দক্ষিণ আফ্রিকায় নোয়াখালীর প্রবাসী ব্যবসায়ী ও আওয়ামী লীগ নেতা আবু নাসের শামীমকে গুলি করে হত্যা
দক্ষিণ আফ্রিকায় নোয়াখালীর প্রবাসী ব্যবসায়ী আবু নাসের শামীম হত্যা

দক্ষিণ আফ্রিকায় নোয়াখালীর প্রবাসী ব্যবসায়ী ও আওয়ামী লীগ নেতা আবু নাসের শামীমকে গুলি করে হত্যা

দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গের পার্শ্ববর্তী বারা এলাকায় এক নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন নোয়াখালীর প্রবাসী ব্যবসায়ী ও আওয়ামী লীগ নেতা আবু নাসের শামীম (৫০)। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) বিকাল ৫টায় (স্থানীয় সময়) তার নিজ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সামনে মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে পরপর ৬-৭ রাউন্ড গুলি করে তাকে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়, যা প্রবাসী কমিউনিটিতে শোক ও আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছে।

হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত বিবরণ

নিহত শামীম নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরকাঁকড়া ইউনিয়নের বাদামতলী এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। তিনি চার সন্তানের বাবা এবং দক্ষিণ আফ্রিকা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছিলেন। তার বড় ছেলে আবু রাফসান পিয়াসের বর্ণনা অনুযায়ী, শামীম ২০০৭ সালে প্রথম দক্ষিণ আফ্রিকায় পাড়ি জমান এবং চার বছর আগে দেশে এসে পুনরায় সেখানে ফিরে গিয়ে ব্যবসা শুরু করেন। বর্তমানে তার চার-পাঁচটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ছিল, যা এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে সম্ভাব্য ব্যবসায়িক বিরোধের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

পিয়াস অভিযোগ করেন যে, কিছুদিন আগে একটি বড় দোকান বিক্রি নিয়ে তার বাবার সঙ্গে নোয়াখালীর এক ব্যবসায়িক অংশীদারের বিরোধ সৃষ্টি হয়েছিল। সম্প্রতি বিষয়টি নিয়ে তাদের মধ্যে ফের মনোমালিন্য দেখা দেয়, যা নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়িয়ে তোলে। দোকানটি বড় হওয়ায় বড় ক্রেতা পাওয়া যাচ্ছিল না বলে শামীম নিরাপত্তার জন্য দোকানে বুলেটপ্রুফ গ্লাস স্থাপন এবং ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগ দেন। ঘটনার দিন বিকালে তিনি দোকানের সামনে নিরাপত্তাকর্মীর সঙ্গে কথা বলছিলেন, তখন আগে থেকে ওত পেতে থাকা সন্ত্রাসীরা হামলা চালায়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সংশ্লিষ্টদের প্রতিক্রিয়া ও তদন্ত

দক্ষিণ আফ্রিকা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল আউয়াল তানসেন বলেন, 'বিকালে শামীম তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তখন আগে থেকে ওত পেতে থাকা কৃষ্ণাঙ্গ সন্ত্রাসীরা তাকে উপর্যুপরি গুলি করে। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।' এই হত্যাকাণ্ড প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতে গভীর শোক ও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে, অনেকেই নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা উল্লেখ করছেন।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এই ঘটনা তদন্ত করছে, তবে এখনো কোনো গ্রেপ্তার বা দোষী সাব্যস্ত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। হত্যার পেছনে সম্ভাব্য কারণ হিসেবে ব্যবসায়িক বিরোধ, ব্যক্তিগত শত্রুতা বা সন্ত্রাসী কার্যকলাপের সম্ভাবনা উল্লেখ করা হচ্ছে। এই ঘটনা দক্ষিণ আফ্রিকায় বাংলাদেশি প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর দাবি জানাচ্ছে।

নিহত শামীমের পরিবার ও সহকর্মীরা ন্যায়বিচার ও দ্রুত তদন্তের দাবি জানিয়েছেন, যাতে এই ধরনের হিংসাত্মক ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা যায় এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়।