দালালদের খপ্পর থেকে পালিয়ে দেশে ফিরছেন বাংলাদেশি নারী
দালালদের প্রলোভনে পড়ে কম্বোডিয়ায় যান ৩৪ বছর বয়সী এক বাংলাদেশি নারী। তবে সেখানে যাওয়ার পরই তার পাসপোর্ট কেড়ে নেওয়া হয় এবং একটি স্ক্যাম সেন্টারে বন্দি করা হয়। অনেক প্রচেষ্টার পর অবশেষে ওই বন্দিশালা থেকে পালিয়ে যান তিনি। সেখান থেকে যোগাযোগ করেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর সঙ্গে। তার চেষ্টায় দেশে ফিরছে ওই নারী।
বাংলাদেশের ব্যাংকক দূতাবাস সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। সূত্র জানিয়েছে, ট্রাভেল পাসের মাধ্যমে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে ওই নারী দেশে ফিরবেন। সূত্রটি জানিয়েছে, ২০২৫ সালের আগস্টে ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে ওই নারী কম্বোডিয়া যান। কম্পিউটারের কাজ ও উচ্চ বেতন দেওয়ার কথা বলে তাকে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু কম্বোডিয়ায় যাওয়ার পরই তার পাসপোর্ট কেড়ে নিয়ে তাকে একটি স্ক্যাম সেন্টারে বন্দি করা হয়। সেখানে তাকে দিয়ে নানা ধরনের আর্থিক জালিয়াতি, মোবাইল ও ইন্টারনেটের মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার মতো কাজ করানো হয়। সেখান থেকে একাধিকবার চেষ্টা করেও তিনি পালাতে ব্যর্থ হন।
অবশেষে ২০২৬ সালের ২০ মে দালালদের চোখ ফাঁকি দিয়ে স্ক্যাম সেন্টার থেকে পালাতে সক্ষম হন ওই নারী। অজানা জায়গায় আশ্রয় নিয়ে মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর সঙ্গে সরাসরি হোয়াটসঅ্যাপ কলে যোগাযোগ করে দেশে ফিরতে সহযোগিতা চান। পরে মন্ত্রী বাংলাদেশের ব্যাংকক দূতাবাসে নিয়োজিত শ্রম কাউন্সিলরের সঙ্গে যোগাযোগ করে ওই নারীকে সহযোগিতার নির্দেশ দেন।
দূতাবাস থেকে ওই নারীর সঙ্গে ভিডিও কলে যোগাযোগ করে তার অবস্থান নিশ্চিত হন কর্মকর্তারা। পরবর্তীতে কম্বোডিয়ার বাংলাদেশি কমিউনিটির সহায়তায় নমপেন শহর থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। বর্তমানে কম্বোডিয়া সরকারের সহযোগিতায় ট্রাভেল পাস ইস্যুর মাধ্যমে ওই নারীকে বাংলাদেশ ফেরত আনার প্রক্রিয়া চলছে।
এদিকে, গতকাল বুধবার ইরাক প্রবাসীদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী ইরাকে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসকে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। তদন্তে গিয়ে দূতাবাসের কর্মকর্তারা কোম্পানির কাছে সাত প্রবাসী বাংলাদেশির পাসপোর্ট জব্দ থাকার প্রমাণ পান। দূতাবাসের কর্মকর্তাদের প্রচেষ্টায় আজ (বৃহস্পতিবার) সাত প্রবাসী তাদের পাসপোর্ট ফিরে পান।
অন্যদিকে, শারীরিকভাবে নির্যাতনের অভিযোগ করে অপর ইরাক প্রবাসী দুই বাংলাদেশির পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে ইরাক দূতাবাসকে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্দেশ দেন প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী। অভিযোগে বলা হয়, রিজু মিয়া ও আইলান মিয়া নামক দুই বাংলাদেশী রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে ইরাকে গিয়ে দালালের খপ্পরে পড়েন। দালালরা তাদের আটকে রেখে শারীরিক নির্যাতন করছে এবং তাদের ঠিক মতো খাবার সরবরাহ করছে না। অভিযোগের তদন্তে গিয়ে দূতাবাসের কর্মকর্তারা বাগদাদের আরাসাত নামক আবাসিক এলাকায় দুই বাংলাদেশিকে খুঁজে পান। তবে তাদেরকে শারীরিক নির্যাতন করা বা অভুক্ত রাখার কোনও প্রমাণ কর্মকর্তারা পাননি। দু’জনকে দূতাবাসের সহায়তায় রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে আগামী ৭ মে ইরাক থেকে বাংলাদেশের উদ্দেশে ফেরত পাঠানো হয়।



