পাকিস্তানে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধিতে উত্তাল পরিস্থিতি
ইরান যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি তেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় পাকিস্তানে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে দেশটির কর্তৃপক্ষ রাজধানী ও সবচেয়ে জনবহুল প্রদেশে আগামী এক মাস সরকারি গণপরিবহনে বিনা মূল্যে যাতায়াতের ঘোষণা দিয়েছে। গত শুক্রবার এই ঘোষণা দেওয়া হয়, যা বিক্ষোভকারীদের চাপের মুখে একটি তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
পেট্রলের দাম বৃদ্ধি ও বিক্ষোভের সূচনা
এর আগে, পাকিস্তান সরকার পেট্রলের দাম একলাফে ৪২ দশমিক ৭ শতাংশ বাড়িয়ে প্রতি লিটার ৪৮৫ রুপি (প্রায় ১ দশমিক ৭৪ ডলার) করার সিদ্ধান্ত নেয়। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে দেশজুড়ে রাস্তায় বিক্ষোভ শুরু হয় এবং পেট্রলপাম্পগুলোয় যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। সাধারণ জনগণের মধ্যে অসন্তোষ ও আর্থিক চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
প্রধানমন্ত্রীর পদক্ষেপ ও দাম কমানোর ঘোষণা
বিক্ষোভের মুখে গত শুক্রবার রাতে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ তাঁর সিদ্ধান্ত থেকে কিছুটা সরে আসেন। তিনি টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে জানান, তেলের ওপর শুল্ক কমিয়ে প্রতি লিটার পেট্রলের দাম ৩৭৮ রুপি নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী দৃঢ়ভাবে বলেন, 'কমপক্ষে এক মাস এ দাম কার্যকর থাকবে।' দেশবাসীর উদ্দেশে তিনি আরও প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, 'কথা দিচ্ছি, আপনাদের জীবন স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত আমি শান্ত হয়ে বসব না।'
ডিজেলের দামে পরিবর্তন নেই
যদিও পেট্রলের দাম কমানো হয়েছে, তবে ডিজেলের দামে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। ডিজেলের দাম ৫৪ দশমিক ৯ শতাংশ বাড়ার পর প্রতি লিটার ৫২০ রুপি (প্রায় ৫ দশমিক ৬০ ডলার) বিক্রি হবে বলে ঘোষণা করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তটি বিক্ষোভকারীদের মধ্যে কিছুটা হতাশা সৃষ্টি করেছে, কারণ ডিজেলও দৈনন্দিন জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
সরকারি গণপরিবহনে বিনামূল্যে যাতায়াত
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সরকার রাজধানী ও প্রধান প্রদেশে আগামী এক মাস সরকারি গণপরিবহনে বিনা মূল্যে যাতায়াতের ব্যবস্থা চালু করেছে। এই পদক্ষেপটি সাধারণ মানুষের আর্থিক চাপ কিছুটা লাঘব করতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে, দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি তেলের দাম স্থিতিশীল রাখার জন্য আরও নীতিগত সমাধানের প্রয়োজন রয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিচ্ছেন।



