৫০ বছর পর চন্দ্রাভিযান শেষে নাটকীয়ভাবে পৃথিবীতে ফিরলেন আর্টেমিস-২ নভোচারীরা
চন্দ্রাভিযান শেষে নাটকীয়ভাবে ফিরলেন আর্টেমিস-২ নভোচারীরা

৫০ বছর পর চন্দ্রাভিযান শেষে নাটকীয়ভাবে পৃথিবীতে ফিরলেন আর্টেমিস-২ নভোচারীরা

দীর্ঘ ৫০ বছরেরও বেশি সময় পর মানবজাতির প্রথম চন্দ্রাভিযান শেষ করে নাটকীয়ভাবে পৃথিবীতে ফিরেছেন আর্টেমিস-২ মিশনের চার নভোচারী। শুক্রবার প্রশান্ত মহাসাগরে তাদের বহনকারী ক্যাপসুলটি অবতরণ করে। নাটকীয় এই অবতরণের মধ্য দিয়ে ইতিহাস গড়েছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এপি ও সিএনএন এ খবর জানিয়েছে।

ক্যাপসুল অবতরণ ও নভোচারীদের অবস্থা

কমান্ডার রিড ওয়াইজম্যান, পাইলট ভিক্টর গ্লোভার, ক্রিস্টিনা কচ এবং কানাডার জেরেমি হ্যানসেনকে বহনকারী ওরিয়ন ক্যাপসুল ‘ইন্টিগ্রিটি’ স্বয়ংক্রিয় পাইলটের মাধ্যমে পৃথিবীতে ফিরে আসে। বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের সময় এর গতি ছিল শব্দের চেয়ে ৩৩ গুণ বেশি (ম্যাক ৩৩), যা ছিল ষাট ও সত্তরের দশকের অ্যাপোলো মিশনের পর এক বিরল দৃশ্য।

সমুদ্রে অবতরণের পর আর্টেমিস-২-এর কমান্ডার রিড ওয়াইজম্যান ওরিয়ন বলেন, "কী অসাধারণ এক যাত্রা ছিল। আমরা স্থিতিশীল আছি।" চার নভোচারীই সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন। নাসা জানিয়েছে, এই অভিযানের জন্য ১০ দিনের সময়সীমা নির্ধারিত থাকলেও ৯ দিন ১ ঘণ্টা ৩২ মিনিট ১৫ সেকেন্ডেই সফলভাবে মিশনটি শেষ হয়েছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

নভোচারীদের উদ্ধার প্রক্রিয়া

সমুদ্রে অবতরণের পর নভোচারীদের উদ্ধারে বিশেষ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়:

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
  • প্রথমে ওরিয়ন ক্যাপসুল থেকে নভোচারীদের একটি নৌযানে নেওয়া হয়, যাকে বলা হয় ‘ফ্রন্ট পোর্চ’।
  • সেখান থেকে হেলিকপ্টারে করে তাদের মার্কিন নৌবাহিনীর উদ্ধারকারী জাহাজ ‘ইউএসএস জন পি মুরথা’তে নেওয়া হয়।

উদ্ধারকারী জাহাজটিতে অত্যাধুনিক হেলিকপ্টার প্যাড এবং উন্নত চিকিৎসা সরঞ্জাম রয়েছে। জাহাজের মেডিক্যাল বে-তে চিকিৎসকেরা নভোচারীদের নাড়ির গতি, রক্তচাপ, মস্তিষ্ক ও স্নায়ুর কার্যকারিতা নিবিড়ভাবে পরীক্ষা করবেন। প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাদের হিউস্টনের জনসন স্পেস সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হবে।

মহাকাশে রেকর্ডের ছড়াছড়ি

গত ১ এপ্রিল ফ্লোরিডা থেকে উৎক্ষেপণের পর প্রায় ১০ দিনের এই মিশনে একের পর এক রেকর্ড ভেঙেছেন নভোচারীরা। তারা পৃথিবী থেকে ২ লাখ ৫২ হাজার ৭৫৬ মাইল (৪ লাখ ৬ হাজার ৭৭১ কিলোমিটার) দূরে পাড়ি দিয়ে অ্যাপোলো-১৩-এর রেকর্ড ভেঙে দেন। এটিই এখন পর্যন্ত পৃথিবী থেকে মানুষের সবচেয়ে দূরবর্তী যাত্রার রেকর্ড।

চাঁদে অবতরণ বা প্রদক্ষিণ না করলেও নভোচারীরা চাঁদের সেই দূরবর্তী অংশের ছবি তুলেছেন যা আগে কখনো মানুষের চোখে পড়েনি। এছাড়া মহাকাশ থেকে তারা একটি পূর্ণ সূর্যগ্রহণও উপভোগ করেন।

পরবর্তী গন্তব্য: ২০২৮-এ চাঁদে অবতরণ

আর্টেমিস-২ ছিল মূলত ভবিষ্যতের চন্দ্রাভিযানের একটি পরীক্ষামূলক ফ্লাইট। নাসা জানিয়েছে, আগামী বছর ‘আর্টেমিস-৩’ মিশনে নভোচারীরা পৃথিবীর কক্ষপথে লুনার ল্যান্ডারের সঙ্গে ডকিং বা সংযোগ স্থাপনের মহড়া দেবেন। আর সবকিছু ঠিক থাকলে ২০২৮ সালে ‘আর্টেমিস-৪’ মিশনের মাধ্যমে চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে প্রথমবারের মতো মানুষ নামানোর চেষ্টা করা হবে।

এই সফল মিশনটি মহাকাশ অভিযানের ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে, যা মানবজাতির চন্দ্রাভিযানের ভবিষ্যৎকে আরও উজ্জ্বল করে তুলছে।