সৌদিতে নির্মাণশ্রমিকের মৃত্যু: লাশ ফেরাতে স্বজনদের হাহাকার
সৌদিতে নির্মাণশ্রমিকের মৃত্যু, লাশ ফেরাতে হাহাকার

সৌদিতে নির্মাণশ্রমিকের মৃত্যু: লাশ ফেরাতে স্বজনদের হাহাকার

ঢাকার দোহার উপজেলার রাধানগর এলাকার বাসিন্দা নির্মাণশ্রমিক আজগর ব্যাপারী (৩৮) সৌদি আরবে দুর্ঘটনায় মারা গেছেন। তাঁর লাশ দেশে ফিরিয়ে আনতে স্বজনরা এখন হাহাকার করছেন। গত সপ্তাহে এক দুর্ঘটনায় ছাদ থেকে পড়ে গুরুতর আহত হন আজগর, এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত সোমবার বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।

বৈধ কাগজপত্র না থাকায় লাশ ফেরানো নিয়ে অনিশ্চয়তা

তিন বছর আগে ধারদেনা করে দালালের মাধ্যমে সৌদি আরবে যান আজগর ব্যাপারী। ভিসা জটিলতার কারণে তিনি এক বছর ধরে অবৈধভাবে ওয়েল্ডিং মিস্ত্রির সহকারী হিসেবে কাজ করছিলেন। বৈধ কাগজপত্র না থাকায় এবং অর্থসংকটের কারণে আজগরের লাশ দেশে ফেরানো নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, লাশ আনতে প্রায় চার লাখ টাকা লাগবে, যা তাদের সামর্থ্যের বাইরে।

পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া

আজগরের মৃত্যুতে তাঁর পরিবারে মাতম নেমে এসেছে। স্বামীকে হারিয়ে তিন সন্তান নিয়ে শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েছেন স্ত্রী শিরিনা বেগম। আজগরের মা মমতাজ বেগমও পাগলের মতো বিলাপ করছেন। প্রতিবেশীরা বলছেন, পরিবারটির কোনো সহায়-সম্বল নেই, এবং ধারদেনা করে বিদেশে গেলেও ঋণের টাকা পরিশোধ না হওয়ায় আজগর বাড়িতে আসতে পারছিলেন না।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

দূতাবাসের সহায়তার আশ্বাস

দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাঈদুল ইসলাম জানিয়েছেন, সৌদি আরবের রিয়াদে বাংলাদেশের দূতাবাস আছে। সেখানে মৃত ব্যক্তির পক্ষ হয়ে যোগাযোগ করলে সরকারি সহায়তায় লাশ দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে। তবে পরিবার এখনও এই প্রক্রিয়া শুরু করতে পারেনি, কারণ তারা আর্থিক সংকটে ভুগছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

স্বজনদের বক্তব্য

আজগরের বড় ভাবি রোকসানা আক্তার বলেন, 'সৌদি আরবে কাজ না থাকায় বাড়িতে টাকাপয়সা দিতে পারেনি। দুবার আকামার জন্য টাকা জমা দিয়েও পায়নি। বিভিন্ন মাধ্যমে শুনতে পাচ্ছি, লাশ আনতে চার লাখ টাকা লাগবে। এ টাকা দেওয়ার মতো সামর্থ্য নেই।' এই পরিস্থিতিতে পরিবারটি এখন লাশ ফিরিয়ে আনার জন্য দিনের পর দিন দুশ্চিন্তায় কাটাচ্ছে।