযোগিতা এই কার্যক্রমকে ত্বরান্বিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরের কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রচেষ্টা এই মানবিক মিশনকে সফলতার মুখ দেখায়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মানবপাচার ও নির্যাতনের শিকার বাংলাদেশিরা

প্রত্যাবাসিত বাংলাদেশিদের মধ্যে বেশিরভাগই সমুদ্র পথে অবৈধভাবে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে পাড়ি জমানোর উদ্দেশ্যে মানবপাচারকারী চক্রের প্ররোচণায় ও সহযোগিতায় লিবিয়ায় অনুপ্রবেশ করেছিলেন। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, লিবিয়ায় অবস্থানকালে তাদের অনেকে বিভিন্ন সময়ে অপহরণ ও নিষ্ঠুর নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এই সংকটপূর্ণ পরিস্থিতি থেকে তাদের উদ্ধার ও দেশে ফিরিয়ে আনা জরুরি মানবিক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বিমানবন্দরে অভ্যর্থনা ও সহায়তা প্রদান

প্রত্যাবাসিত বাংলাদেশি নাগরিকদের বিমানবন্দরে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার প্রতিনিধিরাও এই অভিবাসন প্রক্রিয়ায় সরাসরি অংশগ্রহণ করেন। সংস্থার পক্ষ থেকে প্রত্যেক প্রত্যাবাসিত ব্যক্তিকে পথখরচা, জরুরি খাদ্যসামগ্রী, প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা এবং প্রয়োজন হলে অস্থায়ী বাসস্থানের ব্যবস্থা করা হয়। এই সামগ্রিক সহায়তা তাদের পুনর্বাসন প্রক্রিয়াকে সহজতর করতে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এই প্রত্যাবাসন কার্যক্রম বাংলাদেশ সরকারের প্রবাসী নাগরিকদের সুরক্ষা ও কল্যাণে অঙ্গীকারবদ্ধতারই প্রতিফলন। ভবিষ্যতেও অনুরূপ সংকটে পড়া বাংলাদেশিদের উদ্ধার ও দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারি ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সমন্বিত প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।