সিউল সেন্ট্রাল মসজিদে ঈদের নামাজ: প্রবাসী বাংলাদেশির আবেগঘন অভিজ্ঞতা
সিউল মসজিদে ঈদ: প্রবাসী বাংলাদেশির স্মৃতিময় দিন

সিউল সেন্ট্রাল মসজিদে ঈদের নামাজ: প্রবাসী বাংলাদেশির আবেগঘন অভিজ্ঞতা

দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলের যান্ত্রিক ব্যস্ততার মাঝে ঈদের চাঁদ উঠতেই মনটা উড়ে গিয়েছিল বাংলাদেশের সেই চেনা গ্রামের দিকে। যেখানে ঈদের সকাল মানেই ছিল পুকুরে সবাই মিলে আনন্দময় গোসল, দল বেঁধে নামাজে যাওয়া এবং প্রিয়জনদের সঙ্গে সময় কাটানো। সিউলে ঈদের দিন ভোরে ঘুম ভাঙতেই অনুভব করলাম, তাপমাত্রা প্রায় শূন্যের কাছাকাছি নেমে গেছে। তবু ঈদের আমেজ ধরে রাখতে গরম পানিতে গোসল করে দেশ থেকে আনা পাঞ্জাবি পরলাম। আতর মেখে বের হওয়ার প্রস্তুতি নেওয়ার সময় মনে হচ্ছিল, এখনই হয়তো আজম কাকা ডাক দেবে, ‘চল আমার বাইকে, ঈদগায় যাই।’ বাবা বলবে, ‘আমার জায়নামাজটা নিয়ে যা।’ মা হয়তো হাতে তুলে দেবে গরম সেমাই। কিন্তু বাস্তবতা ছিল একেবারেই ভিন্ন।

মসজিদে নামাজ ও ছবি তোলার মুহূর্ত

সিউল সেন্ট্রাল মসজিদে নামাজ শেষে এক পাকিস্তানি ভাইয়ের সাহায্যে কয়েকটি ছবি তুললাম। সেগুলো পাঠিয়ে দিলাম পরিবারের কাছে। সবচেয়ে বেশি মনে পড়েছিল আমার একমাত্র মেয়ে আরিয়াকে। আমাকে ছাড়া এটাই ওর প্রথম ঈদ। নামাজ শেষে কিছুক্ষণ পরিবারের সঙ্গে কথা বলে কাজে চলে গেলাম। বাংলাদেশে আমরা অতিরিক্ত ছয় তাকবিরে ঈদের নামাজ পড়ি। এখানে ছয়ের সঙ্গে ছয় যোগ হয়ে বারো তাকবিরে নামাজ আদায় করা হয়। এই অভিজ্ঞতা আমার কাছে সম্পূর্ণ নতুন ছিল।

বহুজাতিক সাংস্কৃতিক মিলন

ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান, মালয়েশিয়া, উজবেকিস্তান, কাজাখস্তান, সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশের মুসল্লিরা নিজ নিজ ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরে এসেছিলেন। দেখতেই ভালো লাগছিল। একদম অপরিচিত পাকিস্তানি, বাংলাদেশি, ভারতীয়, উজবেক মানুষের সঙ্গে কোলাকুলি করেও মনটা হালকা হয়েছে। প্রবাসজীবনের বাস্তবতা হলো—এখানে ঈদের দিনটাও ব্যস্ততায় ভরা।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

কাজের মাঝে ঈদের আনন্দ

নামাজ শেষে বিকেল পর্যন্ত একটি রেস্তোরাঁয় কাজ করেছি। কাজের ফাঁকে সেমাই খেয়েছি। বিভিন্ন দেশের মুসলিম ও অমুসলিমদেরও খাইয়েছি। রেস্তোরাঁর কাজ শেষে একটি মার্টে মরিচ প্যাকেজিংয়ের কাজও করেছি। অন্য রকম এই ঈদ হয়তো স্মৃতিতে চিরদিন থেকে যাবে। প্রবাসী জীবনের এই অভিজ্ঞতা শুধু ধর্মীয় আচরণ নয়, বরং সাংস্কৃতিক বন্ধন ও মানবিক সম্পর্কেরও প্রতিফলন।