মালয়েশিয়া থেকে ১৮৪ অভিবাসী প্রত্যাবাসন, বাংলাদেশিসহ ৫৯ জন ফেরত
মালয়েশিয়া থেকে ১৮৪ অভিবাসী প্রত্যাবাসন, বাংলাদেশি ৫৯

মালয়েশিয়া থেকে ১৮৪ অভিবাসীর প্রত্যাবাসন: বাংলাদেশিসহ বহু দেশের নাগরিক ফেরত

মালয়েশিয়া ইমিগ্রেশন বিভাগ ফেব্রুয়ারি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে একটি বড় আকারের প্রত্যাবাসন কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে। জোহর বাহরুর পাইনঅ্যাপল টাউন ইমিগ্রেশন ডিপো থেকে মোট ১৮৪ জন বন্দিকে তাদের নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। এই বন্দিরা বিভিন্ন আইনভঙ্গের দায়ে সাজা ভোগ করার পর প্রত্যাবাসিত হয়েছেন।

কোন দেশের কতজন ফেরত পাঠানো হয়েছে?

ফেরত পাঠানো বন্দিদের তালিকায় বাংলাদেশি নাগরিকদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। মোট ১৮৪ জনের মধ্যে:

  • ইন্দোনেশিয়ার ৮২ জন
  • বাংলাদেশের ৫৯ জন
  • ফিলিপাইনের ১৫ জন
  • পাকিস্তানের ১০ জন
  • মিয়ানমারের ৮ জন
  • কম্বোডিয়ার ৪ জন
  • শ্রীলঙ্কার ২ জন
  • সুদান, ভারত, নিউজিল্যান্ড ও ভিয়েতনামের একজন করে নাগরিক

এই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় বন্দিদের কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (কেএলআইএ ১ ও ২), সেনাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং পাসির গুদাং ফেরি টার্মিনাল ব্যবহার করে তাদের দেশে পাঠানো হয়।

প্রত্যাবাসনের আইনি প্রক্রিয়া ও শর্তাবলী

ইমিগ্রেশন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এসব বন্দি নির্যাতন আইন (অ্যাক্ট ৫৭৪), বিপজ্জনক মাদক আইন ১৯৫২ (অ্যাক্ট ২৩৪), ইমিগ্রেশন আইন ১৯৫৯/৬৩ (অ্যাক্ট ১৫৫), ইমিগ্রেশন বিধিমালা ১৯৬৩সহ বিভিন্ন আইনে দণ্ডিত হয়েছেন। সাজা শেষে তাদের প্রত্যাবাসন করা হয়েছে। প্রত্যাবাসিত সকল বন্দির কাছে বৈধ পাসপোর্ট ছিল, এবং যাদের প্রয়োজন হয়েছে, তাদের নিজ নিজ দূতাবাসের মাধ্যমে অস্থায়ী ভ্রমণ নথি বা ইমার্জেন্সি ট্রাভেল ডকুমেন্ট ইস্যু করা হয়েছে।

প্রত্যাবাসিত প্রত্যেক ব্যক্তিকে ইমিগ্রেশন বিভাগের ব্ল্যাকলিস্টে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে তারা কোনো উদ্দেশ্যেই মালয়েশিয়ায় পুনঃপ্রবেশ করতে পারবেন না বলে কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট জানিয়েছে।

প্রত্যাবাসন সংক্রান্ত সুবিধা ও তথ্য

ডিপোর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আটক ব্যক্তিদের প্রত্যাবাসন সংক্রান্ত সব কার্যক্রম—যেমন টিকিট ক্রয়সহ প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া—পাইনঅ্যাপল টাউন ইমিগ্রেশন ডিপোর সার্ভিস কাউন্টারে সম্পন্ন করা যায়। এ ক্ষেত্রে কোনো অতিরিক্ত ‘সার্ভিস চার্জ’ প্রযোজ্য নয়। আরও তথ্যের জন্য ডিআইপিএন রেকর্ডস অ্যান্ড ট্রান্সফার ইউনিটে যোগাযোগ বা অনলাইন অনুসন্ধান পদ্ধতির (এসপিও) মাধ্যমে আবেদন করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

মালয়েশিয়ার আইনশৃঙ্খলা ও ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ

মালয়েশিয়ায় আইনশৃঙ্খলা ও সীমান্ত সুরক্ষা জোরদারে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। এই প্রত্যাবাসন কার্যক্রম দেশটির অভিবাসন নীতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার একটি অংশ হিসেবে দেখা যাচ্ছে, যা ভবিষ্যতেও চলমান থাকতে পারে।