পাকিস্তানে শক্তিশালী ভূমিকম্প, আফগানিস্তানের হিন্দুকুশে কেন্দ্রস্থল
পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া (কেপি) ও পাঞ্জাব প্রদেশের বিভিন্ন এলাকায় একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। দেশটির আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, রিখটার স্কেলে এই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৯। স্থানীয় সময় শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টা ৯ মিনিটে আঘাত হানা এই কম্পনটি বেশ কয়েকটি অঞ্চলে মানুষকে আতঙ্কিত করে তোলে।
ভূমিকম্পের বিস্তারিত তথ্য
পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম দ্য ডন-এর প্রতিবেদন অনুসারে, ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থল ছিল আফগানিস্তানের হিন্দুকুশ অঞ্চলে। এর গভীরতা ছিল প্রায় ১০১ কিলোমিটার, যা এটি একটি গভীর ভূমিকম্প হিসেবে চিহ্নিত করে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে যে, শাংলা, সোয়াত, মারদান, সোয়াবি এবং নওশেরার মতো এলাকায় কম্পন স্পষ্টভাবে অনুভূত হয়েছে।
ভূমিকম্পের সময় অনেক মানুষ ইফতার প্রস্তুতিতে ব্যস্ত ছিলেন, যা রমজান মাসের ঐতিহ্যবাহী সময়। হঠাৎ আঘাত হানা এই কম্পনে আতঙ্কিত হয়ে অনেকে তাদের ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন এবং নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেন। তবে, প্রাথমিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, কোনো হতাহত বা উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। কর্তৃপক্ষ দ্রুত তদন্ত ও মূল্যায়ন কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
গত ফেব্রুয়ারির অন্যান্য ভূমিকম্প
এই ঘটনার আগে, গত ১৩ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে একটি মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানায়, সেই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৫ এবং এর উৎপত্তিস্থল ছিল বেলুচিস্তান প্রদেশে, খুজদার শহর থেকে প্রায় ৭৯ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে। এই অঞ্চলটি ভূমিকম্পপ্রবণ হিসেবে পরিচিত, এবং নিয়মিতভাবে ছোট থেকে মাঝারি মাত্রার কম্পন অনুভূত হয়।
পাকিস্তান ও এর প্রতিবেশী দেশগুলো ভূমিকম্পের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল এলাকায় অবস্থিত, বিশেষ করে হিন্দুকুশ ও হিমালয়ান অঞ্চলে টেকটনিক প্লেটের চলাচলের কারণে। বিজ্ঞানীরা এই ধরনের ঘটনাগুলো পর্যবেক্ষণ করে ভবিষ্যতের সম্ভাব্য ঝুঁকি কমাতে গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন।
