সিলেট-ম্যানচেস্টার ফ্লাইট বন্ধের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা ও ওসমানী বিমানবন্দরের আন্তর্জাতিকীকরণের জোর দাবি
গ্রেটার সিলেট কমিউনিটি ইউকের নিউপোর্ট শাখার উদ্যোগে গত সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) রাতে যুক্তরাজ্যের নিউপোর্ট শহরের তারানা রেস্টুরেন্টে এক সভা ও ডিনার পার্টি সম্পন্ন হয়েছে। এই সভার মূল উদ্দেশ্য ছিল সিলেট থেকে ম্যানচেস্টার ফ্লাইট বন্ধের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা এবং ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার দাবি তুলে ধরা।
সভার আয়োজন ও নেতৃবৃন্দের উপস্থিতি
সংগঠনের নিউপোর্ট শাখার কনভেনর সাবেক ছাত্রনেতা ফয়ছল রহমানের সভাপতিত্বে এবং সংগঠনের সদস্য সচিব এনামুল হোসেন সুয়েব ও কমিউনিটি সংগঠক শাহ শাফি কাদিরের যৌথ পরিচালনায় এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গ্রেটার সিলেট কমিউনিটি ইউকের কেন্দ্রীয় কনভেনর, কমিউনিটি লিডার ও সাংবাদিক মোহাম্মদ মকিস মনসুর। বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রবাসের মুক্তিযোদ্ধের সংগঠক শেখ মোহাম্মদ তাহির উল্লাহ।
সংগঠনের উপদেষ্টা মাসুদ আহমেদ, আসাদ মিয়া, রকিবুর রহমান, সিরাজ খান, আবদুর রুউফ তালুকদার, সৈয়দ কাহের, ফখরুল ইসলাম, জহির আলী, আনহার মিয়া, রুহুল আমিন, সিতাব আলী, রহিম বাবুল, শাহ আবদুল ওয়াহাব জাহাঙ্গীর, শাহজাহান তালুকদার শাওন, ফরিদ আলম সিপার, আবদুর রহমান, বদরুল হক মনসুর, সাইদুল ইসলাম, হুমায়ুন আহমেদ, রবিউল ইসলাম, জুনেদ আহমেদ, সাজেল আহমেদ, আলমগীর হোসেন, রাকিব হাসান, সাহেল আহমেদ সাব্বির সাদেক ও আবুল হোসেনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ বক্তব্য প্রদান করেন। সভার শুরুতেই কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন মাওলানা শাহীন আহমেদ।
প্রবাসীদের হতাশা ও দাবিসমূহ
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোহাম্মদ মকিস মনসুর উল্লেখ করেন যে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা দীর্ঘদিন ধরে ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার দাবি জানিয়ে আসলেও এখনো কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি হয়নি। তিনি এটিকে প্রবাসীদের জন্য অত্যন্ত হতাশাজনক বলে অভিহিত করে সিলেট-ম্যানচেস্টার ফ্লাইট বন্ধের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা এবং বিমানবন্দরের পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিকীকরণের জোর দাবি জানান।
বিশেষ অতিথি শেখ মোহাম্মদ তাহির উল্লাহ বলেন, ১৯৪৪ সালে প্রতিষ্ঠিত ওসমানী বিমানবন্দর ২০০২ সালে আন্তর্জাতিক মর্যাদা পেলেও দুই দশক পেরিয়ে গেলেও এটি এখনো কার্যকর পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে না। এর ফলে সিলেট অঞ্চলের লাখো প্রবাসী প্রতিনিয়ত ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
ফ্লাইট অনিশ্চয়তা ও অর্থনৈতিক প্রভাব
বক্তারা আরও উল্লেখ করেন যে, দীর্ঘ আন্দোলনের পর যুক্তরাজ্য-সিলেট সরাসরি ফ্লাইট চালু হলেও সিলেট-ম্যানচেস্টার রুটে বারবার ফ্লাইট বন্ধ ও চালুর কারণে যাত্রীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এতে প্রবাসীদের আস্থা ক্ষুণ্ন হওয়ার পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় রাজস্ব আয়ের সম্ভাবনাও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
সংগঠনের উপদেষ্টা মাসুদ আহমেদ বলেন, বর্তমানে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে স্বীকৃতি থাকলেও ওসমানীতে মূলত বাংলাদেশ বিমানের সীমিতসংখ্যক ফ্লাইট পরিচালিত হচ্ছে। অথচ চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একাধিক বিদেশি এয়ারলাইন্স নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা করছে। এ অবস্থায় সিলেট অঞ্চলের প্রবাসীরা বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন বলে অন্যান্য বক্তারা মন্তব্য করেন।
টিকিট মূল্য ও যাত্রী হয়রানির অভিযোগ
সভাপতির বক্তব্যে ফয়ছল রহমান বলেন, বাংলাদেশ বিমানের মোট যাত্রীর বড় অংশ সিলেট অঞ্চলের হলেও সিলেট রুটে টিকিটের মূল্য তুলনামূলক বেশি নির্ধারণ করা হয়। একই আন্তর্জাতিক রুটে ঢাকা ও সিলেটগামী যাত্রীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ভাড়ার পার্থক্য রয়েছে, যা অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলক বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এ ছাড়া বিমানবন্দরের চেক-ইন, ইমিগ্রেশন ও কাস্টমস প্রক্রিয়ায় নিয়মিত যাত্রী হয়রানির অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। এর ফলে নতুন প্রজন্মের প্রবাসীরা দেশে আসার আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন, যা দীর্ঘ মেয়াদে দেশের অর্থনীতি ও প্রবাসী সম্পর্কের জন্য ক্ষতিকর বলে সভায় মন্তব্য করা হয়।
অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও লাইসেন্স সংক্রান্ত বাধা
সংগঠনের নেতারা বলেন, ইতিমধ্যে ওসমানী বিমানবন্দরে আধুনিক টার্মিনাল ভবন, আন্তর্জাতিক মানের ফুয়েলিং সিস্টেম, কার্গো হ্যান্ডলিং সুবিধাসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত উন্নয়ন সম্পন্ন হয়েছে। তবে প্রধান বাধা হলো বিদেশি এয়ারলাইন্স পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় ওপেন স্কাই লাইসেন্স এখনো ইস্যু না হওয়া। এই লাইসেন্স প্রদান করা হলে বিদেশি এয়ারলাইন্স পরিচালনায় আর কোনো প্রতিবন্ধকতা থাকবে না বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সভায় অংশগ্রহণকারীরা একমত হন যে, সিলেট-ম্যানচেস্টার ফ্লাইট বন্ধের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা এবং ওসমানী বিমানবন্দরের দ্রুত পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিকীকরণ প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোগান্তি দূর করতে ও দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
